বুধবার, 9 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
রাজনীতি 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

দেশে-বিদেশে মব রাজনীতি কাম্য নয়, চাই মানবিক ও স্বচ্ছ রাজনীতি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের ওপর দেশে-বিদেশে মব হামলা ও নির্যাতন কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি স্বচ্ছ, সুস্থ ও মানবিক রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চলেছে, যা নতুন বাংলাদেশে আর পুনরাবৃত্তি হতে পারে না।

শেয়ার করুন:
দেশে-বিদেশে মব রাজনীতি কাম্য নয়, চাই মানবিক ও স্বচ্ছ রাজনীতি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং নতুন বাংলাদেশের পক্ষে থাকা নাগরিকদের ওপর দেশের অভ্যন্তরে কিংবা বিদেশের মাটিতে সংঘবদ্ধ হামলা ও নির্যাতনকে সরকার বা বাংলাদেশের কোনো নাগরিকই সমর্থন করে না। এমনটাই মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দেশে-বিদেশে মব রাজনীতি, মব সংস্কৃতি এবং অকারণে সন্ত্রাস সৃষ্টি কোনোভাবেই কাম্য নয়। বরং নতুন বাংলাদেশে স্বচ্ছ, সুস্থ ও মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলা একাডেমিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা ২০২৬’ এর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর ব্যাপক নিপীড়ন-নির্যাতন চালানো হয়েছে। ছাত্রদল, যুবদলসহ দলের বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা গ্রাম পর্যন্ত ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। অনেককে নিজেদের বাড়িতে থাকতে দেওয়া হয়নি, গাছের নিচে কিংবা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। পুলিশের নির্যাতনে তাদের জেলে থাকতে হয়েছে এবং হাজার হাজার মামলা নিয়ে তাদের ঘুরতে হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে অনেকে খুন ও গুম হয়েছেন, যাদের আত্মত্যাগ এবং তাদের পরিবারের কথা আমাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে।

শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, যারা এই নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের দেশ গড়ার কাজে ও উন্নয়নের কাজে সম্পৃক্ত করা অপরিহার্য। তাদের আত্মত্যাগ ভুলে গেলে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমাদের বিবেকের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, শহীদ জিয়া আমাদের উৎপাদনের রাজনীতি, উন্নয়নের রাজনীতি, জনসেবা ও গণসেবার রাজনীতি এবং ধৈর্য ও সহনশীলতার রাজনীতি শিখিয়েছেন। এই আদর্শ প্রতিটি নেতাকর্মীর হৃদয়ে গভীরভাবে নিহিত রয়েছে এবং এটিই আমাদের পথপ্রদর্শক।

তিনি বেগম খালেদা জিয়া এবং জিয়া পরিবারের ওপর বিগত ১৭ বছরে ঘটে যাওয়া অত্যাচার-নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, তাদের অবদান কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া উচিত নয়। বর্তমান সময়ে সংসদ আবারও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় যেকোনো সিদ্ধান্ত ও সংকট নিয়ে সংসদে স্বচ্ছভাবে আলোচনা হচ্ছে এবং সারা দেশের মানুষ তা সরাসরি দেখতে পারছে। এই স্বচ্ছ সংসদ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের প্রতিও আমাদের চিরকৃতজ্ঞ থাকতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অসংখ্য নেতাকর্মী তৎকালীন পুলিশ ও র‌্যাবের হাতে অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের সবার নাম হয়তো আমরা বলতে পারবো না, কিন্তু তাদের আত্মত্যাগ আমাদের মনে রাখতে হবে এবং দেশের উন্নয়নে তাদের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনমুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনসেবা, গণসেবা ও উন্নয়নের রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে প্রথম কেবিনেট সভায় কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়নের জন্য 'ফ্যামিলি কার্ড' এবং কৃষকদের সুবিধার জন্য 'ফার্মার্স কার্ড' চালু করা হয়েছে। এছাড়াও, প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য শিগগিরই 'প্রবাসী কার্ড' চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত এবং দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসের মুখে চলে গিয়েছিল। সেসব খাতকে শূন্য থেকে নতুন করে গড়ে তোলার কঠিন কাজ বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে শুরু করেছে এবং এ কাজে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং গত সরকারের দুর্নীতি ও ভুল নীতির কারণে দেশে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, বর্তমান সরকার তা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে মোকাবিলা করছে। এই সংকটের কারণে জনগণের যে কষ্ট হচ্ছে, সে জন্য প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। যদিও এই দায় বর্তমান সরকারের নয়, তবুও জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, বিএনপি এমন সরকার নয় যে ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও কোনো সমস্যার জন্য ১৮ বছর আগে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি সামনে এনে দায় এড়িয়ে যাবে। বর্তমান সরকার সব খাতে তৃণমূল থেকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পুনর্গঠনে বদ্ধপরিকর।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ