শনিবার, 19 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
ক্রিকেট 🇧🇩 বাংলা

সিপিএল: হেটমায়ারের সেঞ্চুরি বৃথা, ফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ মিরাজের গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে জ্যামাইকা কিংসম্যানের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। শিমরন হেটমায়ারের দারুণ সেঞ্চুরি সত্ত্বেও ২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ফাইনালে উঠেছে জ্যামাইকা। এই ম্যাচে মিরাজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও ছিল হতাশাজনক।

শেয়ার করুন:
সিপিএল: হেটমায়ারের সেঞ্চুরি বৃথা, ফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ মিরাজের গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স

ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। জ্যামাইকা কিংসম্যানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিতে ব্যর্থ হয়েছে মিরাজের দল, ফলে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে তাদের। ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত এই হাই-স্কোরিং ম্যাচে গায়ানা প্রথমে ব্যাট করে ২০৬ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করালেও, জ্যামাইকা ৫ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নিয়ে ফাইনালে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছে। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে মিরাজের সিপিএল অভিষেক মৌসুমেরও সমাপ্তি ঘটল, যা তার জন্য খুব একটা সুখকর হলো না।

এই ম্যাচে মেহেদী হাসান মিরাজকে বোলিংয়ে আনা হয় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই, যা ছিল এক কৌশলগত সিদ্ধান্ত। উদ্দেশ্য ছিল প্রতিপক্ষের দুই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মাজ সাদাকাত ও ক্রিক ম্যাকেঞ্জির উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়া। তবে সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি, উল্টো মিরাজের প্রথম ওভারেই সাদাকাত দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরে ১৮ রান আদায় করে নেন। পাওয়ারপ্লে শেষে, ইনিংসের সপ্তম ওভারে তাকে আবারও বোলিংয়ে আনা হলে তিনি ৮ রান দেন। এরপরের দুই ওভারে মিরাজ কিছুটা রান আটকে রাখতে পারলেও, তার স্পেলের শেষ দুই বলে জ্যামাইকার আরেক বাঁহাতি পাকিস্তানি ক্রিকেটার সাইম আইয়ুব পরপর দুটি ছক্কা হাঁকান। সব মিলিয়ে, ৪ ওভারে মিরাজ ৪৩ রান খরচ করে কোনো উইকেট পাননি, যা দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল।

গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের ২০৬ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ার পেছনে মূল অবদান ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান শিমরন হেটমায়ারের। তিনি মাত্র ৪৫ বলে ১০২ রানের এক অসাধারণ ও অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এই ইনিংসে হেটমায়ার তার স্বভাবসুলভ আগ্রাসী ভঙ্গিতে খেলেছেন এবং দলের স্কোরকে এক শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছেন। এবারের সিপিএলে এটি ছিল হেটমায়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি, যা টুর্নামেন্টে তার ধারাবাহিক দুর্দান্ত ফর্মেরই প্রমাণ। তার এই একক প্রচেষ্টার ওপর ভর করেই গায়ানা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লক্ষ্য দিতে সক্ষম হয়েছিল, যা ম্যাচের প্রথমার্ধে তাদের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিল।

তবে জ্যামাইকা কিংসম্যান দলগত পারফরম্যান্সের জোরেই এই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে সক্ষম হয়। তাদের ওপেনিং ব্যাটসম্যান মাজ সাদাকাত ৪১ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন, এবং ক্রিক ম্যাকেঞ্জি ৩৪ রান করে ভালো শুরু এনে দেন। এরপর কিচি কার্টি ৫৬ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলের রান রেট ধরে রাখেন। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ইনিংসটি আসে রোভম্যান পাওয়েলের ব্যাট থেকে। তিনি মাত্র ১৭ বলে ৪০ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। তার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সুবাদে জ্যামাইকা ২ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে জয় ছিনিয়ে নেয়, যা তাদের ফাইনালে ওঠার পথ সুগম করে।

বাংলাদেশের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ এবারই প্রথমবার সিপিএল খেলেছেন। মোহাম্মদ নবীর বদলি হিসেবে তিনি গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে মোট ৫টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান। এই ৫ ম্যাচে তিনি ৯টি উইকেট শিকার করেন, যা একজন অভিষিক্ত স্পিনারের জন্য যথেষ্ট ভালো পারফরম্যান্স। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, তার এই ৯টি উইকেট প্রথম তিনটি ম্যাচেই এসেছিল। প্লে-অফের প্রথম ম্যাচে তিনি ১.২ ওভারে ১০ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি, এবং এই দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারেও উইকেটশূন্য থাকেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তার পারফরম্যান্সে কিছুটা ভাটা পড়েছিল।

বোলিংয়ে কিছুটা সাফল্য পেলেও, ব্যাট হাতে মিরাজ এই সিপিএলে পুরোপুরিই ব্যর্থ ছিলেন। তিনি ৪টি ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু সব মিলিয়ে মাত্র ২১ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। তার স্ট্রাইক রেট ছিল ৫০ এরও নিচে, মাত্র ৪৮.৮৩, যা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য অত্যন্ত কম। একজন অলরাউন্ডার হিসেবে তার ব্যাট হাতে দলের প্রয়োজনে অবদান রাখতে না পারাটা গায়ানার জন্য একটি দুর্বল দিক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, বিশেষ করে যখন দল বড় রান তাড়া করছিল বা বড় সংগ্রহ গড়তে চাইছিল।

সব মিলিয়ে, শিমরন হেটমায়ারের অসাধারণ সেঞ্চুরি সত্ত্বেও গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স সিপিএলের ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেল। মেহেদী হাসান মিরাজের জন্য এটি ছিল মিশ্র অভিজ্ঞতার একটি টুর্নামেন্ট, যেখানে বোলিংয়ে কিছু ঝলক দেখালেও, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এবং ব্যাট হাতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, জ্যামাইকা কিংসম্যানের দলগত প্রচেষ্টা এবং শেষ দিকের আগ্রাসী ব্যাটিং তাদের ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে, যেখানে তারা শিরোপার জন্য লড়বে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ