আসন্ন এশিয়ান গেমসের ২০তম আসরে পুরুষ ক্রিকেট ইভেন্টে অংশ নেওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুত করতে মিরপুরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। আগামী ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর দিনের আলোয় অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচগুলো দলের চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ এবং খেলোয়াড়দের ম্যাচ কন্ডিশনে অভ্যস্ত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। জাপান যাত্রার পূর্বে এই ম্যাচগুলোকে এক বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছে টিম ম্যানেজমেন্ট, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং দুর্বলতা চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে।
এই প্রস্তুতি ম্যাচ দুটির প্রতিপক্ষ এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ম্যাচগুলো জাতীয় দলের নিজেদের মধ্যে হতে পারে, অথবা হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের বিপক্ষেও আয়োজিত হতে পারে। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, এই ম্যাচগুলো খেলোয়াড়দের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দেবে নিজেদের পারফরম্যান্স যাচাই করার এবং মূল প্রতিযোগিতার আগে দলগত বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী করার। বিশেষ করে, টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে খেলার আগে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার এটিই হবে শেষ সুযোগ।
এশিয়ান গেমসের জন্য বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি অবশ্য ইতোমধ্যেই পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গত রবিবার থেকে অনুশীলন ক্যাম্পে নেমেছেন ক্রিকেটাররা। লিটন দাসের নেতৃত্বে এই ক্যাম্প আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে, যেখানে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও কৌশলগত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দলগত সমন্বয় সাধনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ২৫ সেপ্টেম্বর জাপানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার কথা রয়েছে দলের, তাই এই কয়েকটা দিন প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগানো হচ্ছে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির জন্য।
শুরুতেই অবশ্য পুরো স্কোয়াডকে একসঙ্গে পাওয়া যায়নি। নাজমুল হোসেন শান্ত, মোস্তাফিজুর রহমানের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা ক্যাম্পে যোগ দিলেও, বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এখনও অনুপস্থিত। শরিফুল ইসলাম ১৫ সেপ্টেম্বর দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডে কেন্টের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলছিলেন হাসান মাহমুদ, তিনিও এখনো দেশে ফিরে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারেননি। তাদের অনুপস্থিতি সাময়িক হলেও, দ্রুত দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়াও, দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে সিরিজ খেলতে যাওয়া ক্রিকেটাররাও প্রথম দিনের অনুশীলনে উপস্থিত ছিলেন না। সেখানে তারা দুটি চার দিনের ম্যাচের পাশাপাশি তিনটি আনঅফিশিয়াল ওয়ানডে সিরিজ খেলেছেন। সিরিজ শেষ করে আজই তাদের দেশের পথে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে, তারা ক্যাম্পে যোগ দিলে দলের শক্তি ও গভীরতা আরও বাড়বে, যদিও তাদের পক্ষে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি ক্যাম্পে অংশ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর জাপানের আইচি ও নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে এই মহাদেশীয় ক্রীড়া উৎসব চলবে আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। পুরুষদের ক্রিকেটের লড়াই শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর, যেখানে এশিয়ার সেরা ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো স্বর্ণপদকের জন্য লড়বে। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট, যেখানে তারা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে বদ্ধপরিকর।
র্যাঙ্কিংয়ের সুবাদে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে তাদের গ্রুপ পর্বে খেলতে হবে না, যা কিছুটা চাপ কমাবে। ২৯ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে ‘বি’ গ্রুপের সেরা দল। এই গ্রুপে রয়েছে হংকং, মালয়েশিয়া ও ওমান। এই দলগুলোর যেকোনো একটির বিরুদ্ধে খেলার আগে মিরপুরের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো বাংলাদেশের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তাই মূল প্রতিযোগিতা শুরুর আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য মিরপুরের এই দুটি ম্যাচকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। দলের প্রতিটি সদস্য এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরতে চাইছেন। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর জাপানের পথে রওনা হবে দলটি, যেখানে তাদের লক্ষ্য থাকবে দেশের জন্য স্বর্ণপদক জয় করে আনা। এই প্রস্তুতি ম্যাচগুলো শুধু খেলার জন্য নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ও জয়ের মানসিকতা তৈরির ক্ষেত্রেও অপরিহার্য।