মঙ্গলবার, 25 আগস্ট 2026
⚠ ব্রেকিং
অপরাধ 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

গাজীপুরে জুয়েলারি দোকানের ভেতর ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে তদন্ত

গাজীপুরের গাছা থানায় 'সাদিয়া জুয়েলার্স'-এর মালিক মো. আবুল কালাম আজাদের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দোকান বন্ধ দেখে সন্দেহ হওয়ায় রবিবার সকালে পুলিশ শাটার খুলতেই এই মর্মান্তিক দৃশ্য বেরিয়ে আসে। ঘটনার কারণ ও জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

শেয়ার করুন:
গাজীপুরে জুয়েলারি দোকানের ভেতর ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে তদন্ত

গাজীপুরের গাছা থানার ভুষির মিল এলাকায় একটি জুয়েলারি দোকানের ভেতর থেকে মো. আবুল কালাম আজাদ (৫০) নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৩ আগস্ট, ২০২৬) সকালে স্থানীয় 'সাদিয়া জুয়েলার্স'-এর মালিক আবুল কালাম আজাদের এই মর্মান্তিক পরিণতি প্রকাশ্যে আসে, যা পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে এর পেছনের কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশ নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের রুটিন অনুযায়ী শুক্রবার রাতে আবুল কালাম আজাদ তার নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেই ঘুমাতে যান। সাধারণত তিনি সকালে দোকান খুলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করতেন। কিন্তু, শনিবার সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও দোকানের শাটার বন্ধ থাকায় আশপাশের অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে। দিনভর অপেক্ষার পর রবিবার সকালে তাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় এবং একপর্যায়ে পাশের এক দোকানদার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে গাছা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যরা দোকানের শাটার তুলতেই ভেতরে আবুল কালাম আজাদের গলাকাটা মরদেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত সকলের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মরদেহটি রক্তে ভেজা ছিল এবং আঘাতের ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছিল যে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। দোকানের ভেতরে কোনো লণ্ডভণ্ড অবস্থা বা লুটের চিহ্ন প্রাথমিকভাবে দেখা যায়নি, যা হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, নিহত আবুল কালাম আজাদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। তিনি আরও বলেন, কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা উদঘাটনে পুলিশ ইতিমধ্যেই জোরদার তদন্ত শুরু করেছে। বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা প্রাথমিকভাবে মনে করছেন, এটি ব্যক্তিগত শত্রুতা অথবা পূর্বপরিকল্পিত কোনো অপরাধের ফল হতে পারে। যেহেতু দোকান থেকে কোনো মূল্যবান সামগ্রী লুটের প্রাথমিক আলামত মেলেনি, তাই শুধুমাত্র ডাকাতির উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড নাও হতে পারে। তবে, পুলিশ সব সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই কাজ করছে। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ (যদি থাকে) এবং নিহতের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড পরীক্ষা করে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এছাড়াও, নিহতের পরিবার ও পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলে কোনো সম্ভাব্য বিরোধের সূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ভুষির মিল এলাকার ব্যবসায়ীরা আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং একই সাথে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, আবুল কালাম একজন শান্ত ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার সাথে কারো বড় ধরনের শত্রুতার খবর তাদের জানা ছিল না। এই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এলাকায় এক ধরনের ভীতি সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়রা দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত পরিচালনা করছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তারা বদ্ধপরিকর। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসার পর হত্যাকাণ্ডের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন এবং জড়িতদের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ