শনিবার, 19 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
অপরাধ 🇧🇩 বাংলা

রাজধানীর কদমতলীতে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: তালাবদ্ধ কক্ষের খাটের নিচে স্ত্রীর গলাকাটা মরদেহ, স্বামী পলাতক

রাজধানীর কদমতলীতে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২৫ বছর বয়সী ইয়ানূর বেগম। শুক্রবার দুপুরে তালাবদ্ধ কক্ষের খাটের নিচ থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী জুয়েল পলাতক রয়েছেন, যার সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

শেয়ার করুন:
রাজধানীর কদমতলীতে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড: তালাবদ্ধ কক্ষের খাটের নিচে স্ত্রীর গলাকাটা মরদেহ, স্বামী পলাতক

রাজধানীর কদমতলীতে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ২৫ বছর বয়সী ইয়ানূর বেগম। শুক্রবার দুপুরে তালাবদ্ধ একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই নিহত ইয়ানূরের স্বামী জুয়েল পলাতক রয়েছেন, যা তদন্তকারীদের প্রাথমিক সন্দেহের তীর তার দিকেই নিবদ্ধ করেছে। পারিবারিক কলহের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যা নিহতের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য ও পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোয়াবাড়িয়া গ্রামের হানিফ হাওলাদারের মেয়ে ইয়ানূর বেগম কদমতলীর ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পাঁচতলা ভবনের ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। ঘটনার দিন সকালে ইয়ানূরকে একাধিকবার ফোন করেও না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার ছোট ভাই ইমাম হোসেন। বোনের কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি দ্রুত তাদের বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তার মনে গভীর সন্দেহ দানা বাঁধে।

সন্দেহ নিরসনে ইমাম হোসেন তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং মেঝেতে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ দেখে আঁতকে ওঠেন। এরপর তিনি তড়িঘড়ি করে ঘরের বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে খাটের নিচে বোনের রক্তাক্ত, গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে দিশেহারা হয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কদমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে।

কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুন নাহার সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে ইয়ানূরকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী জুয়েল পলাতক রয়েছেন, যা তার বিরুদ্ধে সন্দেহের পাল্লাকে আরও ভারী করছে। জুয়েল পেশায় একজন বাসের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন এবং গত প্রায় তিন মাস আগে ইয়ানূরের সঙ্গে তার প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, জুয়েল ও ইয়ানূরের এই প্রেমঘটিত বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে প্রায়শই পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া হতো, যা তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি করেছিল। বৃহস্পতিবার রাতেও তাদের দুজনের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়েছিল বলে জানা যায়। এই ঝগড়ার বিষয়টি ইয়ানূর বেগম ওই রাতেই তার মাকে মুঠোফোনে জানিয়েছিলেন, যা এই হত্যাকাণ্ডের মোটিভে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ইয়ানূর বেগমের এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। এর আগে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এবং সেই সংসারে তার পাঁচ বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। পূর্বের স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পর ছেলেটি তার নানা-নানির কাছেই থাকত। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, ইয়ানূরের জীবন ব্যক্তিগত স্তরেও বেশ জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল এবং এই বিয়েতেও তিনি স্থিতিশীলতা খুঁজে পাননি।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার বিকেলে ইয়ানূরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং পদ্ধতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে, পুলিশ পলাতক স্বামী জুয়েলকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান শুরু করেছে। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

এই ঘটনা রাজধানীতে পারিবারিক সহিংসতা এবং এর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একটি ভালোবাসার সম্পর্ক কীভাবে এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে পরিণত হতে পারে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে বদ্ধপরিকর এবং যত দ্রুত সম্ভব পলাতক অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এই নৃশংস ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় জনগণ।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ