বৃহস্পতিবার, 17 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
জাতীয় 🇧🇩 বাংলা

জাতিসংঘে ব্যস্ত ড. খলিলুর রহমান: সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সপ্তাহের কর্মব্যস্ততার চিত্র তুলে ধরলেন বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি বৈঠক, আলোচনা ও উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের প্রস্তুতির কথা জানান।

শেয়ার করুন:
জাতিসংঘে ব্যস্ত ড. খলিলুর রহমান: সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম সপ্তাহের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম সপ্তাহের কর্মব্যস্ততার চিত্র তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান। গত বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস ও একাধিক ছবি পোস্ট করে তিনি তার এই নতুন আন্তর্জাতিক দায়িত্বের প্রাথমিক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তার এই ঘোষণা বিশ্ব মঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং বৈশ্বিক নেতৃত্বদানে দেশের সক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ড. খলিলুর রহমানের এই পদার্পণ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণকে আরও জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিজের ফেসবুক পোস্টে ড. খলিলুর রহমান লেখেন, ‘সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে এক সপ্তাহ পূর্ণ হলো। প্রথম কয়েকটি দিন ছিল বেশ ব্যস্ত। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এবং সামনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ (হাই-লেভেল উইক)-এর প্রস্তুতিতে আমার সময় কেটেছে। সবকিছুই দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আমরা একটি ফলপ্রসূ অধিবেশনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি।’ তিনি তার এই প্রাথমিক ব্যস্ততার মুহূর্তগুলো তুলে ধরে বেশ কিছু ছবিও শেয়ার করেন, যেখানে তাকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে আলোচনায় মগ্ন দেখা যায়। এই ছবিগুলো তার প্রাথমিক কর্মতৎপরতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

ড. খলিলুর রহমানের এই দায়িত্ব গ্রহণ বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। জাতিসংঘের মতো একটি বিশ্ব সংস্থার সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং এর মাধ্যমে বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলার সুযোগ তৈরি হয়। এই পদাধিকারী হিসেবে তাকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনা পরিচালনা এবং জাতিসংঘের মূল উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিতে হবে। তার এই নতুন ভূমিকা বাংলাদেশের কূটনীতিকে এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ড. খলিলুর রহমান বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, জাতিসংঘের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। এই বৈঠকগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ৮১তম অধিবেশনের এজেন্ডা নির্ধারণ, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মতামত সংগ্রহ এবং আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহের জন্য একটি সুসংহত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা। জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি ও নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মতো বিষয়গুলো তার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে, আগামী দিনগুলোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ‘উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ’ ঘিরে তার ব্যস্ততা আরও বাড়বে। এই সময়ে বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে একত্রিত হবেন এবং সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে অংশ নেবেন। রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই বিতর্কগুলো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন দিকনির্দেশনা দেয়। ড. খলিলুর রহমানকে এই বিশাল আয়োজন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে, যা তার নেতৃত্বের দক্ষতা ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞার পরীক্ষা নেবে।

তার প্রথম সপ্তাহের এই ব্যস্ততা স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি তার নতুন ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন এবং শুরু থেকেই কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানে বদ্ধপরিকর। বিভিন্ন জটিল আন্তর্জাতিক ইস্যু এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে একটি ফলপ্রসূ অধিবেশন পরিচালনা করা তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তবে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং কূটনৈতিক দক্ষতা তাকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। এই সময়কালে তিনি বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

বাংলাদেশের একজন নাগরিকের এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে নেতৃত্বদান দেশের জন্য কেবল গর্বের বিষয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা পালনের একটি স্বীকৃতিও বটে। ড. খলিলুর রহমানের এই পদাধিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও বিচক্ষণতার বার্তা পৌঁছে দেবে। তার নেতৃত্বে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য কল্যাণকর হবে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ