বৃহস্পতিবার, 9 জুলাই 2026
⚠ ব্রেকিং
ফুটবল 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

বিশ্বকাপ ২০২৬: কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপের দাপট, ছয় দলের ঐতিহাসিক উপস্থিতি

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ইউরোপের বাইরে অনুষ্ঠিত আসরগুলোতে ইউরোপীয় দলগুলোর পারফরম্যান্স নিয়ে একসময় প্রচলিত ছিল এক অলিখিত নিয়ম। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে সেই ধারা ভেঙে শেষ আটে উঠে এসেছে ছয়টি ইউরোপীয় দল, যা ১৯৯৪ সালের পর সেরা সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
বিশ্বকাপ ২০২৬: কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপের দাপট, ছয় দলের ঐতিহাসিক উপস্থিতি

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপীয় দলগুলোর অভূতপূর্ব আধিপত্য দেখা যাচ্ছে, যেখানে শেষ আটে স্থান করে নিয়েছে মোট ছয়টি ইউরোপের দল। একসময় এমন একটি ধারণা প্রচলিত ছিল যে, ইউরোপের দলগুলো মহাদেশের বাইরে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ে খুব একটা সফল হতে পারে না। স্পেন ও জার্মানি সেই ভুল ভেঙে দিলেও, এবার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে শেষ আটে ইউরোপের ছয়টি দলের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্ম দিয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের পর ইউরোপের বাইরে অনুষ্ঠিত কোনো বিশ্বকাপে এটিই ইউরোপীয় দলগুলোর সেরা সাফল্য।

শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ইউরোপের দলগুলো দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। প্রথম দিনেই শক্তিশালী ফ্রান্স প্যারাগুয়েকে পরাজিত করে নিজেদের জায়গা করে নেয়। এরপর চমক দেখিয়ে ব্রাজিলকে হারিয়ে নরওয়ে এবং মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকোকে হারিয়ে ইংল্যান্ডও শেষ আটে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যকার 'অল ইউরোপিয়ান' ম্যাচে স্পেন জয়লাভ করে, অন্যদিকে বেলজিয়াম হারায় বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে। শেষ দিনে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে জিতে সুইজারল্যান্ডও নাম লেখায় কোয়ার্টার ফাইনালে। এভাবেই ফ্রান্স, নরওয়ে, ইংল্যান্ড, স্পেন, বেলজিয়াম এবং সুইজারল্যান্ড—এই ছয়টি ইউরোপীয় দল বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।

১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে ইউরোপ থেকে মোট ১৩টি দল অংশগ্রহণ করেছিল এবং এর মধ্যে সাতটি দল শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছিল। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে ইউরোপের বাইরে থেকে একমাত্র দল হিসেবে খেলেছিল ব্রাজিল এবং শেষ পর্যন্ত তারাই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। বর্তমান বিশ্বকাপে ছয়টি ইউরোপীয় দলের এই সাফল্য সেই সময়ের পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনীয়, যা ইউরোপীয় ফুটবলের ক্রমবর্ধমান শক্তি ও বৈশ্বিক ফুটবলে তাদের প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।

তবে ইউরোপীয় দলগুলোর এই ধারাবাহিক সাফল্য সবসময় ছিল না। ২০০২ সালের দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে শেষ আটে ইউরোপ থেকে মাত্র চারটি দল ছিল। এরপর ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে এই সংখ্যা আরও কমে দাঁড়ায় তিনটিতে, যা শেষ আট পর্যন্ত ইউরোপের দলগুলোর সবচেয়ে খারাপ ফল হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও সেই আসরে শেষ পর্যন্ত ইউরোপের স্পেনই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, যা প্রমাণ করে যে সংখ্যায় কম হলেও গুণগত মানে তারা এগিয়ে ছিল।

২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে ইউরোপ থেকে চারটি দল শেষ আটে খেলেছিল, যা পূর্ববর্তী আসরের চেয়ে কিছুটা উন্নতি নির্দেশ করে। সর্বশেষ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ইউরোপ থেকে কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট ছিল পাঁচটি দল। এই ধারাবাহিক উন্নতিই ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ছয়টি দলের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর পথ প্রশস্ত করেছে, যা বৈশ্বিক ফুটবলে ইউরোপের নিরবচ্ছিন্ন প্রভাবেরই প্রতিচ্ছবি।

পুরো বিশ্বকাপ ইতিহাসের দিকে তাকালে, শেষ আট পর্যন্ত ইউরোপের সেরা সাফল্য ছিল ১৯৩৪ সালের ইতালি বিশ্বকাপে, যেখানে শীর্ষ আটের আটটি দলই ছিল ইউরোপের। এরপর ১৯৫৮ সালের সুইডেন ও ১৯৯৪ সালের যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাতটি ইউরোপীয় দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাতিন আমেরিকার পাশাপাশি আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার দলগুলোও শেষ আটে জায়গা করে নিচ্ছে, যা ফুটবলের বৈশ্বিকীকরণকে নির্দেশ করে।

এই বিশ্বকাপে ইউরোপের বাইরে থেকে শেষ আটে রয়েছে আর্জেন্টিনা ও মরক্কো। উল্লেখযোগ্যভাবে, আফ্রিকার দল হিসেবে মরক্কো টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শেষ আটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে, যা তাদের মহাদেশের ফুটবলের জন্য এক বিশাল অর্জন। ইউরোপের দলগুলোর এই দাপটের মাঝেও আর্জেন্টিনা ও মরক্কোর উপস্থিতি এবারের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে, যেখানে ঐতিহ্য ও নতুনত্বের এক দারুণ মিশেল দেখা যাচ্ছে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ