বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ Login বন্ধুদের লেখা কার্যক্রম ফিচার খেলা ক্যারিয়ার মনোবন্ধু ফটো ফিচার বন্ধুসভা সম্পর্কে ফিচার চা-বাগান থেকে ‘মুল্লুকে চলো’—কী ঘটেছিল ১৯২১ সালে লেখা: মুসাভভির সাকির প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ০০ চা-বাগানে কাজ করছে শ্রমিকেরা ছবি: সংগৃহীত সিলেটের সবুজ চা-বাগান বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু এই সবুজের আড়ালে রয়েছে ঔপনিবেশিক শোষণ, দূরদূরান্ত থেকে শ্রমিক এনে বসতি গড়ানো এবং অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। উনিশ শতকের মাঝামাঝি বাণিজ্যিক চা চাষের সূচনা থেকে ১৯২১ সালের ‘মুল্লুকে চলো’ আন্দোলন পর্যন্ত প্রায় সাত দশকে সিলেটের চা–বাগানগুলো শুধু একটি অর্থনৈতিক শিল্পে পরিণত হয়নি, এখানে গড়ে উঠেছিল একটি স্বতন্ত্র শ্রমিক সমাজও।
বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ‘সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগান ১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৮৫৭ সালে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন শুরু হয়।’ সংগঠনটির ইতিহাসবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, এটিই তৎকালীন পূর্ববঙ্গের বাণিজ্যিক চা–শিল্পের অন্যতম প্রাথমিক কেন্দ্র।
অন্যদিকে বাংলাপিডিয়ার ‘টি ইন্ডাস্ট্রি’ নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘চট্টগ্রামে ১৮৪০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চা চাষ শুরু হলেও সিলেটের সুরমা উপত্যকাই পরে পূর্ববঙ্গের প্রধান চা উৎপাদন অঞ্চলে পরিণত হয়।’
চা-বাগান বাড়তে থাকলেও দেখা দেয় শ্রমিকের সংকট। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বড় অংশকে দীর্ঘ সময়ের চা চাষের কাজে নিয়োগ করা কঠিন হওয়ায় ব্রিটিশ বাগানমালিকেরা ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিক সংগ্রহ করতে শুরু করেন। গবেষণাভিত্তিক ইতিহাসে ছোটনাগপুর, বিহার, ওডিশা, মধ্যপ্রদেশ ও বর্তমান অন্ধ্র প্রদেশ অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শ্রমিক নিয়োগের কথা পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে মুন্ডা, সাঁওতাল, ওঁরাও, হো, গন্ডসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ ছিলেন।
‘টি গার্ডেন কমিউনিটির’ ইতিহাসবিষয়ক সংকলনে এই নিয়োগকে কঠোর চুক্তিনির্ভর শ্রমব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এবং শ্রমিক সংগ্রহে ‘আরকাট্টি’ বা নিয়োগকারী দালালদের প্রতারণা ও জবরদস্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রমিকদের মজুরি প্রদান করা হচ্ছে ছবি: সংগৃহীত শ্রমিকদের জীবনও ছিল কঠিন। চা–বাগানের সঙ্গে তাঁদের বসতি গড়ে উঠত এবং কাজ, বাসস্থান ও দৈনন্দিন জীবন অনেকাংশে বাগান কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ত। ঔপনিবেশিক শ্রমব্যবস্থায় চুক্তি ভঙ্গের জন্য শাস্তির বিধানও ছিল। গবেষণামূলক সূত