সোমবার, 14 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
ব্যাংকিং 🇧🇩 বাংলা

একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে প্রথম দিনে ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন, গ্রাহকদের স্বস্তি

সম্প্রতি একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকরা তাদের আটকে থাকা আমানতের টাকা ফেরত পেতে শুরু করেছেন। প্রথম দিনেই প্রায় ছয় হাজার গ্রাহক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। দীর্ঘদিন পর নিজেদের অর্থ হাতে পেয়ে গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

শেয়ার করুন:
একীভূত পাঁচ ব্যাংক থেকে প্রথম দিনে ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন, গ্রাহকদের স্বস্তি

সম্প্রতি দেশের পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংক একীভূত হয়ে 'সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক' নামে কার্যক্রম শুরু করার পর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের প্রথম দিনেই প্রায় ছয় হাজার গ্রাহক তাদের আমানতের প্রায় ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। যদিও আবেদনকারীর সংখ্যা এবং প্রত্যাশার তুলনায় প্রথম দিনে উত্তোলনের পরিমাণ কিছুটা কম বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তবুও এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা কিছুটা হলেও কেটেছে এবং স্বস্তি ফিরে এসেছে।

যে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করেছে, সেগুলো হলো – ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক। এই পাঁচটি ব্যাংক এখন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নামে তাদের ৭৬১টি শাখার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া দেশের ব্যাংকিং খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, যেখানে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছিল।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমানতের অর্থ ফেরত পেতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকদের দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থের চাহিদার বিপরীতে প্রথম দিনে ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন হলেও, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, পর্যায়ক্রমে সকল বৈধ আবেদনকারীর অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এর ফলে, একবারে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের চাপ সামলানোর পরিবর্তে ধাপে ধাপে অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হবে।

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। গত রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করে। এই অর্থ সোমবার সকালে চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় পাঠানো হয়, যাতে গ্রাহকরা নির্বিঘ্নে তাদের অর্থ উত্তোলন করতে পারেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সমর্থন গ্রাহকদের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়েছে এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও মালিবাগ এলাকার কয়েকটি শাখা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই গ্রাহকরা তাদের দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আমানতের টাকা তুলতে শাখাগুলোতে ভিড় করছেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অনেকেই স্বাভাবিকভাবেই টাকা উত্তোলন করতে পেরেছেন। নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ হাতে পেয়ে গ্রাহকদের মুখে স্বস্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল। এই কার্যক্রম শুরু হওয়ায় ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে বলেও তারা মনে করছেন।

মতিঝিলে এক্সিম ব্যাংকের (বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের শাখা) একটি শাখায় টাকা তুলতে আসা একজন গ্রাহক তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নিজের জমা টাকা তুলতে না পারায় চরম দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজ টাকা হাতে পেয়েছি, এতে অনেকটাই স্বস্তি লাগছে। এই সুযোগ চালু হওয়ায় আমরা সত্যিই আনন্দিত।” তার এই মন্তব্য বহু গ্রাহকেরই মনোভাবের প্রতিফলন।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান এই বিষয়ে আশ্বস্ত করে বলেন, “আমানত উত্তোলনের জন্য এসে কোনো গ্রাহক ফেরত যাবেন না। যারা টাকা তুলতে আসবেন, সবার টাকা ফেরত দেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, ব্যাংকটি গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত এবং একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সকল আমানত পরিশোধ করা হবে। তার এই আশ্বাস গ্রাহকদের মধ্যে নতুন করে বিশ্বাস স্থাপন করতে সাহায্য করছে।

ব্যাংকটির কর্মকর্তারা আরও জানান, গ্রাহকদের আবেদনের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলবে। এই ধাপে ধাপে অর্থ পরিশোধের কৌশল একদিকে যেমন ব্যাংকের ওপর আকস্মিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে, তেমনি অন্যদিকে গ্রাহকদেরও ধৈর্য ধরে তাদের প্রাপ্য বুঝে নিতে উৎসাহিত করবে। এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য সফল হবে।

এই উদ্যোগ কেবল আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়াই নয়, বরং একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সামগ্রিকভাবে দেশের ব্যাংকিং খাতের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক এখন গ্রাহকসেবা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যা সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারলে এটি দেশের অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করবে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ