ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল-২ এর কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে ব্যাপক সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনুপস্থিতি দেখতে পেয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সকালে খিলগাঁও তিলপাপাড়াস্থ আঞ্চলিক কার্যালয়ে তাঁর এই অপ্রত্যাশিত পরিদর্শনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। নগরবাসীর সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি দপ্তরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই পরিদর্শন পরিচালিত হয়, যেখানে অনুপস্থিতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা ডিএসসিসি'র কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয়কে তুলে ধরেছে।
সকাল ঠিক দশটায় প্রশাসক কার্যালয়ে প্রবেশ করার পরপরই মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন, যাতে দেরিতে আসা কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ভেতরে প্রবেশ করতে না পারেন এবং পরিদর্শনের স্বচ্ছতা বজায় থাকে। এরপর তিনি প্রতিটি কক্ষ নিবিড়ভাবে ঘুরে দেখেন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত উপস্থিতি যাচাই করেন। বিশেষ করে, প্রতিটি শাখার হাজিরা খাতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়। এই সময় যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুপস্থিত ছিলেন, তাৎক্ষণিকভাবে তাদের হাজিরা খাতায় 'অনুপস্থিত' হিসেবে চিহ্নিত করার নির্দেশ দেন প্রশাসক। তার এই তৎপরতা প্রমাণ করে, ডিএসসিসি প্রশাসন দাপ্তরিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কতটা বদ্ধপরিকর।
পরিদর্শনকালে অনুপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারির নির্দেশ দেন ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আসলামকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং পরবর্তীতে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসন বার্তা দিতে চেয়েছে যে, সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না। কর্মীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি এবং সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করাই এই নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য।
শুধুমাত্র কর্মীদের উপস্থিতি যাচাই নয়, প্রশাসক নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ জোর দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে নগরবাসীকে আরও উন্নত ও দ্রুত সেবা প্রদানের জন্য নির্দেশনা দেন। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সেবাপ্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করার জন্য তিনি পরামর্শ দেন। এই পরিদর্শনকালে তিনি বারবার উল্লেখ করেন যে, সিটি করপোরেশনের মূল লক্ষ্যই হলো নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের চাহিদা পূরণ করা। সেবার মান উন্নত না হলে শুধু কর্মীদের উপস্থিতি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়াও, ডিএসসিসি প্রশাসক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের কার্যকর মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আঞ্চলিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সরাসরি এবং সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার কঠোর নির্দেশনা দেন। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব রোধে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না। নগরীর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব, যা পালনে সবাইকে আরও যত্নবান হতে হবে।
প্রশাসক মো. আবদুস সালামের এই আকস্মিক পরিদর্শন ডিএসসিসি'র সামগ্রিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং গতিশীলতা আনার চলমান প্রচেষ্টারই অংশ। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কার এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে জোর দিয়ে আসছেন। তার মতে, একটি কার্যকর ও জনবান্ধব সিটি করপোরেশন গড়ে তুলতে হলে কর্মীদের মধ্যে পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্ববোধ অপরিহার্য। এই ধরনের পরিদর্শন কেবল কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে না, বরং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতিও একটি বার্তা দেয় যে, তাদের নিজ নিজ এলাকার কার্যকারিতা এবং সেবার মান উন্নত করতে হবে।
এই ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন সরকারি দপ্তরগুলোতে কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দায়িত্ব পালনে তাদের আরও বেশি মনোযোগী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এটি একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেয় যে, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি বা দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে একদিকে যেমন কর্মীদের মধ্যে সময়ানুবর্তিতা বৃদ্ধি পায়, তেমনি অন্যদিকে নাগরিক সেবার মানও ক্রমান্বয়ে উন্নত হয়। ডিএসসিসি প্রশাসনের এই উদ্যোগ অন্যান্য সরকারি সংস্থাকেও তাদের দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে উৎসাহিত করবে বলে অনেকেই মনে করছেন। নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে এমন পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।
সবশেষে, ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম তার পরিদর্শনের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নগরবাসীর কল্যাণে বদ্ধপরিকর এবং এক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তার নির্দেশনার ফলে আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মপরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং নাগরিকরা দ্রুত ও সহজে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন। ডিএসসিসি তার কর্মপরিধি এবং দায়িত্বশীলতা নিয়ে আরও বেশি সজাগ ও সক্রিয় থাকবে, যাতে ঢাকাবাসীর জীবনযাত্রার মান আরও সুসংহত হয় এবং একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব নগরী গড়ে তোলা সম্ভব হয়।