সোমবার, 14 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
ক্রিকেট 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

জিডি ট্রফিতে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের দাপুটে জয়, অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে হারিয়ে ফাইনালে এক পা

জিডি ট্রফির প্রথম দেখায় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কাছে হারের প্রতিশোধ নিল অনূর্ধ্ব-২৩ দল। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৯ উইকেটের বিশাল জয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখলো তারা। ম্যাচসেরা হয়েছেন আজিজুল হাকিম তামিম।

শেয়ার করুন:
জিডি ট্রফিতে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের দাপুটে জয়, অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে হারিয়ে ফাইনালে এক পা

ক্রিকেট মাঠে প্রতিশোধের এক দারুণ গল্প লিখলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। জিডি ট্রফির প্রথম দেখায় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর দ্বিতীয়বারের মুখোমুখি সাক্ষাতে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে বড় ভাইরা। এই বিশাল জয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনালে এক পা দিয়ে রাখলো অনূর্ধ্ব-২৩ দল, যা তাদের আত্মবিশ্বাসের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে। গত শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে অনূর্ধ্ব-২৩ দল ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে পরাজিত করে।

ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। তারা নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগেই ১৮৯ রানে অলআউট হয়ে যায়। জবাবে, অনূর্ধ্ব-২৩ দল মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়, হাতে রেখেছিল ১১১ বল। এই ম্যাচে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সুবাদে ৭৬ রান করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন ওপেনার আজিজুল হাকিম তামিম। তার দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ইনিংস দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

১৮৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ব্যাট হাতে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার আদিল বিন সিদ্দিক এবং আজিজুল হাকিম তামিম। তাদের সাবলীল ব্যাটিংয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বোলাররা শুরু থেকেই দিশেহারা হয়ে পড়ে। প্রথম উইকেটে এই জুটি ১৩০ রানের বিশাল পার্টনারশিপ গড়ে তোলে, যা জয়ের ভিত তৈরি করে দেয়। আদিল বিন সিদ্দিক ৭৪ বলে ৬৩ রানের এক ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন, যেখানে তার ব্যাট থেকে আসে বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন শট।

আদিলের বিদায়ের পর উইকেটে আসেন কালাম সিদ্দিকী অলিন। তিনি আজিজুল হাকিম তামিমের সঙ্গে মিলে বাকি কাজটুকু সারেন। তামিম ৭৯ বলে ৭৪ রান করে অপরাজিত থাকেন, তার ইনিংসে ছিল প্রয়োজনীয় আগ্রাসন ও বিচক্ষণতা। অন্যদিকে, অলিন ৪০ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন, যা দলের জয়কে দ্রুত নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। এই জুটির দৃঢ়তায় অনূর্ধ্ব-২৩ দল কোনো রকম চাপ ছাড়াই সহজ জয় তুলে নেয়।

এর আগে, টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের শুরুটা মন্দ ছিল না। জারিফ সিয়াম এবং কাওসার আহমেদের উদ্বোধনী জুটি স্কোরবোর্ডে ৬৫ রান যোগ করে। তবে ১৭তম ওভারে স্বাধীনের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে কাওসার ফিরলে এই পার্টনারশিপ ভেঙে যায়। এরপর আহসান আল মুমিনকে সঙ্গে নিয়ে ৩৩ রানের আরেকটি জুটি গড়েন জারিফ। প্রথম ম্যাচে ৯৯ রান করার পর এই ম্যাচেও হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে জারিফ তার ধারাবাহিক ফর্মের প্রমাণ দেন। ৭১ বলে ৫৬ রান করে তিনি আউট হন, তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও একটি ছয়ের মার।

জারিফের বিদায়ের পর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। রাকিবুল হাসান, ফরিদ হাসান ফয়সাল এবং রাকিব খান দ্রুত সাজঘরে ফেরেন, যার ফলে মাত্র ১২৭ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। উইকেটে সেট হওয়া মুমিনের দিকেই তখন তাকিয়ে ছিল অনূর্ধ্ব-১৯ দল। কিন্তু মুমিনও দলকে বিপদে রেখে ফিরে যান। ৪৫ বলে ৩৫ রানের তার ইনিংসে একটি ছয়ের মার ছিল, তবে তিনি দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যেতে পারেননি।

শেষদিকে শাকিল খান এবং মেহেরাব হাসান সিজানের ব্যাট থেকে আসা কিছু গুরুত্বপূর্ণ রান দলের সংগ্রহকে দুইশর কাছাকাছি নিয়ে যায়। শাকিল ১৫ রান করেন, আর মেহেরাব হাসান সিজান ৩৬ বলে দুটি করে চার ও ছয়ের সাহায্যে অপরাজিত ৩৩ রান করেন। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে পেসার মহিউদ্দিন তারেক ৩৬ রান খরচায় ২ উইকেট শিকার করে প্রতিপক্ষকে বড় স্কোর গড়তে দেননি, যা তাদের জয়ের পথ সুগম করে। এই জয়ের ফলে জিডি ট্রফির ফাইনালে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের অংশগ্রহণ প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেল।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ