রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
ক্রিকেট 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নাহিদ রানাকে অপরিহার্য মানছেন নির্বাচকরা; তাসকিনকে বিশ্রাম

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নির্বাচকরা আসন্ন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে পেসার নাহিদ রানাকে পুরোপুরি ফিট অবস্থায় চান। চোটের কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে না থাকলেও, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেই তার ফেরা দেখতে আগ্রহী তারা। এদিকে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের কথা মাথায় রেখে আরেক পেসার তাসকিন আহমেদকে আফগানিস্তান টেস্ট থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন:
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নাহিদ রানাকে অপরিহার্য মানছেন নির্বাচকরা; তাসকিনকে বিশ্রাম

বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গন বর্তমানে এক ব্যস্ত সময় পার করছে। এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দল ঘোষণা নিয়ে মিরপুরে চলছে জোর তৎপরতা। এরই মধ্যে আফগানিস্তান টেস্টের জন্য দল ঘোষণা করা হয়েছে, তবে সেখানে নেই তরুণ পেসার নাহিদ রানা, যিনি গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে চোট পাওয়ার পর থেকে মাঠের বাইরে রয়েছেন। তার অনুপস্থিতি এবং ভবিষ্যতের জন্য নির্বাচকদের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার নিশ্চিত করেছেন যে, নাহিদ রানা আগামী ১০ অক্টোবরের আগে খেলার মতো ফিট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এই কারণে তাকে ৯ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হতে যাওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দলে রাখা হয়নি। একই কারণে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজেও তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচকরা। নাহিদ রানার দ্রুত প্রত্যাবর্তন জাতীয় দলের ফাস্ট বোলিং বিভাগের জন্য অত্যন্ত জরুরি, বিশেষত যখন বাংলাদেশ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে টিকে আছে।

আসন্ন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশের আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি, নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দুটি এবং আগামী ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে টাইগাররা। এই ম্যাচগুলো বাংলাদেশের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের স্বপ্ন পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আর এই সকল ম্যাচেই নির্বাচকরা নাহিদ রানাকে দলের অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখতে চাইছেন। তার গতি ও সুইং টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার জোর দিয়ে বলেছেন, “ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে আমরা নাহিদ রানাকে খুব করে চাচ্ছি। আশা করি, তিনি এই সময়ের মধ্যে পুরোপুরি ফিট হয়ে যাবেন।” নাহিদ রানার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্য সেরা পথ নিয়েও নির্বাচকরা আলোচনা করছেন। দুটি বিকল্প তাদের সামনে খোলা রয়েছে: একটি হলো আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে কয়েকটি ম্যাচ খেলে টেস্টের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া, অথবা ৩ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় ক্রিকেট লিগে (প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট) অংশগ্রহণ করে টেস্ট ম্যাচের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। নির্বাচকরা আশা করছেন, জাতীয় লিগ তাকে ম্যাচ ফিটনেস ও টেস্ট মেজাজ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

নাহিদ রানার পাশাপাশি আরেক গুরুত্বপূর্ণ পেসার তাসকিন আহমেদকেও আফগানিস্তান টেস্টে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচক জানিয়েছেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচগুলোকেই তারা বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে তাসকিনকে পুরোপুরি ফিট অবস্থায় পাওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি আফগানিস্তান টেস্টে থাকছেন না, তবে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে তার খেলার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাকে ম্যাচ ফিটনেস ধরে রাখতে সাহায্য করবে। নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদী ফিটনেস এবং গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোর জন্য কৌশলগত প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়।

আফগানিস্তান টেস্টের দল থেকে বাদ পড়েছেন অস্ট্রেলিয়া সিরিজে থাকা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অমিত হাসানও। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি টেস্টে খেলার সুযোগ না পেলেও, নির্বাচকদের ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় অমিত হাসান আছেন। তার জায়গায় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জাকের আলীকে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে জাকের আলীর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বেশ আশাব্যঞ্জক। গত জুনে জিম্বাবুয়ে ইমার্জিং দলের বিপক্ষে দুটি ম্যাচেই তিনি অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন এবং গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষেও ৯৪ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন, যা তার ফর্মের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে।

জাকের আলীর অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে হাবিবুল বাশার বলেন, “আমরা অমিত হাসানকে উইকেটকিপার হিসেবে নিয়েছিলাম, যাকে আমরা অবশ্যই ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাবনাময় হিসেবে চিন্তা করছি। কিন্তু এই মুহূর্তে আমরা জাকের আলীকে আবার ফিরিয়ে এনেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “জাকের আলী আমাদের আগের পছন্দ ছিলেন, মাঝে ফর্মের কারণে বাদ পড়ে গিয়েছিলেন। এরপর তার কাছ থেকে যেটা আমরা আশা করেছিলাম, তিনি সেই আশাটা খুব ভালোভাবে পূরণ করেছেন।” নির্বাচকদের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের জন্য সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বর্তমান ফর্মে থাকা খেলোয়াড়দের গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ