বুধবার, 16 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

আইন না মানলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ইউজিসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রচলিত আইন, বিধি ও নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। আইন লঙ্ঘিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন:
আইন না মানলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ইউজিসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ সম্প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি এক কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যদি কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রচলিত আইন, বিধি ও নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার, ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির নবীনবরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

অধ্যাপক মামুন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং সংশ্লিষ্ট বিধি ও নীতিমালা মেনে চলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এই আইন ও বিধিমালা অপরিহার্য। যদি আইন ও বিধি অনুসরণে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটে বা কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যা উচ্চশিক্ষার মান এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ট্রাস্টি বোর্ডকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অযাচিত হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারারের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত। এই পদাধিকারীদের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা না গেলে উচ্চশিক্ষার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে তিনি মত দেন।

শিক্ষাকে কেবল একটি বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধুমাত্র ডিগ্রি প্রদানের কেন্দ্র না হয়ে বরং জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং মুক্তচিন্তার এক প্রাণবন্ত কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে। উদ্ভাবন ও নতুন জ্ঞান সৃষ্টির পরিবেশ তৈরি করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সম্প্রতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাট ৫ শতাংশ কমানো হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্বস্তির খবর। একই সাথে, আরও ৫ শতাংশ ভ্যাট কমানোর জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ইউজিসি প্রত্যাশা করে যে, ভ্যাট কমার ফলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের কল্যাণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে, যা শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

নবীন শিক্ষার্থী ও কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা অর্জন বা ডিগ্রি লাভই শিক্ষার শেষ কথা নয়। জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। তিনি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করে নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও গবেষণায় যোগ্য করে তোলার ওপর জোর দেন। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই গুণাবলি অপরিহার্য।

ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের উচ্চশিক্ষায় প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং ইউজিসি তাদের সবার অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান যে, সরকারি-বেসরকারি, পুরোনো-নতুন কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেই ইউজিসি কোনো ধরনের বৈষম্য করবে না। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করাই ইউজিসির প্রধান লক্ষ্য।

সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, অভিভাবক এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এই ধরনের অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা যোগানোর পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ