বুধবার, 30 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
জাতীয় 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

নতুন প্রজন্মের প্রতিভা অন্বেষণে ফিরছে ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৬’: আবেদন শুরু অক্টোবরে

দেশের শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী মঞ্চ বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ‘নতুন কুঁড়ি’ আবারও ফিরছে। সামিনা চৌধুরী, ঈশিতা, তারিন, তিশাদের মতো তারকাদের উত্তরসূরি খুঁজতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৬’-এর আবেদন প্রক্রিয়া।

শেয়ার করুন:
নতুন প্রজন্মের প্রতিভা অন্বেষণে ফিরছে ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৬’: আবেদন শুরু অক্টোবরে

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জনপ্রিয় শিশু-কিশোর প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও নতুন রূপে ফিরে আসছে। দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মুখ খুঁজে বের করার এই ঐতিহ্যবাহী প্ল্যাটফর্ম, যা একসময় সামিনা চৌধুরী, তারানা হালিম, রুমানা রশিদ ঈশিতা, তারিন জাহান, মেহের আফরোজ শাওন এবং নুসরাত ইমরোজ তিশার মতো বরেণ্য শিল্পীদের জন্ম দিয়েছে, এবারও নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে ‘নতুন কুঁড়ি ২০২৬’-এর জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, যা চলবে মাসব্যাপী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

বিটিভি কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গান, অভিনয়, নৃত্য, আবৃত্তি, গল্প বলা, কৌতুক, ক্বিরাত এবং হামদ-নাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিযোগীদের বাছাই করা হবে। এরপর বিভাগীয় পর্যায়ের কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত পর্ব এবং ফাইনাল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে রাজধানী ঢাকায়। এই আয়োজনের লক্ষ্য হলো দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা অগণিত সুপ্ত প্রতিভাকে জাতীয় মঞ্চে তুলে আনা এবং তাদের ভবিষ্যৎ সাংস্কৃতিক যাত্রার ভিত্তি স্থাপন করা।

বয়সের ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের দুটি প্রধান শাখায় ভাগ করা হয়েছে। ‘ক’ শাখায় অংশ নিতে পারবে ৬ বছর থেকে ১১ বছরের কম বয়সী শিশুরা, এবং ‘খ’ শাখায় ১১ বছর থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পাবে। এছাড়া, ক্বিরাত প্রতিযোগিতার জন্য একটি স্বতন্ত্র শাখা রাখা হয়েছে, যেখানে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতিযোগীরা অংশ নিতে পারবে। গত ২০২৫ সালের আসরে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ‘ক’ ও ‘খ’ বিভাগে যথাক্রমে টাঙ্গাইলের প্রেয়সী চক্রবর্তী এবং সুনামগঞ্জের শুভমিতা তালুকদার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

‘নতুন কুঁড়ি’র ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ ও পুরোনো। এটি প্রথম শুরু হয়েছিল ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭৬ সালে প্রখ্যাত প্রযোজক মুস্তাফা মনোয়ারের হাত ধরে বিটিভিতে নতুন করে যাত্রা শুরু করে এই অনুষ্ঠান। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশের এই মঞ্চটি ২০০৫ সাল পর্যন্ত নিয়মিতভাবে পরিচালিত হওয়ার পর দীর্ঘ বিরতিতে চলে যায়। এরপর গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, অনুষ্ঠানটি পুনরায় বিটিভির পর্দায় ফিরে আসে এবং ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করে। এই মঞ্চ থেকেই তারানা হালিম, ঈশিতা, তারিন, শাওন, তিশা এবং সামিনা চৌধুরীর মতো অসংখ্য তারকা বিনোদন জগতে নিজেদের পরিচিতি লাভ করেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক কাজী জেসিন এই আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমরা এমন সব কিশোর-কিশোরীকে তুলে আনতে চাই, যারা আগামী দিনের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দেবে। দেশের আনাচকানাচে যার যে প্রতিভা আছে, নিবন্ধনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা সেই প্রতিভাবানদের খুঁজে বের করতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন, “যেহেতু এটি একটি জাতীয় গণমাধ্যম, ফলে নতুন কুঁড়ির মধ্য দিয়ে জাতির মনন গঠনের উপযোগী বিষয়বস্তু সমৃদ্ধ করার দিকটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সারা বিশ্বে জাতীয় গণমাধ্যম যেভাবে পরিবর্তন হয়েছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা বিটিভির পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”

বর্তমান প্রজন্মের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ইউটিউবকেন্দ্রিক হওয়ায় তাদের ‘নতুন কুঁড়ি’র সঙ্গে যুক্ত করা একটি চ্যালেঞ্জ। এই বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী জেসিন জানান, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি দেশের প্রান্তিক পর্যায়েও প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে নতুন কুঁড়ির সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক প্রচারণার মাধ্যমে দেশের সকল প্রান্তের প্রতিভাবান শিশুরা এই মঞ্চে আসার সুযোগ পাবে।

‘নতুন কুঁড়ি’ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ সাংস্কৃতিক ভিত্তি গড়ার একটি মহৎ উদ্যোগ। এই আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী এই মঞ্চ থেকে এবার কারা নতুন তারকা হিসেবে উঠে আসে এবং সামিনা চৌধুরী বা ঈশিতার মতো কিংবদন্তিদের উত্তরসূরি হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করে, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে দেশবাসী।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ