Login সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও খুঁজুন ই-পেপার Eng Login জেলা বেহাল সড়কে ঝরা ধান থেকে চারা, ফলনও এসেছে আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ রাজশাহী প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ০৫ রাজশাহীর পবা-তানোর সড়কে দুলছে ধানের শিষ। গত রোববার পবা উপজেলার বায়া মোড় এলাকায় ছবি : প্রথম আলো সড়কটি পাকা ছিল, ভেঙে গেছে। ভাঙা সড়কের মাটি বের হয়ে আছে। ধানের বীজ পড়ে চারা হয়েছে। পরে সেই গাছের ধান পেকে গেছে; কিন্তু সড়কটি মেরামত বা পাকা হয়নি এখনো। এখন সড়কে পাকা ধানের শিষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। এই চিত্র রাজশাহীর পবা-তানোর সড়কের। সড়কের ওই ধান পথচারী ও যাত্রীদের হাসি–তামাশার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পবা উপজেলার বায়া মোড় থেকে তানোর উপজেলার কাশিমবাজার পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার ভেঙে গেছে। গত এক বছর সেটি কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। সড়কে চলাচল করা মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বায়ার মোড়ের দুটি স্থানে বড় দুটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন পার হতে গেলেই দেবে যায়। এলাকার লোকজন ওই দুটি স্থানে কাঠি পুঁতে তাতে চিপসের দুটি প্যাকেট রেখে দিয়েছেন, যাতে চালকদের চোখে পড়ে।
সড়কের বায়া মোড় থেকে কাশিমবাজারের দিকে যেতে প্রথম ৫০০ মিটার সড়কের মাটি বের হয়ে আছে। স্থানীয় লোকজন জানান, রাস্তার পাশে গত বৈশাখ মাসে ট্রাকে ধান বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। সেই ধান থেকে চারা বের হয়। ধীরে ধীরে সেই চারা বড় হয়। ধানের শিষ বের হয়। সেই ধান এখন পেকেছে। তবে যত ধান পেকেছে, তার চেয়ে আরও বেশি ধান এখনো শিষ বের হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
গত রোববার ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, দোকানি হাসমত আলীর দোকানের সামনে ধান মোটামুটি পেকেছে। তিনি বলেন, গত বৈশাখ মাসে ধানের গাড়ি বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। তারপর সেই ধানের চারা হয়েছে। পাকা সড়কে ধানগাছের চারা গজানো দেখে তাঁরা রেখে দিয়েছেন। যত্ন করেছেন; কাউকে নষ্ট করতে দেননি। এখন সেই ধান পেকে গেছে।
এটা ‘প্রকৃতির প্রতিবাদ’ উল্লেখ করে হাসমত আলী বলেন, টানা এক বছর ধরে এই সড়কের যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলে পথচারীদের কাদা মেখে বাড়ি যেতে হয়। রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ি পার হতে গেলে পথচারীর গায়ে কাদা লাগবেই।
বৃহস্পতিবার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসমত আলী তাঁর দোকানের সামনে কয়েক ঝাড় ধান কেটে দোকানে রেখেছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ধান পেকে ঝরে পড়ে যাচ্ছিল। তাই কেটে দোকানে রেখেছেন।