রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

তথ্যের অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করছে হাইকোর্ট: নূরুল কবীরের কড়া মন্তব্য

দেশের বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী নূরুল কবীর। তাঁর অভিযোগ, হাইকোর্ট মানুষকে তথ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে, যা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। সুপ্রিম কোর্টের সামনে সাংবাদিকদের এক অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

শেয়ার করুন:
তথ্যের অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করছে হাইকোর্ট: নূরুল কবীরের কড়া মন্তব্য

দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জনমুখীতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী এবং বিশ্লেষক নূরুল কবীর। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, দেশের সর্বোচ্চ আদালত, বিশেষ করে হাইকোর্ট বিভাগ, নাগরিকদের তথ্যের অধিকার থেকে কৌশলে বঞ্চিত করছে। এই গুরুতর মন্তব্যটি তিনি সুপ্রিম কোর্টের সামনে সাংবাদিকদের এক অবস্থান কর্মসূচিতে দাঁড়িয়ে করেন, যেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছিল। নূরুল কবীরের এই বক্তব্য বিচার বিভাগের কার্যকারিতা ও জনগণের কাছে এর জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নূরুল কবীর তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিচার বিভাগের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা অত্যাবশ্যক। জনগণের তথ্যের অধিকার শুধুমাত্র একটি আইনি বিষয় নয়, বরং এটি সুশাসন ও জবাবদিহিতার মূল ভিত্তি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সংবিধান এবং তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রেই বিচারিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সাধারণ মানুষ বা এমনকি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোও সহজে পায় না। তাঁর মতে, আদালতের বিভিন্ন আদেশ, রায়ের কপি বা কার্যবিধির বিস্তারিত বিবরণ পেতে দীর্ঘসূত্রিতা বা অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে, যা প্রকারান্তরে মানুষকে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার শামিল।

সাংবাদিকদের ওই অবস্থান কর্মসূচিতে নূরুল কবীর বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন জনগণের তথ্যের অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, বিচার ব্যবস্থা যদি নিজেদেরকে জনগণের কাছে আরও বেশি উন্মুক্ত না করে, তাহলে বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি জনআস্থা হ্রাস পেতে পারে, যা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য কখনোই শুভ লক্ষণ নয়। তিনি মনে করেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত হলে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বিচারপ্রার্থীরা আরও আস্থা ও সাহস নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন।

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও নূরুল কবীরের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তারা অভিযোগ করেন, অনেক সময় সাংবাদিকরা বিচার সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বা তথ্য চাইতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হন। আদালতের কিছু নীতি বা প্রথা তথ্যের অবাধ প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে তাদের দাবি। তারা দ্রুত এই অচলাবস্থা নিরসনের জন্য বিচার বিভাগের প্রতি জোর দাবি জানান এবং তথ্যের অধিকার আইনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

নূরুল কবীর তাঁর বক্তৃতায় আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যেমন জরুরি, তেমনি জনগণের কাছে এর জবাবদিহিতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান উপায় হলো তথ্যের অবাধ ও সহজলভ্যতা। তিনি পরামর্শ দেন, আদালতের ওয়েবসাইটে গুরুত্বপূর্ণ সব রায়, আদেশ ও বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত প্রকাশ করা উচিত এবং তথ্য চাওয়া হলে তা দ্রুততার সঙ্গে সরবরাহ করার একটি কার্যকর ও সহজ প্রক্রিয়া চালু করা দরকার। এতে একদিকে যেমন জনগণের হয়রানি কমবে, তেমনি বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নূরুল কবীরের এই মন্তব্য সামগ্রিকভাবে বিচার বিভাগের সংস্কার ও আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। তাদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য সরবরাহ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করা সম্ভব। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আদালতের কার্যবিবরণী ও গুরুত্বপূর্ণ নথি উন্মুক্ত করার মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যেতে পারে। একই সঙ্গে, সাংবাদিকদের জন্য তথ্য প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে আরও সরলীকরণ করা উচিত, যাতে তারা বিচার ব্যবস্থার সঠিক চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেন।

নূরুল কবীরের এই কঠোর বার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল যুগে তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তার এই বক্তব্য বাংলাদেশে বিচার বিভাগের তথ্য প্রাপ্তি সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো এবং এর সমাধানের উপায় নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করার আন্দোলনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছে।

সামগ্রিকভাবে, নূরুল কবীরের বক্তব্য বিচার বিভাগের প্রতি একটি স্পষ্ট আহ্বান, যেন তারা তথ্যের অধিকারকে একটি মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং এর বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এই পদক্ষেপগুলো কেবল বিচার ব্যবস্থার অভ্যন্তরীণ উন্নতিই ঘটাবে না, বরং একটি গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তিকেও আরও মজবুত করবে বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে। এই বিতর্ক নিঃসন্দেহে আগামী দিনে দেশের বিচারিক ও আইনি পরিমণ্ডলে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দেবে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ