শুক্রবার, 11 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
ফুটবল 🇧🇩 বাংলা

চ্যাম্পিয়নস লিগে মারেসকার ম্যান সিটির শুভ সূচনা, নায়ক সেই পুরনো হলান্ড

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমে এনজো মারেসকার অধীনে ম্যানচেস্টার সিটি তাদের যাত্রা শুরু করলো পোর্তোর বিপক্ষে ২-০ গোলের দাপুটে জয় দিয়ে। এই জয়ের দুই গোলই এসেছে অপ্রতিরোধ্য আর্লিং হলান্ডের বুট থেকে, যিনি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার।

শেয়ার করুন:
চ্যাম্পিয়নস লিগে মারেসকার ম্যান সিটির শুভ সূচনা, নায়ক সেই পুরনো হলান্ড

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে এবং ম্যানচেস্টার সিটি তাদের নতুন কোচ এনজো মারেসকার অধীনে এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে নিজেদের যাত্রা শুরু করেছে এক দারুণ জয় দিয়ে। পোর্তোর মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-০ গোলের ব্যবধানে স্বাগতিকদের পরাজিত করে সিটিজেনরা তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগ অভিযান সফলভাবে শুরু করলো। এই জয়ের প্রধান কারিগর ছিলেন দলের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড, যার জোড়া গোল সিটিকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দিয়েছে। পেপ গার্দিওলার দীর্ঘ এবং সফল অধ্যায়ের পর মারেসকার জন্য এই জয় ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, যা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।

পেপ গার্দিওলার প্রস্থানের পর ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন এনজো মারেসকা। তার সামনে ছিল একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ, কারণ গার্দিওলার অধীনে সিটিজেনরা ঘরোয়া এবং ইউরোপীয় ফুটবলে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছিল। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচেই সেই কঠিন কাজের চাপ মারেসকার দল সামলে নিয়েছে দারুণভাবে। পোর্তোর মাঠে শুরু থেকেই ম্যানচেস্টার সিটি নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে খেলেছে এবং বল পজিশন ও আক্রমণের দিক থেকে এগিয়ে ছিল। যদিও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পেতে তাদের কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে, কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই ছিল।

ম্যাচের প্রথমার্ধে পোর্তোর গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। তিনি একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে আর্লিং হলান্ডকে গোলবঞ্চিত রাখেন। একবার হলান্ডের শক্তিশালী হেডকে অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন কস্তা এবং পরবর্তীতে আরও দুবার নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে হতাশ করে তিনি তার গোলপোস্ট অক্ষত রাখেন। প্রথমার্ধ গোলশূন্য শেষ হলেও, ম্যানচেস্টার সিটি তখনই তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবলের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে পোর্তোর রক্ষণদুর্গে আঘাত হানা সময়ের ব্যাপার মাত্র। সিটির আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রা নিরন্তর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়।

বিরতির পর আর বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি ম্যানচেস্টার সিটিকে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দলের প্রথম গোলটি করেন আর্লিং হলান্ড। এনজো ফার্নান্দেজের চমৎকার ক্রস থেকে পাওয়া বলে হলান্ড মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। শটটি খুব জোরালো না হলেও, পোর্তো গোলরক্ষক কস্তাকে ভুল পথে ফেলে বলটি গোলপোস্টের নিচের কোণায় গড়িয়ে যায়, যার ফলে সিটি ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। এই গোলের মাধ্যমে হলান্ড চ্যাম্পিয়নস লিগে তার গোলসংখ্যা আরও বাড়িয়ে নেন, যা তার ব্যক্তিগত রেকর্ডে নতুন মাইলফলক যোগ করে।

গোল হজম করার পর যেন পোর্তোর ঘুম ভাঙে এবং তারা ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করে। স্বাগতিক দল আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে সিটির রক্ষণে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দেয়। একবার গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসে পোর্তোর খেলোয়াড় পেপেকে ফেলে দিলে, অফসাইড না থাকলে সেটি পোর্তোর জন্য পেনাল্টি হতে পারত। পরবর্তীতে দোন্নারুম্মার একটি ক্লিয়ারেন্স উইলিয়াম গোমেসের গায়ে লেগে অল্পের জন্য নিজেদের জালে প্রবেশ করেনি, যা সিটির সমর্থকদের মধ্যে মুহূর্তের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

তবে শেষ পর্যন্ত পোর্তোর সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়, কারণ রাতটি ছিল আর্লিং হলান্ডের। যোগ করা সময়ের গভীরে রায়ান আইত নুরির কাছ থেকে পাওয়া একটি নিখুঁত ক্রস ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি নিশ্চিত করেন হলান্ড। এই গোলের মাধ্যমে ম্যানচেস্টার সিটি ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে এবং হলান্ড চ্যাম্পিয়নস লিগে তার ৫৯তম ম্যাচে ৫৯তম গোলটি পূর্ণ করেন। এই অসাধারণ রেকর্ড তার গোল করার ক্ষমতা এবং ধারাবাহিকতার প্রমাণ।

চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম ২০, ৩০, ৪০ এবং ৫০ গোলের রেকর্ড আগেই নিজের করে নিয়েছেন আর্লিং হলান্ড। এবার তার সামনে দ্রুততম ৬০ গোলের রেকর্ড গড়ার হাতছানি। যে জায়গায় পৌঁছাতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তি ফুটবলারদের অনেক বেশি ম্যাচ খেলতে হয়েছে, সেখানে হলান্ড ছুটছেন নিজের গতিতে, যা তাকে ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সিটির হয়ে এটি ছিল তার ১৬৭তম গোল, যার মাধ্যমে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন।

ম্যাচ শেষে আর্লিং হলান্ড নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘সবচেয়ে বড় মঞ্চে আমাদের ওপর সবসময় চাপ থাকে। আমাদের কাজ ছিল সেই চাপ সামলে নিজেদের দায়িত্ব পালন করা। আজ আমরা সেটাই করেছি।’ চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রাথমিক পর্যায়ের ম্যাচগুলোতে জয়ের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি আরও বলেন, ‘এই ম্যাচগুলো আপনাকে জিততেই হবে। না হলে হঠাৎ করেই সব চাপ আপনার ওপর চলে আসে। তারপর কী হবে, কেউ জানে না।’ তার এই মন্তব্য দলের জন্য প্রাথমিক জয়ের গুরুত্ব এবং সামনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের মানসিকতার প্রতিফলন ঘটায়।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ