রাজধানীর মিরপুর এলাকায় পুলিশের একটি নিয়মিত তল্লাশি চৌকি এড়িয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টাকালে দুজনকে আটক করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আটককৃতদের কাছ থেকে একটি অত্যাধুনিক বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র ও গুলি নিজেদের হেফাজতে রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে পুলিশের দৃঢ় প্রত্যয়েরই অংশ।
ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত শনিবার গভীর রাতে মিরপুর মডেল থানাধীন দক্ষিণ পীরেরবাগের ৬০ ফিট রোডের ভাঙা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মিরপুর মডেল থানার একটি বিশেষ দল নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা করছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধে এই ধরনের চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। সেসময় একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেলে করে দুজন ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে চেকপোস্টের দিকে আসছিল।
কর্তব্যরত চৌকস পুলিশ সদস্যরা তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে এবং সন্দেহ হওয়ায় থামার জন্য সংকেত প্রদান করে। কিন্তু পুলিশি সংকেত উপেক্ষা করে তারা দ্রুত মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে তীব্র গতিতে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ধাওয়া শুরু করে এবং দীর্ঘক্ষণ অনুসরণ করার পর কিছুদূর যাওয়ার পর সফলভাবে তাদের গতি রোধ করে আটক করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতদের পরিচয় জানা যায় মো. সাইফুল ইসলাম তপু (২৬) এবং মো. রবিন মিয়া (৩০) হিসেবে, যারা অবৈধ কার্যকলাপে জড়িত থাকার প্রাথমিক সন্দেহের আওতায় আসে।
আটক করার পর পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তাদের দেহ তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশির একপর্যায়ে মো. সাইফুল ইসলাম তপুর প্যান্টের কোমরের সাথে সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়, যা দেখে পুলিশ কর্মকর্তারা বিস্মিত হন। একইসঙ্গে, মো. রবিন মিয়ার প্যান্টের বাম পকেট থেকে একটি ম্যাগাজিনে ভরা ছয় রাউন্ড তাজা গুলিও জব্দ করা হয়। এই ধরনের অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। এছাড়াও, ঘটনাস্থল থেকেই তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং দুটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে, যা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা দুজনেই অবৈধভাবে পিস্তল ও গুলি নিজেদের হেফাজতে রাখার কথা অকপটে স্বীকার করেছে। তারা উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গুলির স্বপক্ষে কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র বা লাইসেন্স দেখাতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে, যা তাদের অপরাধমূলক অভিপ্রায়ের দিকেই ইঙ্গিত করে। এই ধরনের অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার সমাজের শান্তি ও শৃঙ্খলা ব্যাহত করে এবং পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ ও ব্যবহার রোধে পুলিশি অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অবৈধ অস্ত্র ও গুলি রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭৮ সালের অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সমাজে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে পুলিশ সর্বদা সজাগ ও তৎপর রয়েছে। এই গ্রেপ্তারের ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, পুলিশের তীক্ষ্ণ নজরদারি এবং দ্রুত পদক্ষেপ অপরাধ দমনে কতটা কার্যকর হতে পারে।
রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা করে পুলিশ অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য এবং অন্যান্য অপরাধমূলক সামগ্রী উদ্ধারে নিরলসভাবে সচেষ্ট। এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে কেবল অপরাধীদের আটক করাই নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করাও বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, পুলিশি তৎপরতা যেকোনো ধরনের সংগঠিত অপরাধ এবং অবৈধ অস্ত্রের কারবার দমনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে পুলিশ নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।
মিরপুর মডেল থানা পুলিশ এখন এই অবৈধ অস্ত্রের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তারা একটি বৃহত্তর অপরাধী চক্রের সদস্য হতে পারে। আশা করা হচ্ছে, এই গ্রেপ্তারের সূত্র ধরে অবৈধ অস্ত্র পাচার চক্রের আরও গভীরে প্রবেশ করা সম্ভব হবে এবং জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর এবং তাদের এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।