চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ এক সমন্বিত ও ব্যাপক বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৮৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। এই অভিযানে মাদকবিরোধী কার্যক্রমে ১০০ জন এবং বিভিন্ন ফৌজদারি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে ৩৮৭ জনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত পরিচালিত এই সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও উদ্ধার করা হয়েছে, যা চট্টগ্রাম অঞ্চলে অপরাধ দমনে পুলিশের শক্তিশালী অবস্থানের জানান দেয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ১০০ জনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ। তাদের মধ্যে ২৮ জন চিহ্নিত মাদক কারবারি, ২ জন মাদক বহনকারী এবং ৯৮ জন মাদকসেবী রয়েছেন। এই গ্রেফতারকৃতদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক নিয়মিত মামলাসহ অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগও রয়েছে, যা তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের গভীরতা নির্দেশ করে।
মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। পুলিশ ৪৫ হাজার ১২৬ পিস ইয়াবা, ৪১ লিটার চোলাইমদ, ২৭ কেজি ৯০৩ গ্রাম গাঁজা, ১২০ বোতল বিদেশি মদ এবং ১০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট জব্দ করেছে। এই বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার প্রমাণ করে যে, অবৈধ মাদক ব্যবসা দমনে পুলিশ কতটা সক্রিয় এবং কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে, ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে ৮১ জন মাদক অপরাধীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছে। এছাড়াও, এই কার্যক্রমে ৯ হাজার ৪০০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে এবং ২৭টি পৃথক মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো মাদক অপরাধ দমনে আইনি প্রক্রিয়ার দ্রুততা ও কার্যকারিতা তুলে ধরে।
মাদকবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি, পুলিশ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে ৩৮৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ১০৮ জন, পূর্বের মামলায় ৪৭ জন, পুলিশ অ্যাক্টের ৩৪ ধারায় ২৯ জন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ২ জন, ১৫১ ধারাসহ অন্যান্য ধারায় ৬০ জন, পরোয়ানামূলে ১২২ জন এবং সাজা পরোয়ানামূলে ১৯ জন রয়েছেন। এই পরিসংখ্যান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বহুমুখী প্রচেষ্টার চিত্র তুলে ধরে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী এই বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, “জনস্বার্থে মাদকবিরোধী এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।” তার এই বক্তব্য অপরাধ দমনে এবং বিশেষ করে মাদক নির্মূলে পুলিশের অবিচল অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটায়। তিনি আরও জানান, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।
এই ব্যাপক অভিযান চট্টগ্রাম অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশের এই নিরন্তর প্রচেষ্টা সমাজের সর্বস্তরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করবে না, বরং সাধারণ মানুষের মনেও নিরাপত্তা ও আস্থার অনুভূতি বৃদ্ধি করবে।
সামগ্রিকভাবে, চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের এই সফল অভিযানটি স্থানীয় অপরাধ দমনে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু বিপুল সংখ্যক অপরাধী গ্রেফতারই হয়নি, বরং সমাজের জন্য ক্ষতিকর বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যও বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রেখে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ বদ্ধপরিকর বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।