বুধবার, 9 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
রাজনীতি 🇧🇩 বাংলা

ঢাবি সূর্যসেন হলে ৫০তম বিসিএস প্রার্থীদের জন্য ছাত্রদলের উদ্যোগে মক ভাইভা ও প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি মক ভাইভা ও দিকনির্দেশনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তারা ভাইভা বোর্ডের সদস্য হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রার্থীদের মূল্যবান পরামর্শ দেন, যা তাদের চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
ঢাবি সূর্যসেন হলে ৫০তম বিসিএস প্রার্থীদের জন্য ছাত্রদলের উদ্যোগে মক ভাইভা ও প্রস্তুতিমূলক কর্মশালা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী মাস্টারদা সূর্যসেন হলে সম্প্রতি ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশেষ মক ভাইভা ও গাইডলাইন প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সেশনটি মাস্টারদা সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সামিউল আমিন গালিবের উদ্যোগে এবং হল প্রশাসনের সর্বাত্মক সহযোগিতায় সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে গতিশীলতা আনা, তাদের মধ্যে থাকা ভাইভা-ভীতি দূর করা এবং আত্মবিশ্বাস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

বাংলাদেশের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বিসিএস পরীক্ষা সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ এবং প্রতিযোগিতামূলক একটি ধাপ। এর মৌখিক পর্ব অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে শুধুমাত্র বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানই নয়, বরং প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, উপস্থাপনা শৈলী, যোগাযোগ দক্ষতা এবং মানসিক দৃঢ়তারও যাচাই করা হয়। এই সকল দিক বিবেচনা করে আয়োজকরা একটি কার্যকর প্রস্তুতিমূলক মঞ্চ তৈরি করতে চেয়েছেন, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব মৌখিক পরীক্ষার পরিবেশের সাথে পরিচিত করে তুলবে এবং তাদের আত্মবিশ্বাসের ভিত মজবুত করবে।

গত বুধবার আয়োজিত এই মক ভাইভা সেশনে সভাপতিত্ব করেন সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আজহারুল ইসলাম। ভাইভা বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডারের অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা, যাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান ছিল। তাদের উপস্থিতি একটি বাস্তবসম্মত পরীক্ষার পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অপেক্ষায় থাকা সূর্যসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাদের আগ্রহ এবং সাফল্যের প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।

মক ভাইভা চলাকালীন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক থেকে মূল্যায়ন করা হয়। তাদের উপস্থাপনার ধরণ, সাবলীল যোগাযোগ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী সম্পর্কে গভীর ধারণা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি, প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কৌশল, অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং নিজেদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার বিষয়েও বিশদ পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। এই সেশনটি কেবল একটি পরীক্ষা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সামগ্রিক শেখার প্রক্রিয়া, যা শিক্ষার্থীদের তাদের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের আরও শাণিত করার সুযোগ করে দেয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ধরনের কার্যক্রম হলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও গতিশীল করতে এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। হল শাখা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বিশ্বাস করেন যে, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা দৃঢ়ভাবে আশা প্রকাশ করেন যে, এই মক ভাইভা সেশন শিক্ষার্থীদের বিসিএস যাত্রায় একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে দেবে এবং তাদের স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে।

আয়োজনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, বাস্তব ভাইভা পরীক্ষার আগে এ ধরনের মক ভাইভা তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে দারুণভাবে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি তাদের নিজেদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে এবং সেগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পেতে সাহায্য করবে। হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও ক্যারিয়ার গঠনে এ ধরনের উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ভবিষ্যতে আরও এমন কর্মসূচির আয়োজনের অনুপ্রেরণা যোগাবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এই কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামি, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ইমাম হাসান অনিক, মাস্টারদা সূর্যসেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মন্ডল, আহ্বায়ক সদস্য মো. কাউসার আল মাহমুদসহ হল শাখা ছাত্রদলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি এই কর্মসূচির গুরুত্ব এবং ছাত্র রাজনীতির ইতিবাচক দিকগুলোর একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে ছাত্র সংগঠনগুলো কেবল রাজনৈতিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের উন্নয়নেও সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে।

মক ভাইভা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং স্মারক উপহার হিসেবে তাদের হাতে আকর্ষণীয় টাই ক্লিপ তুলে দেওয়া হয়। এই প্রতীকী উপহার তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য এক শুভকামনা বহন করে। এ সময় আসন্ন বিসিএসের চূড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষার জন্য তাঁদের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়। এই উদ্যোগটি কেবল একটি মক ভাইভা সেশন ছিল না, বরং এটি ছিল শিক্ষার্থীদের প্রতি একটি সংহতি ও অনুপ্রেরণার বার্তা, যা তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে এবং কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ