দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে সোনার গহনার দাম, যা গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) কর্তৃক নির্ধারিত নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা এখন ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকায়। এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি এবং ভোক্তা পর্যায়ে স্বর্ণের কেনাকাটায় তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজুসের ঘোষণা অনুসারে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এই বৃদ্ধি দেশের অলংকার বাজারে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বর্তমানে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকায়, যা পূর্বের তুলনায় বেশি। অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা। সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনা এখন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য একটি বড় অঙ্কের বিনিয়োগ।
সোনার পাশাপাশি রুপার গহনার দামও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার গহনা এখন ৫ হাজার ১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৭৮২ টাকা, যা মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৮২ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৯১ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল সোনার বাজার নয়, রুপার বাজারকেও প্রভাবিত করছে।
জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিতভাবে মূল্য পর্যালোচনা করা হয়। এই সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি বিশ্ববাজারের প্রবণতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণত, উৎসবের মরসুম বা বিশেষ সামাজিক অনুষ্ঠানের আগে সোনার চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যা অনেক সময় দামের উপর প্রভাব ফেলে। তবে, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে, যা নতুন দাম নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে সোনার গহনা কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হবে। বিশেষ করে যারা বিয়ের গহনা বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের জন্য সোনা কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের বাজেট পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। তবে, বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে সোনাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখা হয়, এবং তাই অনেক বিনিয়োগকারী এখনো সোনার প্রতি আগ্রহী। এই দাম বৃদ্ধি স্থানীয় জুয়েলারি শিল্পে সাময়িক প্রভাব ফেললেও, দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাজুসের ভূমিকা অপরিহার্য।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সোনার দামের উপর প্রভাব ফেলছে। ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের শক্তিও সোনার মূল্যের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই সম্মিলিত কারণগুলোই দেশের বাজারে সোনার দামের সাম্প্রতিক বৃদ্ধির পেছনে কাজ করেছে। বাজুস দেশের জুয়েলারি শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র সংগঠন হিসেবে বাজারের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সর্বদা সচেষ্ট থাকে।
নতুন এই মূল্য তালিকা দেশের সকল জুয়েলারি দোকানে কার্যকর করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই দামেই সোনা ও রুপার গহনা কেনাবেচা চলবে। ক্রেতাদের প্রতি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, গহনা কেনার আগে অবশ্যই বাজুস নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্য তালিকা যাচাই করে নেওয়া উচিত। এই মূল্যবৃদ্ধি একদিকে যেমন জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে, তেমনই অন্যদিকে এটি সোনার বাজারে নতুন গতিশীলতাও তৈরি করেছে।