বৃহস্পতিবার, 24 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা

হারানো পাসপোর্ট পুনঃইস্যুতে কঠোর নতুন বিধিমালা: দ্বিতীয়বার হারালে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়া পাসপোর্টের পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এখন থেকে অনলাইনে রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক এবং দ্বিতীয়বার বা পরবর্তী প্রতিবার পাসপোর্ট হারালে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। নতুন এই বিধিমালা ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।

শেয়ার করুন:
হারানো পাসপোর্ট পুনঃইস্যুতে কঠোর নতুন বিধিমালা: দ্বিতীয়বার হারালে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি হারানো, চুরি বা কোনো কারণে নষ্ট হওয়া পাসপোর্টের পুনঃইস্যুর বিষয়ে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভবিষ্যতে পাসপোর্ট হারানো বা চুরি হওয়ার পর তা পুনঃইস্যুর আবেদন করার আগে অনলাইনে রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইসঙ্গে, দ্বিতীয়বার বা পরবর্তী প্রতিবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়ার ঘটনায় নির্ধারিত সরকারি ফির অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপের বিধান রাখা হয়েছে, যা পাসপোর্ট সেবায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে গত সোমবার এই সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয় এবং এটি জারির দিন থেকেই অর্থাৎ ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।

উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়া পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর ক্ষেত্রে মোট ১২টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হওয়ার বিষয়টি অনতিবিলম্বে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট বা অনলাইনে রিপোর্ট করতে হবে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে অধিদপ্তর পাসপোর্টের স্ট্যাটাস দ্রুত হালনাগাদ করবে, যা জালিয়াতি প্রতিরোধে সহায়ক হবে। অনলাইন রিপোর্টিং এর পাশাপাশি আবেদনকারীকে নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করতে হবে। সংশ্লিষ্ট থানা জিডির সঠিকতা যাচাই করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেই প্রতিবেদন পাসপোর্ট অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে পাঠাবে।

যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জিডির প্রতিবেদন পাওয়া না যায়, সেক্ষেত্রে জিডির কপি দিয়েই পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর আবেদন করা যাবে। এমন পরিস্থিতিতে, অধিদপ্তর একটি 'লস্ট সার্কুলার' জারি করে পুনঃইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদনকারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব এড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া, যদি জিডি যাচাইয়ে প্রমাণিত হয় যে ভিসা পাওয়ার জন্য কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ট্রাভেল এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছিল এবং তা অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাওয়া সম্ভব না হলে আগের পাসপোর্ট বাতিল করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করার বিধান রাখা হয়েছে। এটি বিশেষত বিদেশে গমনাগমনের ক্ষেত্রে ভোগান্তির শিকার হওয়া ব্যক্তিদের জন্য একটি স্বস্তির খবর।

হারানো বা চুরি যাওয়া পাসপোর্টের তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ ইমিগ্রেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (আইএমএস) তা হালনাগাদ করবে। এই দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে চুরি যাওয়া পাসপোর্টের অপব্যবহার রোধ করা যাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ইন্টারপোলকে বিষয়টি অবহিত করা হবে, যা আন্তর্জাতিক স্তরে নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং মানব পাচার বা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে পাসপোর্টের অপব্যবহারের ঝুঁকি কমাবে। এই সমন্বিত উদ্যোগ পাসপোর্ট সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিদেশে অবস্থানের সময় পাসপোর্ট হারানো, চুরি কিংবা বিনষ্ট হলে অনলাইনে রিপোর্ট করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস, হাইকমিশন বা কনস্যুলেটকে জানাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মিশন এরপর 'লস্ট সার্কুলার' জারি করে পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে, যাতে বিদেশে থাকা প্রবাসীরা দ্রুত নতুন পাসপোর্ট হাতে পান। নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; হারানো, চুরি কিংবা বিনষ্ট পাসপোর্টের পরিবর্তে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করা হলে এর ডেটা পেজে পাসপোর্ট হারানোর বিষয়টি উল্লেখ থাকবে। একই সঙ্গে ডেটাবেজে আগের পাসপোর্টের হারানো বা বাতিল হওয়ার তথ্য হালনাগাদ করতে হবে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

পাসপোর্ট পুনঃইস্যুর সময় আবেদনকারীর মৌলিক পরিচয়, যেমন নাম, জন্মতারিখ, মাতা-পিতার নাম সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা যাবে না। তবে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত সংশোধনের বিষয়গুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে, যা যুক্তিসঙ্গত পরিবর্তনের সুযোগ রাখে। পরিপত্রে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে; পাসপোর্টের শনাক্তযোগ্য অংশ আবেদনকারীর কাছে থাকলে তা সমর্পণের ভিত্তিতে পুনঃইস্যু করা যাবে। তবে যদি সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়ে যায় বা পরিচয় শনাক্ত করার মতো কোনো অংশ প্রদর্শন করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

কোনো পাসপোর্ট হারানো কিংবা চুরি হিসেবে রিপোর্ট করার পর তা বাতিল করা হলে পরবর্তী সময়ে পাওয়া গেলেও তা আবার সক্রিয় করা কিংবা বিদেশভ্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। এ ধরনের পাসপোর্ট পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে কাছের থানায় এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে জানাতে হবে। বিদেশে অবস্থান করলে সংশ্লিষ্ট মিশনকে অবহিত করতে হবে। এই নিয়ম পাসপোর্টের অপব্যবহার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাসপোর্ট হারানো বা চুরির ক্ষেত্রে জরিমানার বিষয়েও নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে: প্রথমবার পাসপোর্ট হারানো, চুরি বা বিনষ্ট হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট ফির বাইরে কোনো জরিমানা দিতে হবে না। তবে পরবর্তী সময়ে প্রতিবার হারানো, চুরি কিংবা বিনষ্ট হওয়ার ঘটনায় নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে, যা নাগরিকদের পাসপোর্ট সংরক্ষণে আরও দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করবে।

এই নতুন নির্দেশনাগুলো পাসপোর্ট সেবাকে আরও সুসংগঠিত, নিরাপদ এবং স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হওয়ার ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে, তেমনি অন্যদিকে বারবার পাসপোর্ট হারানোর প্রবণতাও নিরুৎসাহিত হবে। সরকারের এই পদক্ষেপ আধুনিক পাসপোর্ট ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ