মঙ্গলবার, 25 আগস্ট 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা

বাণিজ্যিক কোচিং কার্যক্রমে বিচারকদের সম্পৃক্ততায় সুপ্রিম কোর্টের কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সম্মান, নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখতে সুপ্রিম কোর্ট এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এখন থেকে জুডিসিয়াল সার্ভিসের কোনো সদস্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি বা অনলাইন কোচিং কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন না। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় কোচিংয়ের প্রচার ও শিক্ষাসামগ্রী তৈরিও থাকছে।

শেয়ার করুন:
বাণিজ্যিক কোচিং কার্যক্রমে বিচারকদের সম্পৃক্ততায় সুপ্রিম কোর্টের কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সদস্যদের পেশাগত শৃঙ্খলা, নিরপেক্ষতা এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের সুদৃঢ় আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (২৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখা থেকে প্রকাশিত এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের কোনো সদস্য (বিচারক) এখন থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত সরাসরি কিংবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কোচিং কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত হতে পারবেন না। প্রধান বিচারপতির অনুমোদনক্রমে জারি করা এই পরিপত্র অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে, যা বিচারিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই নির্দেশনার আওতায় শুধু কোচিং কার্যক্রমে সরাসরি অংশগ্রহণই নয়, এর প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পরিপত্রে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত কোনো কোচিংয়ের প্রচারণায় কোনো বিচারকের নাম, পদবি, ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে, জুডিসিয়াল সার্ভিসের কোনো সদস্যও এ ধরনের ব্যবহারের জন্য অনুমতি প্রদান করতে পারবেন না। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো, বিচারকদের সম্মান ও মর্যাদাকে কোনো প্রকার বাণিজ্যিক স্বার্থের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা থেকে বিরত রাখা, যাতে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।

এছাড়াও, বাণিজ্যিক কোচিং কার্যক্রমের জন্য শিক্ষাসামগ্রী প্রস্তুত, সম্পাদনা, প্রকাশ বা সরবরাহের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে, বিচার বিভাগের সদস্যরা তাদের বিচারিক দায়িত্ব পালনের সুবাদে প্রাপ্ত কোনো প্রকার গোপনীয়, অপ্রকাশিত বা দাপ্তরিক তথ্য কোচিং কার্যক্রমে প্রকাশ, সরবরাহ বা ব্যবহার করতে পারবেন না। এই নির্দেশনা বিচারিক তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং এর অপব্যবহার রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাসকে আরও সুদৃঢ় করবে।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এই পরিপত্রে বিচার বিভাগের সদস্যদের জন্য একটি স্পষ্ট আচরণবিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারকদের নিরপেক্ষতা ও মর্যাদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যাতে তাদের ব্যক্তিগত বা পেশাগত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বিচার বিভাগের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ না করে। দেশের বিচারিক প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ নৈতিক মানদণ্ডে পরিচালনা করার প্রতি এটি সুপ্রিম কোর্টের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।

বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। বিচারকদের এমন কোনো কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া, যা তাদের নিরপেক্ষতা বা পেশাগত মর্যাদাকে প্রভাবিত করতে পারে, তা বিচার ব্যবস্থার ভিত্তিকে দুর্বল করে তোলে। সুপ্রিম কোর্টের এই নিষেধাজ্ঞা বিচারকদের জন্য একটি স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিয়েছে, যা তাদের বিচারিক দায়িত্বের বাইরে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রাখবে এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনমনে বিদ্যমান বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করবে।

এই নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাসংক্রান্ত প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও পরিপত্রে কঠোরভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, বিচার বিভাগের সদস্যরা সর্বোচ্চ নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে বাধ্য। এই পদক্ষেপ বিচারকদের আচরণবিধিকে আরও সুসংহত করবে এবং বিচার বিভাগের সামগ্রিক কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ