নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ডাকাত দলের সঙ্গে পুলিশের এক রোমাঞ্চকর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, গভীর রাতে আড়াইহাজার-বিশনন্দী সড়কের জালাকান্দি এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ডাকাতির উদ্দেশ্যে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির খবর পেয়ে টহলরত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডাকাতেরা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষার্থে পুলিশ শর্টগান থেকে ৪ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। পুলিশের গুলিবর্ষণের মুখে টিকতে না পেরে ডাকাত দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতের শেষ প্রহরে জালাকান্দি এলাকায় একদল সংঘবদ্ধ ডাকাত সক্রিয় ছিল। তারা আড়াইহাজার-বিশনন্দী সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গাছ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি করে পথচারী ও যানবাহনকে জিম্মি করে ডাকাতি করার পরিকল্পনা করছিল। স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়ে গোপালদী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মুখলেসুর রহমানের নেতৃত্বে টহলরত সাব-ইন্সপেক্টর হুমায়ুন ও তিনজন কনস্টেবল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতেরা তাৎক্ষণিকভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
সংঘর্ষের প্রাথমিক পর্যায়ে ডাকাতদের অতর্কিত আক্রমণে পুলিশ সদস্যরা কিছুটা প্রতিরোধের মুখে পড়েন। তবে নিজেদের এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। গোপালদী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মুখলেসুর রহমান ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে জানান যে, ডাকাতেরা যখন পুলিশকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছিল, তখন পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে, নিজেদের রক্ষায় এবং ডাকাতদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ শর্টগান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়, যা ডাকাতদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। গুলির শব্দে এবং পুলিশের দৃঢ় অবস্থানে ডাকাতেরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। অন্ধকার ও আশেপাশের ঝোপঝাড়ের সুযোগ নিয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। যদিও এই ঘটনায় কোনো ডাকাতকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া একটি বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের গুলিবর্ষণে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাবজেল হোসেন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ জালাকান্দি ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। ডাকাত দলের সদস্যদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ওসি আরও উল্লেখ করেন যে, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।
এই ঘটনা আড়াইহাজার এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। একদিকে পুলিশি তৎপরতায় ডাকাতি প্রতিরোধ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে, অন্যদিকে ডাকাতদের এই ধরনের দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাতের বেলায় এই সড়কে ডাকাতির ঘটনা নতুন নয় এবং তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তারা পুলিশের কাছে রাতের বেলায় আরও নিবিড় টহল এবং ডাকাতদের স্থায়ীভাবে নির্মূল করার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। আড়াইহাজার উপজেলায় অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বদা সচেষ্ট। ওসি মো. সাবজেল হোসেন জোর দিয়ে বলেন, ডাকাত দলের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য থাকলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করার জন্য, যাতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
এই ঘটনার পর থেকে আড়াইহাজার-বিশনন্দী সড়কে পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় নিয়মিত টহল ও চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, যাতে কোনো অপরাধী চক্র পুনরায় সক্রিয় হতে না পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশা করছে, দ্রুতই এই ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে এবং এলাকায় স্বস্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকবে।