সোমবার, 14 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
ব্যাংকিং 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডির অভয়: কোনো গ্রাহক টাকা তুলতে এসে খালি হাতে ফিরবেন না

সম্প্রতি একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদার গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে এসে কেউ খালি হাতে ফিরবেন না। গ্রাহক আস্থা ফেরাতে ব্যাংক সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং নগদ অর্থের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের এমডির অভয়: কোনো গ্রাহক টাকা তুলতে এসে খালি হাতে ফিরবেন না

সম্প্রতি একীভূত হওয়া সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আবেদুর রহমান সিকদার গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, তাঁদের ব্যাংক থেকে কোনো গ্রাহক টাকা তুলতে এসে খালি হাতে ফিরবেন না। গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহে সাময়িক সময় লাগতে পারে, তবে টাকা দেওয়ার জন্য ব্যাংক পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখা পরিদর্শনকালে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শনকালে মো. আবেদুর রহমান সিকদার প্রতিটি শাখার কর্মীদের গ্রাহকদের হাসিমুখে সেবা দিতে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী নগদ অর্থ সরবরাহ করা হচ্ছে এবং এই প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। তাঁর মতে, নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা এবং আমানত জমা হওয়া শুরু হওয়া গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসার একটি বড় লক্ষণ। গ্রাহকের এই আস্থা ধরে রাখতে ব্যাংক সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেবা প্রদান করছে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক — এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত হয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। এই একীভূতকরণের পর আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম আজ থেকে শুরু হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর যারা টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করেছিলেন, আজ থেকে তাঁদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

সোমবার সকালে রাজধানীর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কয়েকটি শাখা ঘুরে দেখা যায়, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী শাখাগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করে কিছু গ্রাহককে নির্ধারিত সময়ের আগেও টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা গ্রাহক সেবার প্রতি ব্যাংকের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে টাকা ফেরতের আবেদন নেওয়া শুরু হওয়ার পর মাত্র ছয় দিনে মোট ৭৫ হাজার গ্রাহক আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকদের চাহিদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা, যা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ ব্যাংক উভয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

এদিকে, ব্যাংকের খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে এমডি বলেন, ‘ওয়ার রুম’ কনসেপ্ট তৈরি করে খেলাপি ঋণ আদায়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যাংকের প্রায় ১৬ হাজার কর্মী এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ইতোমধ্যে খেলাপি ঋণ আদায়ে ১০ হাজারের বেশি মামলা হয়েছে, যার ফলে অনেক ঋণগ্রহীতা পুনঃতফসিলের আওতায় আসছেন এবং ঋণ পরিশোধে এগিয়ে আসছেন, যা ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে সহায়ক হচ্ছে।

ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখা এবং ব্যাংক সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে আগের চেয়ে আরও শক্ত অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখতে এবং গ্রাহকদের একটি নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ