রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
অপরাধ 🇧🇩 বাংলা

কিশোর অপ্রতিম হত্যার বিচার দাবিতে কুবি শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ স্থগিত, প্রশাসনের আশ্বাসে স্বস্তি

কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। প্রায় চার ঘণ্টা ব্যাপী এই অবরোধে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা তাদের ৪ দফা দাবি জানিয়ে অবরোধ স্থগিত ঘোষণা করে।

শেয়ার করুন:

কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের ডাকা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি অবশেষে স্থগিত করা হয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধ জনজীবনে তীব্র ভোগান্তি সৃষ্টি করলেও, প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করলে ঢাকা-চট্টগ্রাম উভয় দিকেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে ফেলে।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে স্থানীয় একটি গ্যাংয়ের হাতে নির্মমভাবে খুন হন ১৬ বছর বয়সী কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম। অপ্রতিম ছিলেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, যা কুমিল্লাজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই শিক্ষার্থীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়ে ওঠে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হলেও, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই বিষয়ে কার্যকর কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়েই মহাসড়ক অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিতে নেমে আসে।

আজ সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তারা অপ্রতিমের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে নিয়ে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘অপ্রতিম হত্যার বিচার চাই’, ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই’— এমন বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত ছিল অবরোধস্থল। অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যেখানে আটকে পড়ে শত শত যানবাহন। এতে জরুরি সেবার গাড়িগুলোকেও বিপাকে পড়তে দেখা যায় এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়। প্রথমত, ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, নিহত অপ্রতিমের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এবং এর আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। চতুর্থত, এই মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে একটি দৃষ্টান্তমূলক রায় প্রদান করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

অবরোধ চলাকালীন সময়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা শিক্ষার্থীদের সাথে দফায় দফায় আলোচনা করেন। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রতিনিধি দলের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয় যে, তাদের প্রতিটি দাবি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।

প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর, শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল তাদের সহপাঠীদের সাথে পরামর্শ করে অবরোধ স্থগিতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রশাসন তাদের দাবিগুলো পূরণে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে তারা আবারও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। তবে, আপাতত প্রশাসনের আশ্বাসের প্রতি আস্থা রেখে তারা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

এই অবরোধ স্থগিত হলেও, অপ্রতিম হত্যার বিচার এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখনো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সংবেদনশীল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে যাতে দ্রুততম সময়ে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন ও বিচার সম্পন্ন হয়। একই সাথে, ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ও আশেপাশে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তারা উল্লেখ করে। এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ