বৃহস্পতিবার, 24 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমে জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরিফ

গতবার প্রিলিমিনারিতে ব্যর্থ হয়েও ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) সিভিল জজ পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আরিফ উল করিম সিয়াম। তার এই অসামান্য সাফল্য কঠোর অধ্যবসায় ও দৃঢ় সংকল্পের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

শেয়ার করুন:
অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমে জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরিফ

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) সিভিল জজ পদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আরিফ উল করিম সিয়াম। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত ফলাফলে এই অসামান্য সাফল্যের খবরটি নিশ্চিত হয়, যা তার দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফসল। আরিফের এই অর্জন কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং অসংখ্য স্বপ্নচারী শিক্ষার্থীর জন্য এক নতুন প্রেরণার উৎস, বিশেষত যারা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কঠিন পথে হেঁটে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে চান।

আরিফ উল করিমের এই সাফল্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে যখন জানা যায় যে, তিনি এর আগের ১৭তম বিজেএস পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি ধাপও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। সেই ব্যর্থতা তাকে দমাতে পারেনি; বরং তা তার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে। একটি ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে দেশের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অর্জন করা নিঃসন্দেহে অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা ও অধ্যবসায়ের পরিচায়ক। তার এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, প্রকৃত সাফল্য অর্জনের জন্য মেধা যেমন জরুরি, তেমনি প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস, ধৈর্য এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়ার মানসিকতা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন আরিফ উল করিম। নওগাঁর সন্তান আরিফ তার শিক্ষাজীবনেও মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। স্নাতকে তিনি ৩.৬৬ সিজিপিএ অর্জন করেন এবং স্নাতকোত্তরে তার সিজিপিএ ছিল ৩.৬৪। একাডেমিক ক্ষেত্রে তার এই ধারাবাহিক সাফল্য বিজেএস পরীক্ষায় তার অসাধারণ ফলাফলের ভিত্তি স্থাপন করেছিল। তার এই অর্জন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দীর্ঘদিনের সুনামকে আরও উজ্জ্বল করেছে এবং নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে একটি আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আরিফ উল করিম মহান আল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার যতটুকু সামর্থ্য ছিল, তা দিয়ে সর্বাত্মক ভালো করার চেষ্টা করেছেন। বাবা-মা এবং তার হবু জীবনসঙ্গীর গর্বের কারণ হওয়ার যে স্বপ্ন তিনি লালন করতেন, সেই ভাবনা তাকে বারবার ঘুরে দাঁড়াতে শক্তি যুগিয়েছে। যদিও তিনি এত ভালো ফল হবে বলে আশা করেননি, তবে তার ধৈর্যশীল প্রস্তুতি এবং লক্ষ্য অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাকে এই শিখরে পৌঁছে দিয়েছে। তিনি সকল পরীক্ষার্থীকে ধৈর্য না হারিয়ে নিরন্তর প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এই দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং যাত্রায় আরিফ তার শিক্ষক, বন্ধু, মা-বাবা এবং হবু জীবনসঙ্গীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তার শৈশবের একটি স্মৃতিচারণ করে আরিফ জানান, নওগাঁয় শিক্ষাজীবনের একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রথম হয়ে তিনি বাবাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিলেন। সেই দিনই তিনি মা-বাবার গর্ব হওয়ার সংকল্প করেছিলেন। আজ আবার মা-বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে পারার আনন্দ তার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই আবেগঘন মুহূর্তটি তার কঠোর পরিশ্রম এবং পারিবারিক বন্ধনের গভীরতাকে প্রতিফলিত করে।

উল্লেখ্য, গত বছর বাদে টানা চারবার বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। আরিফ উল করিমের এই সাফল্য সেই ঐতিহ্যবাহী ধারাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। এটি কেবল আরিফের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের মেধার এক উজ্জ্বল প্রমাণ। এই ধারাবাহিক সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক বিরাট গর্বের বিষয়।

আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাঈদা আঞ্জু আরিফের সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আরিফ একজন ভালো ছাত্র ছিল এবং তার এই অর্জন কঠোর পরিশ্রমেরই ফল। তিনি আরও জানান যে, আরিফ ছাড়াও বিভিন্ন ব্যাচ থেকে আরও অনেক শিক্ষার্থীর সাফল্যের তালিকা তাদের হাতে আসছে, যা অবশ্যই অত্যন্ত খুশির সংবাদ। অধ্যাপক সাঈদা আঞ্জু আরিফের এই সাফল্যকে আইন বিভাগ এবং সমগ্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের বলে অভিহিত করেন, যা ভবিষ্যতে আরও অনেক শিক্ষার্থীকে অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ