মঙ্গলবার, 25 আগস্ট 2026
⚠ ব্রেকিং
অপরাধ 🇧🇩 বাংলা

মাদকের তথ্যে অভিযান: ‘অটো সজল’ গ্যাংয়ের ৪ পিস্তলসহ ৬ সদস্য গ্রেফতার

রাজধানীর গেন্ডারিয়া থেকে ‘অটো সজল’ গ্যাংয়ের ৪টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাদক সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে গ্যাংয়ের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে গ্যাং লিডার সজল ওরফে অটো সজলের ছোট ভাইও রয়েছে।

শেয়ার করুন:
মাদকের তথ্যে অভিযান: ‘অটো সজল’ গ্যাংয়ের ৪ পিস্তলসহ ৬ সদস্য গ্রেফতার

রাজধানীর গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ করাতিটোলা এলাকা থেকে চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মাদক সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ছয়জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা ওয়ারী বিভাগের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্র-মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত ‘অটো সজল’ গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উদ্ধার অভিযান এবং গ্রেফতারের ঘটনা জনমনে স্বস্তি এনেছে এবং অপরাধ দমনে পুলিশের দৃঢ় সংকল্পের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. সজীব (২৮), মো. হিমু (৩২), মো. তুষার (২৫), মো. জয় (২৫), মো. টুটুল (৩৩) ও মো. ইমরান (৩৪)। পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম থেকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে অবৈধ মাদকদ্রব্য ঢাকায় আনা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদ পেয়ে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশের একটি দল তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান শুরু করে। প্রাথমিক তল্লাশিতে মাদক না পাওয়া গেলেও, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে গেন্ডারিয়ার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়, যা এই অস্ত্র উদ্ধারের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন এবং ১২ রাউন্ড তাজা গুলি, যা অপরাধমূলক কার্যকলাপে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের এসব বিস্তারিত তথ্য জানান। তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল ইউটার্নসংলগ্ন মুক্তি পেট্রোল পাম্পের সামনে একটি চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে ঢাকা মেট্রো-গ-৩১-৩৬৪৬ নম্বরের একটি সাদা রঙের ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িতে থাকা পাঁচজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হলেও, তাদের দেহ বা গাড়িতে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।

যুগ্ম কমিশনার আরও জানান, আটককৃতদের নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ করাতিটোলা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে মাদক ও অস্ত্র থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দল দ্রুত ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সজীব ও হিমুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন এবং ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে অভিযান চলাকালে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ছয়টি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়, যা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মো. ফারুক হোসেন সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করেন যে, গ্রেফতারকৃত সজীবকে ওয়ারী বিভাগের শীর্ষ সন্ত্রাসী, অস্ত্র ও মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত সজল ওরফে অটো সজলের ছোট ভাই হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এই চক্রের গভীরতা এবং তাদের অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এই গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও অস্ত্রের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, এর আগেও ‘অটো সজল’ গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গত ২ মার্চ মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানোর সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন পরিদর্শককে গুলি করে পালিয়ে গিয়েছিল এই চক্রের সদস্যরা। সেই ঘটনায় ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকালে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ৩২ বোর রিভলবার, একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল ও ২৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জানা যায় যে, ওই ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো সজল ওরফে অটো সজলই সরবরাহ করেছিলেন, যা তার অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ দেয়।

এই ঘটনার ধারাবাহিকতায়, গত ১৮ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সজল ওরফে অটো সজলকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগে তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানে দুটি টরাস ব্র্যান্ডের পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ৭৭ রাউন্ড গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন, হেরোইন তৈরির উপকরণ, মাদক বিক্রির ২২ হাজার ৯৬০ টাকা এবং চারটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনায় গেন্ডারিয়া থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়, যা তার বিরুদ্ধে অভিযোগের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

বর্তমানে গ্রেফতারকৃত ছয়জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে ডিএমপি জানিয়েছে। এই অভিযান শুধু অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারই নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযান স্থানীয় অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। এই ধরনের অভিযান সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমানোর ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ