বৃহস্পতিবার, 9 জুলাই 2026
⚠ ব্রেকিং
ফুটবল 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপ উন্মাদনা: শের-ই-বাংলা হলে বড় পর্দায় খেলা ও ১ টাকায় সিঙারা

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় পর্দায় প্রতিটি ম্যাচ দেখার পাশাপাশি স্পন্সর প্রতিষ্ঠান 'উপায়'-এর সহযোগিতায় ১ টাকায় সিঙারা খাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

শেয়ার করুন:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বকাপ উন্মাদনা: শের-ই-বাংলা হলে বড় পর্দায় খেলা ও ১ টাকায় সিঙারা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলে ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ এই আয়োজনে বড় পর্দায় প্রতিটি ম্যাচ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা খেলার উন্মাদনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর পাশাপাশি, স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ‘উপায়’-এর সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা মাত্র এক টাকায় মুখরোচক সিঙারা উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন, যা এই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ। এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে খেলা দেখার আনন্দ আর প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন প্রকাশ পাচ্ছে এক ভিন্ন মাত্রায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হলের কমনরুমকে বিশ্বকাপ ফুটবলের রঙিন সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা এবং নানা ধরনের সজ্জা পুরো কমনরুমে এক উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে। প্রতিটি ম্যাচ শুরুর আগেই শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় দলের জার্সি পরে কমনরুমে ভিড় জমাতে শুরু করেন, যা একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলার রূপ নেয়। বড় পর্দায় খেলার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার পাশাপাশি, ‘উপায়’ এর সৌজন্যে পাওয়া এক টাকার সিঙারা যেন এই আয়োজনের স্বাদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ একটি কমনরুম পরিণত হয়েছে এক ঝলমলে ফুটবল স্টেডিয়ামের ক্ষুদ্র সংস্করণে, যেখানে তারুণ্যের উচ্ছ্বাস আর ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান এই আয়োজন প্রসঙ্গে বলেন, "বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে সহজাত উচ্ছ্বাস ও উন্মাদনা তৈরি হয়, আমরা চেয়েছি সেটিকে আরও আনন্দময় এবং স্মরণীয় করে তুলতে। বড় পর্দায় খেলা দেখার এই ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। স্পন্সর প্রতিষ্ঠান ‘উপায়’-এর সহযোগিতায় কমনরুমের বিশেষ সাজসজ্জা এবং মাত্র এক টাকায় সিঙারা পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে এই উৎসবের মাত্রাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা আনন্দিত যে আমাদের এই প্রচেষ্টা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দারুণ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পেরেছে।" তার এই বক্তব্যে আয়োজনের উদ্দেশ্য ও সাফল্যের চিত্র ফুটে ওঠে।

হল সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক মো. হাসিবুল ইসলাম এই আয়োজনের সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "বিশ্বকাপ ফুটবল নিছকই একটি খেলা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মিলনমেলা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলার এক অনন্য উপলক্ষ। আমরা চাই সকল শিক্ষার্থী একটি নিরাপদ, আনন্দময় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে একসঙ্গে খেলা উপভোগ করুক। এমন সম্মিলিত আয়োজন কেবল বিনোদনই দেয় না, বরং শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও মজবুত করতে সাহায্য করে। এই ধরনের উদ্যোগ ক্যাম্পাসের সামগ্রিক পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত ও ইতিবাচক করে তোলে।" তার কথায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে একতা ও বন্ধুত্বের বার্তা স্পষ্ট।

প্রতিদিন খেলা শুরুর অনেক আগে থেকেই কমনরুম শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে, হাতে দলের পতাকা নিয়ে শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে হাসিমুখে গল্প-আড্ডায় মেতে ওঠে। বড় পর্দায় ম্যাচের প্রতিটি গোল, প্রতিটি আক্রমণ এবং প্রতিটি সফল ডিফেন্স উদযাপিত হয় সম্মিলিত চিৎকারে ও করতালিতে। এক টাকার সিঙারার সুবাদে খেলা দেখার ফাঁকে হালকা নাস্তার সুযোগও শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সুবিধা নিয়ে এসেছে। সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপকে ঘিরে শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলে একটি প্রাণবন্ত, উৎসবমুখর এবং উষ্ণ আবহ তৈরি হয়েছে, যা ক্যাম্পাসের সাধারণ দিনগুলোকে বিশেষ করে তুলেছে।

হল সংসদ জানিয়েছে যে, ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ আয়োজন অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে খেলার সময়সূচি অনুযায়ী কমনরুমের সময়সীমাও প্রয়োজন অনুযায়ী বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে এ ধরনের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়মিতভাবে করার পরিকল্পনা রয়েছে হল কর্তৃপক্ষের। তাদের লক্ষ্য হলো, কেবল খেলাধুলাই নয়, বরং বিভিন্ন সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ক্যাম্পাসে আরও বেশি প্রাণবন্ত ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই আয়োজন কেবল খেলা দেখার সুযোগ তৈরি করেনি, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক বন্ধন এবং সম্মিলিত অংশগ্রহণের অনুভূতিও জাগিয়ে তুলেছে। বিভিন্ন বিভাগ ও বর্ষের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে বসে খেলা দেখছেন, একে অপরের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন এবং প্রিয় দলের জয়-পরাজয় ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। এটি তাদের মধ্যে একাত্মবোধ তৈরি করছে এবং ক্যাম্পাসের জীবনকে আরও স্মরণীয় করে তুলছে। এই ধরনের উদ্যোগগুলো একাডেমিক চাপের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক সতেজতা এবং সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শের-ই-বাংলা হলের এই দৃষ্টান্ত অন্যান্য হলগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণা হতে পারে, যেখানে ছাত্রকল্যাণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুন্দর ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ