শুক্রবার, 18 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
অপরাধ 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

পুত্রবধূকে কোপাতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে কুপিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ: নাটোরের মর্মান্তিক ঘটনা

নাটোরের বড়াইগ্রামে এক মর্মান্তিক পারিবারিক কলহের জেরে পুত্রবধূকে কোপাতে বাধা দেওয়ায় নিজের স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছেন এক ব্যক্তি। অভিযুক্ত স্বামী নুরুল ইসলাম নিজেই থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আহত স্ত্রী রওশন আরাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:
পুত্রবধূকে কোপাতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে কুপিয়ে থানায় আত্মসমর্পণ: নাটোরের মর্মান্তিক ঘটনা

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় এক ভয়াবহ পারিবারিক বিবাদের জেরে পুত্রবধূকে আঘাত করতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম করে থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন এক ব্যক্তি। শুক্রবার সকালে বড়াইগ্রামের জলন্দা গ্রামে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নুরুল ইসলাম (৫৫), যিনি তার স্ত্রী রওশন আরাকে (৪২) নির্মমভাবে কুপিয়ে আহত করার পর নিজেই পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছেন। মারাত্মক জখম নিয়ে রওশন আরাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তার জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার সূত্রপাত হয় পারিবারিক কলহ থেকে, যা দীর্ঘদিন ধরে নুরুল ইসলামের পরিবারে বিরাজ করছিল। নুরুল ইসলামের ছেলে রাসেল আহমেদ প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর প্রথম স্ত্রী অভিযোগ দায়ের করলে রাসেল তার চাকরি হারান। ছেলের চাকরি হারানোর জন্য নুরুল ইসলাম তার প্রথম পুত্রবধূকে দায়ী করে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন। শুক্রবার সকালে এই পারিবারিক বিরোধ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে যখন নুরুল ইসলাম তার প্রথম পুত্রবধূর সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এক পর্যায়ে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, নুরুল ইসলাম একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুত্রবধূকে আঘাত করতে উদ্যত হন।

ঠিক সেই মুহূর্তে, মানবিকতার টানে এবং পুত্রবধূকে বাঁচাতে নুরুল ইসলামের স্ত্রী রওশন আরা স্বামীকে বাধা দেন। তিনি প্রাণপণে চেষ্টা করেন স্বামীকে শান্ত করতে এবং পুত্রবধূকে রক্ষা করতে। কিন্তু ক্ষিপ্ত নুরুল ইসলাম স্ত্রীর এই বাধাকে মেনে নিতে পারেননি। রাগে অন্ধ হয়ে তিনি পুত্রবধূকে আঘাত করার পরিবর্তে নিজের স্ত্রীর ওপরই ঝাঁপিয়ে পড়েন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে রওশন আরাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন, যার ফলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। স্ত্রীর ওপর এমন বর্বর হামলা চালানোর পর নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং কিছুক্ষণ পরই বড়াইগ্রাম থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

ঘটনার আকস্মিকতা ও ভয়াবহতায় প্রতিবেশীরা হতবাক হয়ে যান। রওশন আরার আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু আঘাতের গভীরতা বিবেচনা করে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানা গেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জলন্দা গ্রামের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।

আহত রওশন আরার ভাই জরিফ উদ্দিন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে, ঠান্ডা মাথায় এবং পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার বোনকে কোপানো হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, নুরুল ইসলাম প্রথমে তার পুত্রবধূকে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন এবং তার বোন বাধা দিতে গেলে তাকেই নির্মমভাবে কুপিয়ে আহত করা হয়। জরিফ উদ্দিন আরও উল্লেখ করেন যে, তার বোনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর কাটা জখম হয়েছে এবং তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নুরুল ইসলাম নিজেই থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছেন। আহত রওশন আরার ভাই জরিফ উদ্দিন বাদী হয়ে নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার ভিত্তিতে নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার পেছনের সমস্ত কারণ খতিয়ে দেখছে। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনা আবারও পারিবারিক সহিংসতা এবং পারিবারিক কলহের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সামান্য বিরোধ কিভাবে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে, এই ঘটনা তার এক নির্মম দৃষ্টান্ত। স্থানীয় প্রশাসন এবং সামাজিক সংগঠনগুলো এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পারিবারিক কাউন্সেলিং এবং সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রওশন আরার সুস্থতা কামনা করছেন এলাকাবাসী এবং অভিযুক্ত নুরুল ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ