সোমবার, 14 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
শেয়ারবাজার 🇧🇩 বাংলা

আইপিও ছাড়াই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ: ডেরিভেটিভস লেনদেন শুরু ২০২৮-এ

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ছাড়াই শেয়ারবাজারে কোম্পানিগুলোকে সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ দিতে 'ডাইরেক্ট লিস্টিং' বিধিমালার খসড়া অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একইসঙ্গে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আর্থিক ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর কর্মপরিকল্পনাও অনুমোদন করা হয়েছে, যা ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ইনডেক্স ফিউচারের মাধ্যমে শুরু হবে।

শেয়ার করুন:
আইপিও ছাড়াই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ: ডেরিভেটিভস লেনদেন শুরু ২০২৮-এ

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে নতুন মাত্রা যোগ করতে যুগান্তকারী দুটি সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়া এড়িয়ে কোম্পানিগুলোকে সরাসরি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ দিতে 'ডাইরেক্ট লিস্টিং' বিধিমালার খসড়া অনুমোদন করেছে। একইসঙ্গে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) আর্থিক ডেরিভেটিভস পণ্য চালুর একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাও অনুমোদন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে ইনডেক্স ফিউচার চালুর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক কমিশন সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়। সভায় 'বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ডাইরেক্ট লিস্টিং অব সিকিউরিটিজ বাই স্টক এক্সচেঞ্জ) রুলস, ২০২৬'-এর খসড়াটি অনুমোদন পেয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এই বিধিমালাটি খুব দ্রুতই জনমত যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও বিএসইসির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যা পুঁজিবাজারের অংশীজনদের মতামত প্রদানের সুযোগ দেবে।

প্রস্তাবিত নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, যেসব কোম্পানি বর্তমানে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানাধীন, তারা তাদের মোট শেয়ারের অন্তত ১০ থেকে ২০ শতাংশ অফলোড করার মাধ্যমে আইপিও ছাড়াই সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। এই পদ্ধতি নতুন কোম্পানিগুলোর জন্য পুঁজিবাজারে প্রবেশের একটি সহজ ও দ্রুততর পথ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে বাজারের গভীরতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য বিভিন্ন শ্রেণির কোম্পানিকে সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানি এবং যেসব কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানাধীন। এছাড়া, বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের সম্পূর্ণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোও এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবে, যা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাজারের বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

এছাড়াও, অন্তত ৩০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনসম্পন্ন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অনুমোদিত টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী, আইসিটি অবকাঠামো বা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। কমপক্ষে তিন বছর কার্যক্রম পরিচালনাকারী তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিমা কোম্পানি এবং কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভার বা মোট সম্পদ রয়েছে এমন কোম্পানিগুলোও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সরাসরি তালিকাভুক্ত হতে পারবে। কমিশনে নিবন্ধিত স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিপোজিটরি ও সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টির ক্ষেত্রেও নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

এদিকে, 'জেড' শ্রেণির কোম্পানির স্পনসর বা পরিচালকদের শেয়ার লেনদেন ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও কিছুটা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। কমিশনের ২০ মে ২০২৪ সালের এক নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট বিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, ঋণখেলাপির কারণে শেয়ার বাজেয়াপ্ত করা এবং কোনো শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমোদন আর প্রয়োজন হবে না। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জগুলো তাদের প্রযোজ্য তালিকাভুক্তি বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে, যা প্রক্রিয়াকে আরও সরল করবে।

বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ পাঠানোর ক্ষেত্রেও নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছে কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত বা অনুমোদিত লভ্যাংশ পাঠাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ডাবল ট্যাক্সেশন অ্যাভয়ডেন্স (ডিটিএ) সনদ পাওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অর্থ পাঠাতে হবে। একইসঙ্গে, সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের মধ্যেই লভ্যাংশ পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা লভ্যাংশ বিতরণে স্বচ্ছতা ও গতি নিশ্চিত করবে।

স্থানীয় শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে লভ্যাংশ বিতরণ সম্পন্ন হওয়ার পর প্রাথমিক লভ্যাংশ কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট দাখিল করতে হবে। এর পাশাপাশি, বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ পাঠানোর ৩০ দিনের মধ্যে ডিভিডেন্ড কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট কমিশন ও সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দিতে হবে। দেশের পুঁজিবাজারে নতুন আর্থিক পণ্য চালুর উদ্যোগ হিসেবে ডিএসইর ফিন্যান্সিয়াল ডেরিভেটিভস চালুর কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন করেছে বিএসইসি। এই কর্মপরিকল্পনায় নিয়ন্ত্রক উদ্যোগ, ট্রেডিং সিস্টেমের উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি, ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ও আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ