মঙ্গলবার, 15 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
সংগীত 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

ডিফ্‌রেন্ট টাচের কালজয়ী গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’র পুনরুত্থান ও মেসবা রহমানের নতুন বার্তা

নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ব্যান্ড ডিফ্‌রেন্ট টাচের কালজয়ী গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এ প্রসঙ্গে ব্যান্ডের ভোকাল মেসবা রহমান তার অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন এবং নতুন গান ও তাদের প্রকাশের কৌশল নিয়েও বিস্তারিত জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন:
ডিফ্‌রেন্ট টাচের কালজয়ী গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’র পুনরুত্থান ও মেসবা রহমানের নতুন বার্তা

নব্বইয়ের দশকের সাড়া জাগানো বাংলা ব্যান্ড ডিফ্‌রেন্ট টাচের কালজয়ী গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ সম্প্রতি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ইউটিউবসহ বিভিন্ন সংগ্রহে থাকা এই গানটি অসংখ্য শ্রোতাকে নস্টালজিক করে তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানটির নতুন করে উত্থান এবং এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ব্যান্ডটির জনপ্রিয় ভোকাল মেসবা রহমান একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি, ব্যান্ডের বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন। এই আলোচনা কেবল গানটির জনপ্রিয়তাকেই পুনরুজ্জীবিত করেনি, বরং নতুন প্রজন্মের কাছেও এর আবেদনকে আরও একবার তুলে ধরেছে।

সাক্ষাৎকারে মেসবা রহমান জানিয়েছেন যে, ডিফ্‌রেন্ট টাচ বর্তমানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত কনসার্ট ও শোতে অংশ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। স্টেজ শোয়ের ক্ষেত্রে গাজীপুর, কুমিল্লা, খুলনা ও বগুড়ার মতো শহরের পাশাপাশি ঢাকার বাইরেও তাদের ব্যস্ততা বেড়েছে। উল্লেখযোগ্য শোয়ের মধ্যে সংসদ ভবনে আয়োজিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কনসার্ট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের পরিবেশনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব পরিবেশনায় শ্রোতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া মিলছে, যা ব্যান্ডকে নতুন গান তৈরির অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।

ব্যান্ডটি বর্তমানে বেশ কিছু নতুন গান নিয়ে কাজ করছে, যা এরই মধ্যে তাদের লাইভ শোতে পরিবেশিত হচ্ছে। মেসবা রহমানের মতে, এসব নতুন গান শ্রোতাদের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী জায়গা করে নেবে, ঠিক যেমন ‘শ্রাবণের মেঘ’, ‘দৃষ্টি প্রদীপ’ বা ‘মন কী যে চায়’ এর মতো তাদের সিগনেচার গানগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। নতুন গান প্রকাশের কৌশল সম্পর্কে তিনি জানান, বর্তমান ডিজিটাল যুগে ভিজ্যুয়াল কনটেন্টের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই ডিফ্‌রেন্ট টাচ তাদের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে নতুন গানগুলোর ভিজ্যুয়াল সংস্করণ প্রকাশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অতীতে লাইভ শোকে বেশি প্রাধান্য দিলেও, এবার তারা ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে তাদের কাজগুলো শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।

‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সে প্রসঙ্গে মেসবা রহমান তার স্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি তিনি সম্প্রতি জানতে পেরেছেন এবং এটিকে কোনো বিব্রতকর ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। বরং তার কাছে এটি একটি প্রাপ্তি যে, ডিফ্‌রেন্ট টাচের গানগুলো নতুন করে ভিন্ন আঙ্গিকে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং এমনকি প্রতিবাদের ভাষা হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই আলোচনা বিতর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে গানটির আবেদনকে আরও জোরালো করেছে। সামাজিক মাধ্যমকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে যেকোনো অনুভূতি প্রকাশ পেতে পারে, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের রিলে কোনো আপত্তিকর বা বিব্রতকর বিষয় তিনি লক্ষ্য করেননি এবং আশা করেন এই বিষয়টি বেশিদূর এগোবে না।

গানটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভের পেছনের গল্প বলতে গিয়ে মেসবা রহমান জানান, সেই সময় বিটিভিই ছিল একমাত্র প্রধান মাধ্যম। ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানটি যখন প্রথম বিটিভিতে একটি ঈদ অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়, তখন থেকেই ব্যান্ডটি সম্পর্কে মানুষ জানতে শুরু করে। এটি তাদের পরিচিতির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এরপর অ্যালবামের যুগে তাদের অ্যালবামটিও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে এবং এভাবেই গানটির জনপ্রিয়তার যাত্রা শুরু হয়, যা আজও সমানভাবে শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যায়।

গান রচনার সময় বৃষ্টির একটি বিশেষ ঘটনার কথা উল্লেখ থাকলেও, মেসবা রহমান গানের সফলতার পেছনে কেবল লেখা আর সুরকে এককভাবে গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তাঁর মতে, কম্পোজিশন বা সঙ্গীতায়োজন একটি বিশাল বিষয় এবং এর সঙ্গে জড়িত সঙ্গীত পরিচালক ও যন্ত্রশিল্পীরাও সমান ভাগীদার। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, গানটির শুরুতেই গিটারের যে বিশেষ সাউন্ড বা পিচ বাজানো হয়, তা থেকেই শ্রোতারা আন্দোলিত হতে শুরু করেন এবং বুঝতে পারেন যে গানটি শুরু হচ্ছে। তাই তিনি মনে করেন, কম্পোজিশনের মান যদি খারাপ হতো, তবে অনেক ভালো গানও সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারত না। ডিফ্‌রেন্ট টাচ ব্যক্তিগতভাবে নয়, বরং ব্যান্ড হিসেবেই এই গানটিকে তাদের সম্মিলিত সৃষ্টি এবং মানুষের পছন্দের বিষয় হিসেবে দেখে, যা তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্ট চলাকালীন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানটি পরিবেশনের সময় দুবার এক অদ্ভুত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছিল। গানটি শুরু করার পরপরই অঝোর ধারায় বৃষ্টি নেমেছিল, যা শ্রোতাদের মাঝে এক ভিন্নরকম উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিল। এই ঘটনা গানটির সাথে প্রকৃতির এক বিশেষ সংযোগেরও ইঙ্গিত দেয়। মেসবা রহমান ও ডিফ্‌রেন্ট টাচের এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, ভালো সঙ্গীত কালের সীমানা পেরিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তার আবেদন ধরে রাখতে পারে। নতুন প্রজন্মের শ্রোতারাও তাদের গানের সাথে নিজেদের যুক্ত করতে পারছে, যা ব্যান্ডের দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের অন্যতম কারণ।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ