সোমবার, 14 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
বাণিজ্য 🇧🇩 বাংলা

বাজার স্থিতিশীল রাখতে কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শর্তসাপেক্ষে ৬০ দিনের শুল্ক-কর অব্যাহতি

দেশের বাজারে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে শর্তসাপেক্ষে আমদানি শুল্ক-কর অব্যাহতি দিয়েছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই সুবিধা মোট ৬০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, যা দুটি ভিন্ন ধাপে বিভক্ত।

শেয়ার করুন:
বাজার স্থিতিশীল রাখতে কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শর্তসাপেক্ষে ৬০ দিনের শুল্ক-কর অব্যাহতি

দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারকে স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে সরকার কাঁচা মরিচ ও টমেটোর আমদানিতে শর্তসাপেক্ষে শুল্ক-কর অব্যাহতি ঘোষণা করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গত ৩০ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকে এই সুবিধা কার্যকর হয়ে মোট ৬০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে, যা স্থানীয় বাজারে উল্লেখিত পণ্য দুটির সরবরাহ বৃদ্ধি ও অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনবিআর-এর প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৫-এর উপধারা (১) এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ১২৬-এর উপধারা (১)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। এই পদক্ষেপটি সরকারের পক্ষ থেকে বাজার ব্যবস্থাপনার একটি সক্রিয় অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে জরুরি পরিস্থিতিতে জনগণের ভোগান্তি কমাতে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হয়। বিশেষ করে, প্রথম ৩০ দিনের জন্য আমদানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কাস্টমস শুল্কের মূল্যভিত্তিক ৫ শতাংশের অতিরিক্ত অংশ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হবে। একই সাথে, সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি এবং মূল্যভিত্তিক ১০ শতাংশের অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্ক থেকেও অব্যাহতি মিলবে, যা আমদানিকারকদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা হিসেবে কাজ করবে।

শুল্ক-কর অব্যাহতির দ্বিতীয় ধাপে, অর্থাৎ প্রজ্ঞাপন জারির ৩১তম দিন থেকে ৬০তম দিন পর্যন্ত কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই সময়ে কাস্টমস শুল্কের মূল্যভিত্তিক ৫ শতাংশের অতিরিক্ত অংশ এবং সমুদয় রেগুলেটরি ডিউটি থেকে অব্যাহতি বহাল থাকবে। তবে, প্রথম ৩০ দিনের মতো সম্পূরক শুল্কের অব্যাহতির বিষয়টি দ্বিতীয় ৩০ দিনের জন্য প্রযোজ্য হবে না। এই দ্বি-স্তরীয় অব্যাহতি প্রক্রিয়াটি বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে সরকারের একটি সুচিন্তিত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে। এর ফলে, আমদানিকারকরা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তুলনামূলক কম খরচে পণ্য আমদানি করতে পারবেন, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাপর্যায়ে পণ্যের মূল্য হ্রাসে ভূমিকা রাখবে।

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন কাঁচাবাজারে বর্তমানে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৮০ টাকা থেকে শুরু করে ১৬০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বেশ ব্যয়বহুল। অন্যদিকে, টমেটো প্রতি কেজি ১২০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা শীতকালীন সবজি হিসেবে বছরের এই সময়ে তুলনামূলকভাবে বেশি। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারের এই আমদানি শুল্ক-কর অব্যাহতি সিদ্ধান্তটি এসেছে, যা বাজারকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার একটি প্রচেষ্টা।

ব্যবসায়ীরা এই মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে সম্প্রতি দেশজুড়ে ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কথা উল্লেখ করেছেন। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ফসলের মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাঁচা মরিচসহ অন্যান্য মৌসুমি সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া, টমেটো মূলত শীতকালীন সবজি হওয়ায় বছরের অন্যান্য সময়ে এর উৎপাদন কম থাকে এবং আমদানি নির্ভরতা বেশি হওয়ায় দাম তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মৌসুমী প্রভাবের সম্মিলিত ফলস্বরূপ বাজারে এই দুটি পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার উপর চাপ সৃষ্টি করছিল।

সরকারের এই শর্তসাপেক্ষে শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রধান উদ্দেশ্য হলো, দ্রুততম সময়ে আমদানির মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর সরবরাহ বৃদ্ধি করা। পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হলে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য ফিরে আসবে এবং এর ফলে পণ্যের মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি কেবল তাৎক্ষণিক বাজার স্থিতিশীলতা আনবে না, বরং ভবিষ্যতে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা রোধেও সহায়ক হবে। এটি সরকারের একটি জনমুখী পদক্ষেপ, যা খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিজনিত চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে পরিত্রাণ দিতে সচেষ্ট।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী এবং এটি বাজার ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। আমদানিকারকরা দ্রুত এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পণ্য আমদানি শুরু করলে অল্প সময়ের মধ্যেই বাজারে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ফলে, ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় এই সবজিগুলো কিনতে পারবেন। সার্বিকভাবে, সরকারের এই নীতির ফলে একদিকে যেমন বাজার স্থিতিশীল হবে, অন্যদিকে তেমনি ভোক্তারাও দ্রব্যমূল্যের চাপ থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা করা যায়।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ