সোমবার, 14 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
বাণিজ্য 🇧🇩 বাংলা

টানা তিন দফা কমার পর সোনার দামে উল্লম্ফন: প্রতি ভরিতে বাড়লো ৫,৪৮২ টাকা

দেশের বাজারে টানা তিন দফা কমার পর এবার সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম এক লাফে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার মূল্যবৃদ্ধির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

শেয়ার করুন:
টানা তিন দফা কমার পর সোনার দামে উল্লম্ফন: প্রতি ভরিতে বাড়লো ৫,৪৮২ টাকা

দেশের বাজারে টানা তিন দফা কমার পর এবার সোনার গহনার দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম এক ধাক্কায় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার পর ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বাড়ার কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে সোনার গহনার এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজার আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় চাহিদা ও কাঁচামালের দামের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে কিছুটা অস্থিরতা দেখা গেলেও, দেশে টানা তিনবার দাম কমার পর এমন আকস্মিক ও বড় ধরনের বৃদ্ধি ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিনিয়োগকারী এবং সাধারণ ক্রেতা উভয়ই এই নতুন মূল্যবৃদ্ধির ফলে প্রভাবিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) তাদের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক বৈঠকের পর এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার মূল্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, কাঁচামালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি প্রস্তুতকৃত সোনার গহনার দামের ওপর প্রভাব ফেলে, যার ফলে বর্তমান সমন্বয় অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

সোনার দামের এই পরিবর্তন দেশের অর্থনীতিতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে, আসন্ন উৎসবের মরসুম এবং বিয়ের মৌসুমে যারা গহনা কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, যারা সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন, তাদের জন্য এটি একটি মিশ্র সংকেত। দাম বৃদ্ধির কারণে বর্তমান হোল্ডিংগুলোর মূল্য বাড়লেও, নতুন করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উচ্চ মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

উল্লেখ্য, সোনার দামের ওঠানামা বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি, ডলারের বিনিময় হার এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন অনিশ্চয়তা বাড়ে, তখন বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার দিকে ঝুঁকে পড়েন, ফলে এর দাম বেড়ে যায়। আবার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে বা সুদের হার বাড়লে সোনার চাহিদা কমে গিয়ে দাম নিম্নমুখী হয়। বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারও এই বৈশ্বিক প্রবণতা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, যদিও স্থানীয় তেজাবী সোনার দামের তারতম্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারে সোনার দামের এই ধারাবাহিক পরিবর্তন বাজারের অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। একসময় যেখানে সোনার দাম স্থিতিশীল ছিল, এখন সেখানে ঘন ঘন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলো বাজুসের নিয়মিত তদারকি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই এই গতিশীল বাজারের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি মূল্যবৃদ্ধি বা হ্রাস ভবিষ্যতের বিনিয়োগ কৌশল নির্ধারণে সহায়ক হয়।

এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের জুয়েলারি শিল্পে স্বল্পমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে। উচ্চমূল্যের কারণে সাময়িকভাবে বিক্রি কিছুটা কমতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সোনা সবসময়ই একটি মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই, বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি একটি সাময়িক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করলেও, সোনার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট থাকবে এবং বাজারের চাহিদা আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তবে, সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা আগামী দিনগুলোতে সোনার দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ