ইরানের স্থলবাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী জাহানশাহী ঘোষণা করেছেন যে, দেশের সামরিক বাহিনী সম্ভাব্য সকল ধরনের হুমকি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সম্প্রতি কাজভিনে ইরানের ১৬তম সাঁজোয়া ডিভিশনের যুদ্ধ প্রস্তুতি ও সামরিক সক্ষমতা পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উচ্চমান এবং সেনাদের নিরলস প্রস্তুতির ওপর জোর দেন। তার এই বক্তব্য আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরানের দৃঢ় অবস্থান এবং আত্মরক্ষামূলক সক্ষমতার একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে।
কমান্ডার জাহানশাহী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ইরানের স্থলবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট দেশের সীমান্তজুড়ে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি জানান, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত এবং সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। এই সক্রিয় উপস্থিতি কেবল নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, বরং দেশের ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষায় সেনাবাহিনীর অবিচল প্রতিজ্ঞার প্রমাণ দেয়। সীমান্ত সুরক্ষায় তাদের এই নিরন্তর প্রচেষ্টা দেশের নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় স্থলবাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রমের প্রশংসা করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহানশাহী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শত্রুপক্ষের তীব্র আক্রমণের মধ্যেও সেনারা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নির্ধারিত কৌশলগত অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি আরও জানান, এই বিশাল সংখ্যক সেনা, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের স্থানান্তরের সময় শত্রুপক্ষ ড্রোন, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং গোয়েন্দা স্যাটেলাইটসহ বিভিন্ন নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও সেনারা তাদের দায়িত্ব পালনে বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি।
অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টকর পরিস্থিতির মধ্যেও স্থলবাহিনীর সদস্যরা তাদের দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন বলে কমান্ডার দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শত্রুপক্ষের নিরন্তর নজরদারি এবং নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ইরানের সেনারা তাদের উচ্চ মনোবল অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন। এই দৃঢ় মানসিকতা এবং পেশাদারিত্বের কারণেই তারা নির্ধারিত মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছেন এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, ইরানের সামরিক বাহিনী যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম এবং তাদের প্রশিক্ষণের মান অত্যন্ত উন্নত।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহানশাহী আরও বলেন যে, ইরানের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানগুলোতে স্থলবাহিনীর সদস্যদের শক্তিশালী উপস্থিতি দেশের জনগণের জন্য গভীর আশ্বস্ত হওয়ার কারণ। একই সাথে, এটি শত্রুপক্ষের জন্য একটি স্পষ্ট প্রতিরোধমূলক বার্তা বহন করে। তার মতে, সীমান্তে এই শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি সম্ভাব্য আগ্রাসনকারীদের নিরুৎসাহিত করে এবং ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার অকাট্য প্রমাণ দেয়। এই কৌশলগত অবস্থান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কমান্ডার জাহানশাহী জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর এই শক্তিশালী উপস্থিতি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সামরিক বাহিনী সব সময় দেশের ভূখণ্ড ও স্বাধীনতা রক্ষায় প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, ‘কর্তৃত্ব’ এবং ‘জিহাদি চেতনা’ নিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের ভূখণ্ড ও স্বাধীনতা রক্ষায় যেকোনো সময় দায়িত্ব পালনের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত। এই মন্তব্য ইরানের প্রতিরক্ষা নীতির মূল ভিত্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি তাদের অটল প্রতিজ্ঞাকে তুলে ধরে।
সামগ্রিকভাবে, কমান্ডার জাহানশাহীর বক্তব্যে ইরানের স্থলবাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি, সীমান্তে তাদের সক্রিয় ও নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি এবং সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে সেনাদের অসাধারণ ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তার এই ঘোষণা কেবল সেনাবাহিনীর সক্ষমতারই প্রতিফলন নয়, বরং আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের আপসহীন মনোভাবের একটি জোরালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এটি স্পষ্ট করে যে, ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত।