বৃহস্পতিবার, 24 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
জাতীয় 🇧🇩 বাংলা

চাঁদপুরে জিপিএ-৫ সংবর্ধনা: আট যমজের অনন্য উৎসব, নাচে-গানে মুখরিত মিলনমেলা

চাঁদপুরে প্রথম আলো ও শিখো আয়োজিত জিপিএ-৫ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে আট যমজ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে নাচে-গানে মুখরিত ছিল কৃতী শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা, যেখানে তাদের সাফল্যকে জমকালোভাবে উদ্‌যাপন করা হয়।

শেয়ার করুন:
চাঁদপুরে জিপিএ-৫ সংবর্ধনা: আট যমজের অনন্য উৎসব, নাচে-গানে মুখরিত মিলনমেলা

চাঁদপুরে প্রথম আলো ও শিখো আয়োজিত কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক অসাধারণ দৃশ্যের অবতারণা হলো, যেখানে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত আট যমজ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আনন্দের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার শহরের নতুনবাজার এলাকার রাজবাড়ী কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শত শত কৃতী শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের মিলনমেলায় উৎসবের আমেজ ছিল চোখে পড়ার মতো। এই আট যমজকে যখন মঞ্চে আহ্বান জানানো হলো, তখন করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন, যা তাদের অনন্য সাফল্যকে আরও মহিমান্বিত করে তোলে।

এই আট যমজের মধ্যে তাসনুবা নুর ও নাহিয়ান তাসনিম নামের দুই বোন এবারের এসএসসি পরীক্ষায় চাঁদপুরের দুটি ভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এই সংবর্ধনার দিনটি তাদের জন্য ছিল আরও বিশেষ, কারণ এটি ছিল তাদের কলেজের প্রথম দিন এবং নবীনবরণ অনুষ্ঠানের পর পরই তারা এই কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় যোগ দিতে আসে। তাসনুবা নুর, যে চাঁদপুর মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে, তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জানায়, "কলেজের প্রথম দিন, নবীনবরণ আর এই সংবর্ধনা—সব মিলিয়ে আজকের দিনটি আমাদের জন্য এক অন্য রকম আনন্দের।" তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়া আরও ছয় যমজ শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এই উৎসবের আনন্দকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

"স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো" এই স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশের ৬৪টি জেলায় প্রথম আলোর আয়োজনে এবং শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শিখোর পৃষ্ঠপোষকতায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই আজ চাঁদপুর পর্বের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের পথচলায় অনুপ্রেরণা যোগাতে এবং তাদের সাফল্যকে সম্মানিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এবারের আয়োজনের 'পাওয়ার্ড বাই বিকাশ' ছিল এবং কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভাসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনের সহযোগী হিসেবে পাশে ছিল।

চাঁদপুরের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হয়েছিল। যদিও ভ্যাপসা গরম আর বৃষ্টির মতো প্রতিকূল আবহাওয়া ছিল, তবুও পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক প্রবল উৎসাহ নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। তারা সারিবদ্ধভাবে ক্রেস্টসহ অন্যান্য উপহারসামগ্রী গ্রহণ করে রাজবাড়ী কমিউনিটি সেন্টারে স্ব স্ব আসনে বসেন। বেলা ১১টায় জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, যা উপস্থিত সকলের মনে দেশপ্রেম ও শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর চাঁদপুর প্রতিনিধি আলম পলাশ। এরপর মঞ্চে উপস্থিত হন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, যাদের মধ্যে ছিলেন চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইকবালুর রহমান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল্লাহ, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মকবুল হোসেন এবং হাসান আলী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মমিনুল হক। উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. ইকবালুর রহমান তার বক্তব্যে সন্তানের ভালো ফলে অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সন্তানের সফলতার জন্য অভিভাবকদের সর্বদা তাদের পাশে থাকতে হবে। একইসাথে তিনি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকার মূল্যবান পরামর্শ দেন।

চাঁদপুর বন্ধুসভার সভাপতি মাসুদ হাসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম পারভেজের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের পক্ষে মো. সোলায়মান ও তানিয়া এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে আলিকা তাহসিন রাইসা ও সাজ্জাদ হোসাইন তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে। প্রথম আলোর হেড অব কালচারাল প্রোগ্রাম কবির বকুল তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যের শেষে তিনি উপস্থিত সকল কৃতী শিক্ষার্থীকে মাদক, মুখস্থবিদ্যা ও মিথ্যাকে 'না' বলার শপথ পাঠ করান, যা তাদের নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

অনুষ্ঠানের শেষ ভাগে ছিল এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ঢাকা থেকে আসা শিল্পী অনিক সূত্রধর তার সুরেলা কণ্ঠে শিক্ষার্থীদের গান শোনান, যা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। একইসাথে স্থানীয় শিল্পীরাও তাদের পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন। শিল্পীদের গানে গলা মেলায় শিক্ষার্থীরাও, আর পুরো সংবর্ধনাস্থল পরিণত হয় এক উৎসবের আমেজে। নাচে-গানে মুখরিত এই মিলনমেলায় কৃতী শিক্ষার্থীরা সারাদিনভর নানা আয়োজনে মেতে ওঠে, যা তাদের শিক্ষাজীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদ্‌যাপনে এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি হয়ে থাকবে। এই আয়োজন শুধু তাদের সাফল্যকে সম্মান জানানোই নয়, বরং ভবিষ্যতের পথে তাদের আরও অনুপ্রাণিত করার এক মহতী উদ্যোগ ছিল।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ