শুক্রবার, 2 অক্টোবর 2026
⚠ ব্রেকিং
ফুটবল 🇧🇩 বাংলা

ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সংস্কারে আগ্রহী ইনফান্তিনো: আস্থা ফেরাতে নতুন প্রস্তাব

বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিলের পর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার একটি স্বাধীন পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। সদস্য দেশগুলোর আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং নিজের অবস্থান সুসংহত করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। এতে বিশ্ব ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পুনর্বিবেচনা করা হবে।

শেয়ার করুন:
ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সংস্কারে আগ্রহী ইনফান্তিনো: আস্থা ফেরাতে নতুন প্রস্তাব

বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার একটি স্বাধীন পর্যালোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সম্প্রতি একটি বিতর্কিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর সদস্য দেশগুলোর আস্থা ফিরে পেতে এবং নিজের অবস্থানকে আরও সুসংহত করতে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন। ফিফা কাউন্সিল এবং ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে ইনফান্তিনো তার এই প্রস্তাবনা তুলে ধরেন, যা বিশ্ব ফুটবলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চিঠিতে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো উল্লেখ করেছেন, তিনি কাউন্সিলকে জিজ্ঞেস করবেন যে, তারা ফিফার প্রধান কৌশলগত উদ্যোগের পরিচালন কাঠামোর ওপর কোনো স্বাধীন বহিরাগত পর্যালোচনা কমিশন গঠন করতে ইচ্ছুক কিনা। এই কমিশনের মূল কাজ হবে সংস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে সম্ভাব্য সুপারিশমালা প্রদান করা। এর পাশাপাশি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে তিনি বিভিন্ন কনফেডারেশন, সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার প্রস্তাবও দিয়েছেন। তার এই উদ্যোগ ফিফার অভ্যন্তরীণ কার্যকারিতায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

প্রস্তাবিত এই পর্যালোচনা মূলত বিশ্ব ফুটবলের বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে। এক্ষেত্রে ফিফা সভাপতি, ব্যুরো, কাউন্সিল এবং কংগ্রেসের স্বতন্ত্র ভূমিকা পর্যবেক্ষণ করা হবে। ইনফান্তিনো জোর দিয়েছেন যে, এই পর্যালোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা ফিফার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে, ফিফা বিশ্বকাপের মতো শীর্ষস্থানীয় টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির একটি প্রস্তাব দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ইনফান্তিনো। উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং কনকাকাফের মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক সংস্থাগুলো এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে এবং বয়কটের হুমকি দিলে গত জুলাই মাসে সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হন তিনি। এরপর ফুটবলের এই আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবিও তোলে, যা ইনফান্তিনোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

আগামী মার্চে মরক্কোর রাবাতে ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। যদিও ইনফান্তিনোর বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দাঁড় করাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন ইনফান্তিনোর ভালোভাবেই আছে। ফলে বিরোধীরা এখন সভাপতি বদলানোর চেয়ে তার একক ক্ষমতার ওপর লাগাম টানার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে এবং এই সংস্কার প্রস্তাব সেই প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাতিল হওয়া বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ইনফান্তিনো তার চিঠিতে ব্যাখ্যা করেছেন যে, ফিফা নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সামান্য অংশ বিক্রি করে ফুটবল উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব কিনা, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছিল। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ক্রীড়াসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করার চিন্তা ফিফা সভাপতির ছিল না। তার মতে, এটি কেবল একটি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ ছিল, যা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

তবে, এই পুরো প্রস্তাবটি কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কাছে বিশদভাবে উপস্থাপন করার আগেই জনসমক্ষে চলে আসে, যা ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করে। ইনফান্তিনো তার চিঠিতে স্বীকার করেছেন, পুরো প্রেক্ষাপট না জানার কারণে এটি উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে এবং সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে নেওয়া হয়ে গেছে বলে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, বাস্তবে কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এটি কেবল একটি প্রস্তাব ছিল, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় এবং কাউন্সিল ও সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সম্মতির ওপরই এর বাস্তবায়ন নির্ভর করছিল। বর্তমানে এটি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং এটি নিয়ে আর কোনো কাজ হবে না বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত কারা নেবেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মতামত পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন ফিফাপ্রধান। কারও মতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ফিফা ব্যুরোর সর্বসম্মত সম্মতির ভিত্তিতে হওয়া উচিত, আবার কেউ কেউ বিষয়টি সরাসরি কংগ্রেস ও সদস্যদেশগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষপাতী। ইনফান্তিনো লিখেছেন, তার কাজ কোনো আলোচনার আগেই রায় দিয়ে দেওয়া নয়। যারা নির্দিষ্ট কোনো মডেল সমর্থন করেন, তাদের নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাওয়া উচিত। আগামী ১৫ অক্টোবরের কাউন্সিল মিটিংয়ের আগেই প্রস্তাবগুলো জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর প্রস্তাবগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করা হবে। তবে, ফিফার সংবিধানে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে তা অবশ্যই কংগ্রেসের অনুমোদন পেতে হবে, যা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ