ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নগরীর সার্বিক পরিচ্ছন্নতা জোরদার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশৃঙ্খল পরিবেশ আনয়ন এবং মশক নিধন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে এক যুগান্তকারী 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এই কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে পরিষ্কার করেছেন যে, নগরীর রাস্তাঘাট, ফুটপাত কিংবা যেকোনো খোলা স্থানে আইন অমান্য করে আবর্জনা ফেললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর জরিমানা আরোপসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সাথে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে কোনো প্রকার অজুহাতকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে না এবং দায়িত্বে সামান্যতম গাফিলতি প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা দেন।
প্রশাসক আবদুস সালাম গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট, ২০২৬) নগর ভবনে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভায় এসব কথা বলেন। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধন ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণ তদারকি কমিটির সদস্য, পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। তাঁর বক্তব্যে নগর পরিচ্ছন্নতাকে সিটি করপোরেশনের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, নগরীর কোথাও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বা বর্জ্য অপসারণে অহেতুক বিলম্ব হলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণে ব্যর্থতা বা কর্তব্যে অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী কড়া জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এই কঠোর বার্তা কেবল ডিএসসিসি কর্মীদের জন্য নয়, বরং সমগ্র নগরবাসীর প্রতিও প্রযোজ্য। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে সতর্ক করে প্রশাসক বলেন, পরিবেশ নোংরা করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, যারা রাস্তাঘাট, ফুটপাত কিংবা খোলা স্থানে আইন অমান্য করে ময়লা ফেলবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী জরিমানা এবং অন্যান্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য ঢাকা শহর গড়ে তোলা, যেখানে নাগরিকেরা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারবেন।
সভায় ডিএসসিসি প্রশাসক মাঠপর্যায়ে নিয়মিত ও নিবিড় মনিটরিং নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যাতে নাগরিক অভিযোগগুলো দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করা হয় এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধন ও জলাবদ্ধতা নিরসন দলের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়িয়ে কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা হয়। এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নগরীর প্রতিটি প্রান্তে পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রশাসনের এই দৃঢ় পদক্ষেপ নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি পরিচ্ছন্ন মহানগরী গঠনে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডিএসসিসি প্রশাসনের এই নতুন নির্দেশনা এবং কঠোর নীতি বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। নগরীর প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ এবং সিটি করপোরেশনের কর্মীদের নিষ্ঠা ও সততার মাধ্যমেই এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। পরিচ্ছন্নতা কেবল একটি সরকারি সেবাই নয়, এটি একটি সম্মিলিত সামাজিক দায়িত্ব, যা প্রতিটি নাগরিকের সুস্বাস্থ্য ও উন্নত জীবনযাত্রার জন্য অপরিহার্য। এই নীতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন একটি আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরী হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সভায় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সচিব, তদারকি কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যবৃন্দ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই কঠোর নীতি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে একটি পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত ঢাকা উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে প্রশাসক আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই পদক্ষেপ নগরীর সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।