জাপানি সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় নতুন নয়। তবে অ্যানিমে, মাঙ্গা, কসপ্লে, জাপানি গেম ও পপ-কালচারের হাত ধরে সাম্প্রতিক সময়ে সেই আগ্রহ যেন পেয়েছে নতুন মাত্রা। রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আজ থেকে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী জাপানি সাংস্কৃতিক উৎসব ‘নিহন যাই’। আগামীকাল ১২ সেপ্টেম্বর শেষ হবে এই আয়োজন।
অ্যানিমের পর্দার প্রিয় চরিত্রগুলো যদি বাস্তবের শহরে নেমে আসে, দৃশ্যটা কেমন হবে? বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ঢুঁ মারলে মিলবে এর উত্তর। ভেতরে ঢুকতেই মন ভালো হয়ে যাওয়ার মতোই এক আবহ। জেন-জি, জেন-আলফা থেকে শুরু করে মিলেনিয়াল—জাপানি সংস্কৃতির অনুরাগী নানা বয়সের মানুষ এসেছেন এই আয়োজনে।
ভেন্যুতে ঢুকতেই মনে হলো, অ্যানিমের পর্দার চরিত্রগুলো যেন একে একে বাস্তবে চলে এসেছে আর সামনে হেঁটে বেড়াচ্ছে। একেকজনের লুক আরেকজন থেকে ভিন্ন।
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে বসেছে অনেকগুলো স্টল। জাপানি সংস্কৃতি ও পপ-কালচারের নানা অনুষঙ্গে সাজানো হয়েছে এখানে সবকিছু। কোথাও অ্যাকশন ফিগার, কাতানা, কিরিংস, পোস্টার ও বই, আবার কোনো স্টল সাজানো হয়েছে নানা ধরনের পোশাকে।
জাপানি সংস্কৃতির সঙ্গে গেমিংয়ের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। সেই অভিজ্ঞতা নেওয়ারও সুযোগ আছে আয়োজনে। পোকেমন গো কিংবা বেব্লেড ব্যাটলে অংশ নিচ্ছেন অনেকেই। কেউ নিজের দক্ষতা যাচাই করছেন, আবার কেউ দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন অন্যের খেলা। শোগেন ক্ল্যাশ ও জেমস পিটের মতো গেমেও দেখা গেছে দর্শনার্থীদের আগ্রহ। কনসোল গেমিংয়ের আয়োজনেও জমেছে ভিড়। চলছে ‘স্ট্রিট ফাইটার সিক্স’-এর মতো জনপ্রিয় গেম।
শুধু দেখা বা কেনাকাটা নয়, জাপানি সংস্কৃতিকে হাতে-কলমে জানার সুযোগও রয়েছে এই উৎসবে। জাপানের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকছে। মাঙ্গা, ইকেবানা ও অরিগামি নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ কর্মশালা। মাঙ্গা কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জানতে পারবেন বিভিন্ন কৌশল ও গল্প বলার প্রক্রিয়া।
জাপানকে জানার আরেকটি সহজ পথ খাবার। ‘নিহন জাই’-এর খাবারের স্টলগুলোতেও তাই দেখা গেছে বেশ ভিড়।
বাংলাদেশে জাপানি সংস্কৃতির জনপ্রিয়তার পেছনে অ্যানিমে ও মাঙ্গার বড় ভূমিকা রয়েছে। গত কয়েক বছরে জাপানি অ্যানিমেশন, চরিত্র ও গল্প তরুণদের বিনোদনের জগতে আরও বেশি জায়গা করে নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কারণে সেই আগ্রহও ছড়িয়ে পড়ছে সহজে। কেউ অ্যানিমের গল্প ও চরিত্রে মুগ্ধ, কেউ মাঙ্গার পাত