ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগে নতুন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এবং মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আকতার হোসেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট, ২০২৬) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়। এই রদবদল ডিএমপি’র প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে, বিশেষ করে জনসম্পৃক্ততা ও তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে। নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং জনগণের কাছে পুলিশের কার্যক্রম সঠিকভাবে তুলে ধরতে গণমাধ্যম বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর সেই গুরুদায়িত্ব এখন আকতার হোসেনের কাঁধে।
ডিএমপি’র জনগুরুত্বপূর্ণ এই পদে আকতার হোসেনের পদায়ন নগর পুলিশের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে মনে করা হচ্ছে। তার এই দায়িত্ব গ্রহণ এমন এক সময়ে হলো, যখন জনসেবা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে। গণমাধ্যম বিভাগের মুখপাত্র হিসেবে তিনি ডিএমপি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবেন, যা সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং গুজব প্রতিরোধে অপরিহার্য। তার নেতৃত্বে ডিএমপি’র গণমাধ্যম বিভাগ আরও সক্রিয় ও জনবান্ধব হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল প্রত্যাশা করছে।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে মো. আকতার হোসেন সিলেট থেকে ঢাকায় বদলি হয়ে ডিএমপিতে যোগ দিয়েছিলেন। এর আগে তিনি লক্ষ্মীপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। লক্ষ্মীপুরে তার কর্মকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জনসেবা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে তিনি প্রশংসিত হয়েছিলেন। মাঠ পর্যায়ের এই অভিজ্ঞতা তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের মতো একটি বৃহৎ ও জটিল কাঠামোর গণমাধ্যম সামলানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেবে, যা তাকে দ্রুততার সাথে পরিস্থিতি অনুধাবন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করবে।
আকতার হোসেনের কর্মজীবন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও শাখায় কাজ করার সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে মাঠ পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ এবং প্রশাসনিক জটিলতা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান দিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা তাকে গণমাধ্যমকে পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে সঠিক ও বিস্তারিত তথ্য প্রদানে সহায়তা করবে, যা ডিএমপির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তার পেশাদারিত্ব এবং যোগাযোগের দক্ষতা ডিএমপি’র জনসম্পর্ক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই আদেশে, আরেকজন উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তৌহিদুল আরিফকে ডিএমপির পিওএম দক্ষিণে পদায়ন করা হয়েছে। এটি ডিএমপি’র নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদলের অংশ, যা বিভিন্ন বিভাগে কার্যকারিতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে করা হয়। এই ধরনের রদবদল বাহিনীর মধ্যে নতুন নেতৃত্ব তৈরি এবং কর্মপরিবেশে সতেজতা আনতে সাহায্য করে। ডিএমপি নিয়মিতভাবে তার কর্মকর্তাদের রদবদল করে থাকে যাতে তারা বিভিন্ন পদে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন এবং বাহিনীর সার্বিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
আধুনিক সময়ে গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ যেকোনো বৃহৎ সংস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা মহানগর পুলিশের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ, ডিএমপি সরাসরি কোটি মানুষের নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনের সাথে জড়িত। সঠিক তথ্য প্রকাশ, গুজব প্রতিরোধ, এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম বিভাগের ভূমিকা অনস্বীকার্য। নতুন মুখপাত্রের নেতৃত্বে এই বিভাগ আরও সক্রিয় হবে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও তাদের উপস্থিতি জোরদার করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দ্রুত তথ্য আদান-প্রদানে সহায়ক হবে।
মো. আকতার হোসেনের এই নতুন দায়িত্ব ডিএমপি’র ভাবমূর্তি উন্নয়নে এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। তার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার কারণে তিনি এই চ্যালেঞ্জিং কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন এমনটাই প্রত্যাশা। জনবান্ধব পুলিশিং নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম বিভাগের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি, এবং এই নিয়োগ সেই লক্ষ্য পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি তার দায়িত্ব পালনে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখবেন বলে আশা করা যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কার্যক্রম অত্যন্ত বিস্তৃত ও বহুমুখী। রাজধানী শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা, অপরাধ দমন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সঠিক চিত্র জনসাধারণের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম মুখপাত্রের ভূমিকা কেন্দ্রীয়। আকতার হোসেনের নেতৃত্বে ডিএমপি’র গণমাধ্যম বিভাগ এই দায়িত্ব পালনে আরও বেশি সফল হবে, জনগণের আস্থা অর্জন করবে এবং পুলিশের সেবামূলক কার্যক্রমকে আরও বেশি দৃশ্যমান করবে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।