Login সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও খুঁজুন ই-পেপার Eng Login কলাম মতামত ডাকসু সংগ্রহশালা: ছবি বদলে কি ইতিহাস বদলানো যায় কাজী মারুফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ২১ ডাকসু সংগ্রহশালার সাম্প্রতিক ‘সংস্কার’ নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি করেছে ছবি: প্রথম আলো প্রশ্নটা খুব সহজ। দেয়াল থেকে একজনের ছবি নামিয়ে সেখানে আরেকজনের ছবি টাঙিয়ে দিলে কি একটি জাতির ইতিহাস নতুন করে লেখা যায়? ডাকসু সংগ্রহশালার সাম্প্রতিক ‘সংস্কার’ ঠিক এ প্রশ্নকেই আমাদের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
ডাকসু সংগ্রহশালায় বেশ কিছুদিন ধরে সংস্কার চলছিল। অবশেষে গত রোববার সংগ্রহশালা যখন খুলল, দেখা গেল, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ—প্রায় প্রতিটি পর্ব থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের আগের উপস্থিতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। মুক্তিসংগ্রামের আরও বেশ কিছু স্মারকেরও অবস্থান বদল হয়েছে, সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। যুক্ত হয়েছে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি, যার একটি ১৯৪৮ সালের সেই ভাষণের মুহূর্তের, যেখানে তিনি উর্দুকেই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।
যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনায় ভাষা আন্দোলনের জন্ম, ঠিক সেখানেই ভাষা-প্রশ্নে বাংলা জনপদের প্রথম প্রতিপক্ষকে সম্মানের আসন দেওয়া নিছক অসতর্কতা নয়; এটি একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক বার্তা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাটিকে স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক আখ্যা দিয়ে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও প্রশ্ন-উদ্বেগগুলো তাতে মিলিয়ে যায় না।
আরও পড়ুন ডাকসু–জাকসুতে জিতে কি জামায়াত–শিবির রাজনীতিতে হারল ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ প্রথম উদ্বেগটি ঐতিহাসিক। শেখ মুজিব বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি—এ সত্য প্রশ্নাতীত ও অমোচনীয়। ইতিহাসে শেরেবাংলা, সোহরাওয়ার্দী, ভাসানীসহ আরও অনেকের অবদান আছে; কিন্তু দ্বিধান্বিত জাতিকে চূড়ান্ত মুক্তির দিকে নেতৃত্ব দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছিলেন মুজিবই।
শেখ মুজিবের শাসনামল সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। একদলীয় বাকশাল, চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ, ভিন্নমত দমন কিংবা রক্ষীবাহিনীর নিপীড়নের জন্য তাঁকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে। কিন্তু সমালোচনা আর অপসারণ এক জিনিস নয়। বাংলাদেশের জন্ম-ইতিহাস ১৯৭১ সালে শুরু হয়নি। সেই ইতিহাসে জিন্নাহ আছেন। কিন্তু মুজিব ও জিন্নাহ সময়, পরিপ্রে