সোমবার, 28 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
জাতীয় 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

চট্টগ্রামের মুরাদপুর পদচারী-সেতু: জনভোগান্তির নতুন ঠিকানা, অবৈধ দখলের বেড়াজাল

চট্টগ্রামের মুরাদপুর মোড়ের ব্যস্ততম পদচারী-সেতুটি এখন অবৈধ দোকানের দখলে। সিঁড়ি থেকে শুরু করে সেতুর মূল পথ পর্যন্ত পসরা সাজিয়ে বসেছে হকাররা, যা পথচারীদের জন্য নিত্যদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোটির মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।

শেয়ার করুন:
চট্টগ্রামের মুরাদপুর পদচারী-সেতু: জনভোগান্তির নতুন ঠিকানা, অবৈধ দখলের বেড়াজাল

চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যতম ব্যস্ততম এলাকা মুরাদপুর মোড়ের পদচারী-সেতুটি বর্তমানে পথচারীদের জন্য এক অবর্ণনীয় ভোগান্তির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। জননিরাপত্তা ও যানজট নিরসনে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি বর্তমানে অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়ে তার মূল উদ্দেশ্য হারাতে বসেছে। সেতুটির সিঁড়ি এবং সেতুর ওপরের মূল চলাচলের পথ — সর্বত্রই ছোট ছোট দোকানপাট ও পসরা সাজিয়ে বসেছে হকাররা, যা পথচারীদের জন্য চরম বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র থেকে শুরু করে নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে সেখানে, ফলে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

সেতুতে ওঠার মুখেই দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকান, যা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে যাওয়া পথচারীদের জন্য প্রথম বাধা সৃষ্টি করে। এরপর সিঁড়ির ধাপে ধাপে এবং সেতুর মূল হাঁটার পথেও একই চিত্র। বিক্রেতারা তাদের পণ্যসামগ্রী নিয়ে এমনভাবে বসে আছেন যে, পথচারীদের জন্য সামান্য ফাঁক দিয়ে যাতায়াত করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং নারী ও শিশুরা এই অব্যবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সেতুর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে যেখানে কয়েক মিনিট লাগার কথা, সেখানে এই দোকানপাটের ভিড়ের কারণে দ্বিগুণ বা তারও বেশি সময় লাগছে এবং প্রতিনিয়ত ধাক্কাধাক্কি লেগেই থাকছে।

মুরাদপুর মোড় চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও জনবহুল এলাকা। এই মোড় দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে এবং অসংখ্য যানবাহন আসা-যাওয়া করে। সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে এবং যানজট নিরসনে এই পদচারী-সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল, যাতে পথচারীরা নিরাপদে সড়ক পারাপার হতে পারে। কিন্তু বর্তমানে এই সেতুটি নিজেই একটি যানজটের ক্ষুদ্র সংস্করণ হয়ে উঠেছে, যেখানে মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সেতুর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। পথচারীরা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতুর বদলে নিচ দিয়ে রাস্তা পারাপার হওয়ার চেষ্টা করছেন, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

এই অবৈধ দখলের কারণে কেবল চলাচলের সমস্যাই নয়, সেতুর সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে। দোকানপাট বসার কারণে আবর্জনা ও বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বেড়ে যায়, যা সেতুর ওপর এবং আশেপাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। অনেক সময় দেখা যায়, বিক্রেতারা তাদের বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখছেন, যা দুর্গন্ধে পথচারীদের জন্য আরও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া, এই অস্থায়ী দোকানগুলোর কারণে ছিনতাই বা পকেটমারির মতো অপরাধ প্রবণতাও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, কারণ ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সহজেই তাদের কার্যসিদ্ধি করতে পারে।

অথচ, এই জনগুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ন্যস্ত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ দখলদারিত্ব চলতে থাকলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয় জনগণ ও ভুক্তভোগীরা বলছেন, মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও তা সাময়িক এবং কিছুদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতা এবং দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থার কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এই সমস্যা কেবল মুরাদপুর মোড়ের পদচারী-সেতুতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের বিভিন্ন শহরেই এমন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবৈধ দখলদারিত্বের চিত্র দেখা যায়। ফুটপাত, সড়ক এবং পদচারী-সেতুর মতো গণপরিসরগুলো যখন ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তখন তা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তি বয়ে আনে। এই ধরনের পরিস্থিতি নগর পরিকল্পনার দুর্বলতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবকেই প্রকটভাবে তুলে ধরে। একটি আধুনিক ও জনবান্ধব নগরী গঠনে এ ধরনের সমস্যা নিরসন অত্যন্ত জরুরি।

সাধারণ পথচারীরা আকাশ বাণীকে জানান, তারা এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে চান এবং চান যে পদচারী-সেতুটি তার মূল উদ্দেশ্য নিয়ে সচল থাকুক। তারা সিটি কর্পোরেশন, ট্রাফিক পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে এই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সেতুর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক। শুধু উচ্ছেদ নয়, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের দখলদারিত্ব আর না ঘটে, সে বিষয়েও স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জনগণের সুবিধার্থে নির্মিত এই অবকাঠামোটিকে আবারও জনবান্ধব করে তুলতে এবং নগরীর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মুরাদপুর পদচারী-সেতু যেন আর ভোগান্তির প্রতীক না হয়ে, পথচারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াতের মাধ্যম হয়ে ওঠে, সেটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ