বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ Login প্রচ্ছদ আয়োজন দূর পরবাস সফলতা পাঠক সংস্কৃতি ভ্রমণ ছবি দূর পরবাস শারদপ্রাতে কেমব্রিজ দেখা লেখা: জেনিফার বিঞ্জলী ইথার, শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সিটি অব গ্রিনিচ, যুক্তরাজ্য প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২: ০০ কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস বুকে নিয়ে চলছে কেমব্রিজ ছবি: লেখক থেকে সংগৃহীত ছোটবেলায় সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদার গল্প কে পড়েনি? লন্ডনে ফেলুদা গল্প পড়ে কেমব্রিজ শহর দেখার শখ হয়নি, এমন মানুষ পাওয়া যাবে না বোধ হয়। সেই কেমব্রিজ–যাত্রায় বইয়ের পাতার প্রতিটা লাইন যেন জীবন্ত হয়ে উঠছিল। ব্রিটেনের শরৎ আমার ভীষণ প্রিয়। গাছের সবুজ পাতাগুলো ধীরে ধীরে হলুদ, কমলা আর লালচে রং ধারণ করে, ঝরে পড়া পাতায় ঢেকে যায় পথঘাট—প্রকৃতির এই রংবদল আমাকে বরাবরই টানে। তাই শরতের এই সময়ে খুব সকালে কেমব্রিজ দেখতে চলে গেলাম।
সুন্দর শহর কেমব্রিজ। সেখানে ইউনিভার্সিটি দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন ঐতিহ্য নিয়ে। পাশাপাশি অনেকগুলো কলেজ। বিখ্যাত ট্রিনিটি কলেজ, কিংস কলেজ দেখে আশ্চর্যই হতে হয়। শত শত বছরের পুরোনো কলেজগুলো কয়েক শতাব্দীর ইতিহাস বুকে নিয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। সময় বদলেছে, শহর বদলেছে, কিন্তু আধুনিকতার জন্য ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ভেঙে সেখানে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়নি; বরং ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার এই চেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয়।
রিভার ক্যামে পান্টিং করার সময় চোখ ধাঁধিয়ে যায়। যদিও মনে মনে ভাবছিলাম, আমি পদ্মা–যমুনার দেশের মানুষ। আমার কাছে নদীর সংজ্ঞা আলাদা। খরস্রোতা নদী দেখে অভ্যস্ত আমি। কিন্তু ক্যাম নদী আমাকে মুগ্ধ করল অন্য কারণে। পান্টিং করতে করতে চোখে পড়ল না কোনো প্লাস্টিকের স্ট্র কিংবা চিপসের প্যাকেট। নদীর বুকে নেই ইঞ্জিনচালিত নৌকার শব্দ, নেই যান্ত্রিক কোলাহল। নৌকার দাঁড়ের মৃদু শব্দ আর চারপাশের স্নিগ্ধ পরিবেশের মধ্যে নদীটিকে যেন তার নিজের মতো করে বেঁচে থাকতে দেওয়া হয়েছে। নৌকা বাইতে বাইতে নৌকাচালক বলে চললেন কলেজগুলোর প্রাচীন ইতিহাস। একের পর এক উঠে আসছিল বিখ্যাত সব মানুষের নাম, গবেষণা, আবিষ্কার আর নোবেলজয়ীদের কথা। এই নদীর দুই ধারে শুধু ইট-পাথরের প্রাচীন ভবন দাঁড়িয়ে নেই; দাঁড়িয়ে আছে শত শত বছরের জ্ঞানচর্চা, কৌতূহল আর মানুষের অসাধারণ সব অর্জনের স্মৃতি।
কেমব্রিজের সৌন্দর্য শুধু তার ঐতিহাসিক কলেজ, পাথুরে পথ কিংবা ক্যাম নদীর শান্ত পানিতেই সীমাবদ্ধ নয়। শহরটির আরেকটি পরিচয় লুকিয়ে আছে তার জাদু