বুধবার, 16 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
ফুটবল 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

মরিনহোর দ্বিতীয় অধ্যায়: রিয়াল মাদ্রিদের দলবদলে নতুন কৌশল ও তার প্রভাব

‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ জোসে মরিনহো দ্বিতীয়বারের মতো রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে ফিরেছেন। সংকটের মুহূর্তে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি যেমন নিজের পছন্দের দল সাজাচ্ছেন, তেমনই রিয়াল মাদ্রিদ এবারের দলবদলে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে। তার কৌশলে নতুন ও পুরোনো খেলোয়াড়দের নিয়ে কেমন সাজছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের স্কোয়াড, সেটাই এখন ফুটবলাঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

শেয়ার করুন:
মরিনহোর দ্বিতীয় অধ্যায়: রিয়াল মাদ্রিদের দলবদলে নতুন কৌশল ও তার প্রভাব

ফুটবল বিশ্বে ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’ নামে পরিচিত জোসে মরিনহো বরাবরই তার কাঠখোট্টা মন্তব্য এবং স্বতন্ত্র চালচলনের জন্য আলোচনার শীর্ষে থাকেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার কৌশল আধুনিক ফুটবলের সঙ্গে আর ততটা মানানসই নয় বলে সমালোচনা উঠলেও, রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ সংকটের মুহূর্তে ফের তার ওপরই আস্থা রেখেছেন। ২০১০ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর মরিনহো প্রথমবার রিয়ালে যোগ দিয়ে পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনার আধিপত্য ভেঙে ক্লাবকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদই একমাত্র ক্লাব যেখান থেকে তিনি চুক্তির মেয়াদ পূর্ণ করে বিদায় নিয়েছিলেন, তাই দলের পুনর্গঠনের প্রয়োজন পড়তেই পেরেজ তার পছন্দের সেনাপতিকে দ্বিতীয়বারের মতো ডেকে পাঠিয়েছেন।

মরিনহো আসবেন আর নিজের মতো করে দল সাজাবেন না, এমনটা ভাবা অসম্ভব। তবে রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে সভাপতির ছড়ি ঘোরানোও তার পক্ষে সম্ভব নয়। এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে রিয়াল মাদ্রিদ যেমন বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিয়েছে, তেমনই মরিনহোর ইচ্ছায় খরচের খাতায় গড়েছে নতুন রেকর্ড। গ্রীষ্মকালীন দলবদল মৌসুম শেষে রিয়াল মাদ্রিদের এই কেনাবেচা ফুটবলাঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে, যেখানে মরিনহোর কৌশল ও দূরদর্শিতা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

দল থেকে বিদায় নেওয়া খেলোয়াড়দের তালিকায় চমক ছিল বেশ কিছু। বিশ্বকাপের পর থেকেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দলবদল নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও, চুক্তির মেয়াদ বাকি থাকায় এবং আর্সেনালের বড় অঙ্কের প্রস্তাব সত্ত্বেও তিনি রিয়ালের সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন। তবে বড় তারকাদের মধ্যে চুক্তির মেয়াদ শেষ করে দল ছেড়েছেন সাবেক অধিনায়ক দানি কার্ভাহাল, ডেভিড আলাবা এবং দানি সেবায়োসের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা। সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় কিনেছে ফুলহাম, যেখানে রিয়ালের সাবেক কোচ আলভেরো আরবেলোয়া যোগ দিয়েছেন। তিনি রিয়ালের কাস্তিয়া থেকে ৪০ মিলিয়ন ইউরোতে গঞ্জালো গার্সিয়া, ১০ মিলিয়নে সিজার পালাসিওস এবং ৩ মিলিয়নে মিগুয়েল অ্যাঞ্জেলকে দলে টেনেছেন, যারা প্রিমিয়ার লিগে আরবেলোয়ার মূল সেনানী হতে চলেছেন।

মরিনহো তার দলে প্রতিবারই এমন একজন আফ্রিকান খেলোয়াড়কে নিয়ে আসেন যাকে তার ট্যাকটিকস দিয়ে একেবারে শীর্ষে তোলেন, যেমনটা তিনি করেছিলেন দিদিয়ের দ্রগবা বা স্যামুয়েল ইতোর ক্ষেত্রে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কেনার তালিকায় প্রথম নামটাই সবাইকে অবাক করেছে—ইয়ান দিওমান্দে। আইভরিকোস্টের এই ১৯ বছর বয়সী প্রতিভাবান তারকাকে দলে ভেড়াতে রিয়াল মাদ্রিদ খরচ করেছে পাক্কা ১২৫ মিলিয়ন ইউরো, যা রিয়ালের ইতিহাসে এমনকি আফ্রিকান কোনো খেলোয়াড়ের জন্য এত বড় অঙ্কের প্রথম চুক্তি। মরিনহোর বিশ্বাস, তার নির্দেশনা মেনে চলতে পারলে দিওমান্দেও একদিন তাক লাগাবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

শুধু আক্রমণভাগ নয়, রক্ষণেও নতুন সেনানী যুক্ত করেছেন মরিনহো। ডানে-বাঁয়ে ডিফেন্সের দুই পাশে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা মার্ক কুকুরেয়াকে ৫৫ মিলিয়ন ইউরোতে এবং নেদারল্যান্ডসের ডেনজেল ডামফ্রিসকে ২০ মিলিয়ন ইউরোতে কিনেছে রিয়াল। চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কোনো অর্থ খরচ ছাড়াই রিয়ালে এসেছেন বের্নাদো সিলভা ও ইব্রাহিমা কোনাতে। এসব চুক্তির মাধ্যমে মরিনহো তার দলের রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী ও বৈচিত্র্যপূর্ণ করেছেন, যা তার কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

তবে সবচেয়ে অবাক করা চুক্তি ছিল কার্লোস এস্পি। মাত্র একদিনের নোটিশে লেভান্তে থেকে তাকে কিনে এনেছিল রিয়াল। মরিনহো বেঞ্চ থেকে নেমে এসে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার তার ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। এস্পি প্রথম ম্যাচেই সেই ঝলক দেখিয়েছেন, যা দেখে পুরো রিয়াল দল এবং সমর্থকরা মুগ্ধ। তার এই অপ্রত্যাশিত আগমন এবং তাৎক্ষণিক প্রভাব রিয়াল মাদ্রিদের কৌশলগত গভীরতা আরও বাড়িয়েছে, যা মরিনহোর চতুর দলবদল নীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

গ্রীষ্মকালীন দলবদলে রিয়ালের কেনাবেচা বেশ ভালোই হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে গত কয়েক মৌসুম ধরে মাঝমাঠে যে শূন্যতা, ক্রুস-মদরিচের রেখে যাওয়া জায়গা পূরণ করতে রিয়াল ব্যর্থ হয়েছে। রদ্রিকে দলে টানতে পারলে হয়তো রিয়ালের দলবদলে ষোলোকলা পূর্ণ হতো, কিন্তু তিনি বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন। মরিনহো একজন বুদ্ধিমান কোচ, তাই মাঝমাঠের এই ফাঁকা জায়গাটাকে তিনি অন্যভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তার দ্বিতীয় অধ্যায়ে রিয়াল মাদ্রিদ নতুন রূপে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ