মঙ্গলবার, 25 আগস্ট 2026
⚠ ব্রেকিং
অপরাধ 🇧🇩 বাংলা

গাজীপুরে কৃষকদল নেতার কার্যালয়ে গুলি: আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে জজ মিয়া

গাজীপুরের শ্রীপুরে কৃষকদল নেতা জজ মিয়ার কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিনি আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শনিবার রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তাকে বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শেয়ার করুন:
গাজীপুরে কৃষকদল নেতার কার্যালয়ে গুলি: আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে জজ মিয়া

গাজীপুরের শ্রীপুরে কৃষকদল নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয় লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি ছুড়েছে। এই আকস্মিক হামলায় আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ওই কৃষকদল নেতা জজ মিয়া, যাকে তাৎক্ষণিকভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট, ২০২৬) রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে আরএকে সিরামিক কারখানার সামনে অবস্থিত তার কার্যালয়ে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

আক্রান্ত কৃষকদল নেতা জজ মিয়া উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের মৃত জনাব আলীর ছেলে। তিনি গাজীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কার্যালয়টি জনবহুল এলাকার পাশেই অবস্থিত হওয়ায় এই ধরনের হামলার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এই হামলার পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং পুলিশি তদন্তের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জজ মিয়া ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ একটি মোটরসাইকেলে তিনজন ব্যক্তি এসে তাকে লেজার লাইট দিয়ে লক্ষ্য করে। এরপর তাকে উদ্দেশ্য করে পরপর দুই থেকে তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ এবং অপ্রত্যাশিত এই হামলার মুখে তিনি প্রচণ্ড আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গেই অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। দুর্বৃত্তদের এমন দুঃসাহসিক কার্যকলাপ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম, শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলমসহ পুলিশের একাধিক টিম অবিলম্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা কার্যালয়ের ভেতরে গুলির চিহ্ন এবং আশেপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পুলিশের দ্রুত উপস্থিতি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং স্থানীয়দের আশ্বস্ত করতে সাহায্য করেছে, তবে হামলার কারণ উদ্ঘাটনই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, গুলি ছোড়ার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং কারা এই হামলার পেছনে জড়িত, কী তাদের উদ্দেশ্য ছিল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই ঘটনাকে হালকাভাবে না দেখে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে পুলিশ বদ্ধপরিকর।

এই হামলার ঘটনা গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় এক ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে একজন রাজনৈতিক নেতার কার্যালয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এমন ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, যা এলাকার সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছে। হামলাকারীদের মোটরসাইকেলের নম্বর এবং তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এই ধরনের হামলা কেবল ব্যক্তিবিশেষের ওপর আঘাত নয়, বরং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। পুলিশের জন্য এটি একটি কঠিন পরীক্ষা, যেখানে তাদের দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপ কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জজ মিয়া বর্তমানে আতঙ্কের কারণে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক ধকল কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। তার পরিবারের সদস্যরাও এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষ আশা করছেন, পুলিশ দ্রুত এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনবে এবং জজ মিয়া দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা গেলেই কেবল ভবিষ্যতে এমন অশুভ তৎপরতা রোধ করা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ