রবিবার, 20 সেপ্টেম্বর 2026
⚠ ব্রেকিং
প্রশাসন 🇧🇩 বাংলা

বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সিন্ডিকেট দমনের অঙ্গীকার: স্বচ্ছতা ও পরিবর্তনের বার্তা দিলেন মন্ত্রী আফরোজা খানম

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা জানিয়েছেন, তার মন্ত্রণালয়ে বিদ্যমান বিভিন্ন সিন্ডিকেট দূর করতে তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। মানিকগঞ্জে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে কাজ করে এই জটিল খাতকে লাভজনক ও বিশ্বমানের করে তোলার চেষ্টা চলছে। তিনি পরিবর্তনের সূচনা করতে চান।

শেয়ার করুন:
বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে সিন্ডিকেট দমনের অঙ্গীকার: স্বচ্ছতা ও পরিবর্তনের বার্তা দিলেন মন্ত্রী আফরোজা খানম

মানিকগঞ্জ, ১৫ আগস্ট ২০২৬: বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে জেঁকে বসা বিভিন্ন সিন্ডিকেট দূর করতে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। গতকাল শুক্রবার মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গিলন্ড এলাকার মুন্নু ক্যাফেটেরিয়া মিলনায়তনে জেলা চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টদের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। মন্ত্রী জানান, তার মন্ত্রণালয়কে তিনি অত্যন্ত কঠিন ও জটিল হিসেবে দেখছেন, যেখানে বিভিন্ন খাতে শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে এসব দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসনের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতায় গতি আনতে সচেষ্ট রয়েছেন।

মন্ত্রী আফরোজা খানম তার বক্তব্যে বলেন, যখন তিনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন প্রতিটি সেক্টরেই তিনি অপার সম্ভাবনা দেখতে পান। তার মতে, এটি কোনো লোকসানের প্রকল্প নয়, বরং সঠিক ব্যবস্থাপনা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে এটি দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখতে সক্ষম। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যদি সততার সঙ্গে কাজ করা যায়, তাহলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স শুধু দেশেই নয়, বিশ্ব দরবারেও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে। তার সকল প্রচেষ্টা এই লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন, যা দেশের বিমান ও পর্যটন খাতের সার্বিক উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দেয়।

বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ে সিন্ডিকেটের উপস্থিতি কেবল প্রশাসনিক জটিলতাই বাড়ায় না, বরং সেবার মান হ্রাস করে, দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে এবং দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে। এই সিন্ডিকেটগুলো প্রায়শই ঠিকাদারি, নিয়োগ, টিকিট বিক্রি, রুট বরাদ্দ এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। মন্ত্রীর এই অকপট স্বীকারোক্তি এবং সিন্ডিকেট দমনের অঙ্গীকার সরকারের সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিরই অংশ। এর মাধ্যমে তিনি মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বার্তা দিয়েছেন, যা এই খাতের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা দূর করতে সহায়ক হতে পারে।

আফরোজা খানম রিতা তার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে বলেন, তিনি চিরকাল মন্ত্রণালয়ে থাকবেন না, তবে তিনি এমন একটি পরিবর্তন আনতে চান, যাতে ভবিষ্যতে মানুষ বলতে পারে— 'আপা এসেছিলেন, আপা পরিবর্তনের সূচনা করে দিয়েছেন।' এই কথাটি শুনতে পারলেই তিনি নিজেকে ধন্য মনে করবেন। তার এই মন্তব্য কেবল তার ব্যক্তিগত অঙ্গীকারই প্রকাশ করে না, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়, যার লক্ষ্য হলো এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটিকে একটি নতুন ও উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। এটি নেতৃত্বের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।

অনুষ্ঠানে আগত অতিথিরা, বিশেষ করে চার্টার্ড ও কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টগণ, বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে এবং সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে এই মন্ত্রণালয়ের অবদান অপরিসীম। বক্তারা মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে একজন গতিশীল নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তিনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পর্যটনশিল্পকে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন। তাদের এই সমর্থন মন্ত্রীর সংস্কারমূলক পদক্ষেপের প্রতি পেশাদার সমাজের আস্থাকে প্রতিফলিত করে।

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থান এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি পর্যটন শিল্পের বিকাশে অপার সম্ভাবনা বহন করে। সুন্দরবন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, পার্বত্য চট্টগ্রাম, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হওয়ার সব উপকরণ ধারণ করে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবার ব্যবস্থা করা। মন্ত্রীর নেতৃত্বে এই মন্ত্রণালয় যদি সিন্ডিকেটমুক্ত হয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে পারে, তবে তা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাভানা লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জাহিদুল হক, জি. নবী অ্যান্ড কোম্পানির চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট মো. গোলাম নবী, এফ সি এ এখলাস উদ্দিন, এফ সি এ ওবায়দুল ইসলাম খান, এফ সি এ মো. কামরুজ্জামান এবং এস এফ আইএল সিকিউরিটিজ লিমিটেডের প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মতিউর রহমান, এফ সি এম এ জসীম উদ্দিন সহ আরও অনেকে। তাদের উপস্থিতিতে মন্ত্রীর এই ঘোষণা বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের ভবিষ্যতের জন্য এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এই অঙ্গীকার কার্যকর হলে বাংলাদেশ কেবল একটি সুন্দর পর্যটন গন্তব্য হিসেবেই নয়, বরং একটি সুশাসিত ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবেও বিশ্ব দরবারে পরিচিতি লাভ করবে।

শেয়ার করুন:
সম্পর্কিত সংবাদ