বুধবার, 16 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
ব্যাংকিং 🇧🇩 বাংলা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা ৭ সেপ্টেম্বর থেকে মূল অর্থ ফেরত পাবেন

দীর্ঘদিন ধরে অর্থ সংকটে থাকা সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের জমা দেওয়া মূল অর্থ ফেরত নিতে পারবেন। আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা ৭ সেপ্টেম্বর থেকে মূল অর্থ ফেরত পাবেন

অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে সৃষ্ট সংকটে জর্জরিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি শ্রেণির আমানতকারীরা আগামী সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের জমাকৃত অর্থের মূল অংশ (প্রিন্সিপাল অ্যামাউন্ট) ফেরত নিতে পারবেন। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অর্থ ফেরতের আবেদন প্রক্রিয়া আজ, ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এই ঘোষণা বহু প্রতীক্ষিত হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে।

ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে সকল শাখা ও উপশাখায় পাঠানো এক নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, আমানতকারীদের নিজ নিজ শাখা বা উপশাখায় গিয়ে অর্থ ফেরতের জন্য আবেদন জমা দিতে হবে। গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এরপর গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের ব্যবস্থা করে তা আবার সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হলে সেখান থেকেই গ্রাহকরা তাদের টাকা উত্তোলন করতে পারবেন। এই পদ্ধতি স্বচ্ছতা ও সুশৃঙ্খলভাবে অর্থ বিতরণের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।

তবে, ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, আপাতত শুধুমাত্র ব্যক্তি আমানতকারীরাই তাদের জমা টাকার মূল অংশ ফেরত নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আমানতের বিপরীতে অর্জিত মুনাফা পরবর্তী সময়ে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের জন্য ঘোষিত স্কিমের বাইরে গিয়ে এখনই অর্থ উত্তোলনের কোনো সুযোগ থাকছে না। তাদের জন্য পূর্বনির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করা হবে।

অর্থ ফেরতের আবেদনপত্রে গ্রাহকদের অবশ্যই তাদের অ্যাকাউন্টে মোট জমার পরিমাণ, কত টাকা তুলতে চান এবং অর্থ উত্তোলনের সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা এবং গ্রাহকদের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিকভাবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানত ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সময় লাগায় কার্যক্রমটি এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে।

ইতিমধ্যে, প্রথম দিনেই প্রায় ১৮ হাজার গ্রাহক তাদের আমানতের টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন। এসব আবেদনের বিপরীতে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি উঠেছে, যা ব্যাংকের ওপর গ্রাহকদের আস্থার সংকটের গভীরতা নির্দেশ করে। এর মধ্যে মেয়াদি আমানত পুরোপুরি তুলে নিয়ে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার (এক্সিট) আবেদন রয়েছে প্রায় ২৪৫ কোটি টাকার। ব্যাংকটির জন্য গত বছর ঘোষিত আমানত ফেরত দেওয়ার স্কিমে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে এসব অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন অনিয়ম ও ব্যাপক জালিয়াতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করা হয়েছিল। এই ব্যাংকগুলো হলো এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। এই একীভূতকরণের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা করা।

উল্লেখিত ব্যাংকগুলো ২০২২ সাল থেকে আমানতকারীদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দিতে পারছিল না, যা গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুর্দশাগ্রস্ত এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করে নতুন এই ব্যাংকটি গঠন করা হয়, যা ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মোট মূলধন ৩০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে। একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকে প্রায় ৭৬ লাখ আমানতকারীর মোট জমার পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয়ী হিসাবে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে। তবে, এসব ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা, যার প্রায় ৮৬ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে, যা ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ