Login সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও খুঁজুন ই-পেপার Eng Login কলাম এম সাখাওয়াত হোসেনের কলাম শ্রম আইন: কাগজ থেকে কারখানার বাস্তবতায় এম সাখাওয়াত হোসেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ২৫ বাংলাদেশের শ্রম আইনে শ্রমিক অধিকারের বিষয়টি অনেকটাই উপেক্ষিত থেকে যায় ফাইল ছবি বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন আর আইন পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো সংশোধিত আইনে যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, শ্রমিক বাস্তবে কতটা তা ভোগ করতে পারবেন।
ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার থাকলেও যদি ইউনিয়ন করতে গিয়ে চাকরি হারানোর ভয় থাকে, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি নিষিদ্ধ হলেও অভিযোগের নিরাপদ ব্যবস্থা যদি না থাকে, নিরাপত্তার বিধান থাকলেও পরিদর্শন ও শাস্তি যদি কার্যকর না হয়, তাহলে আইনের পরিবর্তন শ্রমিকের জীবনে কতটা পরিবর্তন আনবে?
এই প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ২০০৬ সালের শ্রম আইন থেকে ২০২৬ সালের সংশোধিত কাঠামোতে পৌঁছাতে বাংলাদেশকে দীর্ঘ ও জটিল পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। ২০০৬ সালের আইনে কর্মসংস্থান, মাতৃত্ব, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, মজুরি, ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তিসহ শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু কেবল আইন প্রণয়নেই সেই যাত্রা শেষ হতে পারে না।
আরও পড়ুন অভ্যুত্থানের পরও গুলি করে শ্রমিক হত্যা কেন ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর শ্রমিকের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তীব্র হয়। সাভারে ভবনধসে ১ হাজার ১৩৪ জন শ্রমিক নিহত এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন আহত হওয়ার ঘটনা বিশ্ববাজারের সামনে আমাদের শিল্প খাতকে এক বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। একই বছর শ্রম আইনে বড় ধরনের সংশোধন এনে জরুরি বহির্গমন, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, নিরাপত্তা কমিটি ও ট্রেড ইউনিয়ন–সংক্রান্ত নতুন বিধান যুক্ত করা হয়। ২০১৮ সালেও আইনে আবার সংশোধন আনা হয়।
তা সত্ত্বেও শ্রমিকের সংগঠিত হওয়ার অধিকার, শ্রম পরিদর্শন এবং সম্মিলিত দর-কষাকষি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অসন্তোষ থেকে যায়। ২০১৯ সালে কয়েকটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন আইএলওর সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদের আওতায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করে। অভিযোগের কেন্দ্রে ছিল শ্রম পরিদর্শন, সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা এবং ৮১, ৮৭ ও ৯৮ নম্বর কনভেনশন