মঙ্গলবার, 25 আগস্ট 2026
⚠ ব্রেকিং
অপরাধ 🇧🇩 বাংলা
🌐 এই সংবাদটি English এও পাওয়া যাচ্ছে 🇬🇧 Read in English

মৃত ব্যক্তির নামে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন: গাইবান্ধায় কাজীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক মৃত ব্যক্তির নামে নতুন করে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালে মারা যাওয়া মতিয়ার রহমানের বিবাহ ২০২৬ সালে রেজিস্ট্রেশন করার অভিযোগ এনেছেন তার বাবা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

শেয়ার করুন:
মৃত ব্যক্তির নামে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন: গাইবান্ধায় কাজীর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২০২৪ সালে মৃত এক ব্যক্তির বিবাহ ২০২৬ সালে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের তীর স্থানীয় নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) আব্দুল হাইয়ের দিকে, যা বিবাহের নিকাহনামা ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর প্রশ্ন তৈরি করেছে। মৃত ব্যক্তির বাবা হোসেন আলী তার ছেলের পুরোনো বিবাহের নকল কপি চাইতে গিয়ে এমন নজিরবিহীন ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত মৃত্যুসনদ অনুযায়ী, মতিয়ার রহমান ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তার অকাল মৃত্যুর পর পরিবার শোকাহত ছিল এবং তার স্ত্রী শারমিন আক্তারও অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এমন পরিস্থিতিতে মতিয়ার রহমানের বিবাহ নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করার অভিযোগটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং কাজীর সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত মতিয়ার রহমানের সঙ্গে তারাপুর ইউনিয়নের লাটশালা গ্রামের নায়েব আলীর মেয়ে শারমিন আক্তারের পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। মতিয়ার রহমানের মৃত্যুর পর শারমিন আক্তার অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, যা সামাজিক প্রথা অনুযায়ী স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তবে, এই প্রেক্ষাপটে মৃত ব্যক্তির নামে নতুন করে বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের অভিযোগটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মতিয়ার রহমানের বাবা হোসেন আলী অভিযোগ করেছেন, তার ছেলের আগের বিবাহের নিকাহনামার নকল কপি প্রয়োজন হওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্ট কাজী আব্দুল হাইয়ের দ্বারস্থ হন। তার দাবি, পুরোনো রেজিস্ট্রেশনের নকল কপি দেওয়ার পরিবর্তে কাজী আব্দুল হাই মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট মৃত মতিয়ার রহমান এবং শারমিন আক্তারের বিবাহ নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং প্রতারণামূলক।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কাজীর এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি নাকি পুনরায় ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তারিখ উল্লেখ করে আরেকটি নকল কপি প্রদান করেন। একই বিবাহের ক্ষেত্রে দুই ভিন্ন তারিখে নিকাহনামা বা রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথি থাকার অভিযোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং কাজীর জালিয়াতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

হোসেন আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমার ছেলে তো ২০২৪ সালেই মারা গেছে। শারমিনের সঙ্গে তার বিয়ে পারিবারিকভাবেই হয়েছিল। আমি শুধু আগের বিয়ের কপি চেয়েছিলাম। কিন্তু কাজী টাকা নিয়ে ২০২৬ সালে নতুন করে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।' তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে কাজীর মূল রেজিস্টার, আগের বিবাহের তথ্য এবং ২০২৬ সালের ৮ আগস্টের রেজিস্ট্রেশন এন্ট্রি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল হাই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, 'নিহত মতিয়ার রহমানের বিবাহ ২০২৬ সালের ৮ আগস্ট নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি কোনো ব্যক্তির থেকে টাকা নিয়ে এ ধরনের কাজ করিনি। আমার রেজিস্টারে যে তথ্য রয়েছে, তা নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার ও নথিপত্র যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।' তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়।

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম এই প্রসঙ্গে বলেন, 'মতিয়ার ২০২৪ সালে মারা গিয়েছে এটা আমি জানি। পরিষদ থেকে পরিবারের লোকজন মৃত্যুর প্রত্যয়নপত্রও নিয়ে গেছে।' তার এই বক্তব্য অভিযোগের সত্যতাকে আরও জোরালো করে এবং কাজীর বিরুদ্ধে ওঠা জালিয়াতির অভিযোগকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বলেন, 'এমন কাজের কোনো সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থান ভুক্তভোগী পরিবারকে আশার আলো দেখাচ্ছে এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ