শুক্রবার, 18 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
ব্যাংকিং 🇧🇩 বাংলা

পরিবেশবান্ধব গাড়িতে সিটি ব্যাংকের রেকর্ড অর্থায়ন: সবুজ ভবিষ্যতের পথে এক নতুন দিগন্ত

দ্রুত নগরায়ণ ও পরিবেশ সচেতনতার বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই টেকসই পরিবর্তনে সিটি ব্যাংক গত দেড় বছরে প্রায় ১,২০০ কোটি টাকার অটো লোন বিতরণ করে সবুজ অর্থায়নে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। দূষণমুক্ত ভবিষ্যতের লক্ষ্যে ব্যাংকটি গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দিচ্ছে।

শেয়ার করুন:
পরিবেশবান্ধব গাড়িতে সিটি ব্যাংকের রেকর্ড অর্থায়ন: সবুজ ভবিষ্যতের পথে এক নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশের দ্রুত আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার অভাবনীয়ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন এবং বায়ুদূষণের মতো গুরুতর পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলো নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। এই প্রেক্ষাপটে, প্রথাগত জ্বালানি-নির্ভর গাড়ির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক (ইভি) ও হাইব্রিড যানবাহনের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন সচেতন ক্রেতারা। জ্বালানি সাশ্রয়, কম পরিচালন ব্যয় এবং পরিবেশ সুরক্ষার প্রতি দায়বদ্ধতা — এই সকল কারণই টেকসই অর্থনৈতিক রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে সহজ ও বৃহৎ পরিসরের অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি করে দেশের সবুজ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পথে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে সিটি ব্যাংক।

অটো লোন খাতে সিটি ব্যাংকের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের সূচনালগ্ন থেকে ব্যাংকটি ১৫ হাজারেরও বেশি গ্রাহককে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণসুবিধা প্রদান করেছে, যা এই খাতে তাদের শক্তিশালী অবস্থানকে প্রমাণ করে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ নীতিমালার আলোকে সিটি ব্যাংক পরিবেশবান্ধব ইভি ও হাইব্রিড গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব গাড়ির জন্য গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা বা গাড়ির মূল্যের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত অটো লোন সুবিধা পাচ্ছেন। অন্যদিকে, সাধারণ তেলের গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঋণসীমা ৬০ লাখ টাকা বা গাড়ির দামের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব যানবাহনের প্রতি ব্যাংকের বিশেষ গুরুত্বের প্রতিফলন।

বর্তমানে সবুজ অর্থায়ন কর্মসূচিতে দেশের ব্যাংকিং খাতে সিটি ব্যাংক শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে অবস্থান করছে। গত দেড় বছরে ব্যাংকটি প্রায় ৪ হাজার ৫০০টি ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির বিপরীতে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার অটো লোন বিতরণ করেছে, যা এই সময়ের মধ্যে ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত অটো লোনের প্রায় ৭০ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান কেবল সিটি ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতাই নয়, বরং পরিবেশ সুরক্ষায় তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার এবং গ্রাহকদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকেও তুলে ধরে। এই রেকর্ড-ব্রেকিং অর্থায়ন দেশের পরিবহন খাতে একটি সবুজ বিপ্লবের ইঙ্গিত বহন করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে গ্রাহকের পরিশোধ সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬ বছর মেয়াদে এই ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে, যা গ্রাহকদের জন্য কিস্তি পরিশোধে যথেষ্ট স্বস্তি প্রদান করে। ঋণগ্রহীতা চাইলে যেকোনো সময় আংশিক বা সম্পূর্ণ অগ্রিম পরিশোধের সুযোগও পাচ্ছেন, যা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তাদের নমনীয়তা এনে দেয়। সুদের হার ও প্রসেসিং ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সময়োপযোগী বাজার পরিস্থিতি এবং গ্রাহকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, যাতে ঋণ গ্রহণ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও ন্যায্য হয়। এই সকল সুবিধা গ্রাহকদের পরিবেশবান্ধব গাড়ি ক্রয়ে উৎসাহিত করছে এবং সবুজ ভবিষ্যতের পথে তাদের যাত্রাকে সহজ করে তুলছে।

গ্রাহকদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে সিটি ব্যাংকের রয়েছে দেশজুড়ে শাখা, উপশাখা, প্রায়োরিটি ও এসএমই সেন্টারসহ ৮০০টিরও বেশি টাচ পয়েন্টের সুবিস্তৃত নেটওয়ার্ক। এর পাশাপাশি একটি শক্তিশালী ও ডেডিকেটেড সেলস টিম প্রতিনিয়ত গ্রাহকদের সেবা প্রদানে সচেষ্ট। এই সুবিস্তৃত নেটওয়ার্ক এবং দক্ষ কর্মীবাহিনীর কারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়ার সাপেক্ষে মাত্র ১ দিনের মধ্যেই ঋণ অনুমোদন করা সম্ভব হচ্ছে, যা গ্রাহকদের সময় বাঁচায় এবং দ্রুত গাড়ি ক্রয়ের প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। এছাড়াও, দেশের ৯ শতাধিক গাড়ি পরিবেশকের সঙ্গে সিটি ব্যাংকের সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে, যা গ্রাহকদের জন্য পছন্দসই গাড়ি বেছে নেওয়া এবং অর্থায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাকে আরও মসৃণ করে তোলে।

টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সিটি ব্যাংকের অবদান কেবল দেশীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর স্বীকৃতি মিলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই রেটিংয়ে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি সিটি ব্যাংক আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির ‘ইউএনইপি ফাইন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’-এর দায়িত্বশীল ব্যাংকিং কাঠামোর একমাত্র বাংলাদেশি সদস্য। এই অর্জনগুলো পরিবেশবান্ধব অর্থায়নে সিটি ব্যাংকের নেতৃত্ব এবং বৈশ্বিক মানদণ্ড মেনে চলার প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। ব্যাংকটি মনে করে, তাদের এই সবুজ অর্থায়ন কেবল গাড়ি কেনার সুযোগ নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার এক বৃহৎ বিনিয়োগ।

সবুজ যানবাহনে এই রেকর্ড পরিমাণ অর্থায়ন বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং একটি দূষণমুক্ত ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সিটি ব্যাংকের এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল অর্থনীতির চাকাকেই সচল রাখবে না, বরং একটি স্বাস্থ্যকর ও সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করতেও সহায়ক হবে, যা দেশ ও জাতির জন্য এক ইতিবাচক বার্তা নিয়ে আসে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ